কোভিড টিকাদান সর্বশেষ পরিস্থিতি: বিশ্বের কোন্ দেশে কী অবস্থা? আপনার দেশ কোথায়?

ভ্যাকসিন বিতরণের প্রশ্নে সব দেশে বহু মানুষের মুখেই যে প্রশ্নটা শোনা যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি, তা হল - আমার টিকা কখন হবে?
হাতে গোনা কয়েকটি দেশ টিকা দেবার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে, কিন্তু বিশ্বের বাদবাকি দেশগুলোতে চিত্রটা তেমন স্পষ্ট নয়।
এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জটিল সব বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া, নানা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, সরকারগুলোর বিভিন্ন পরস্পরবিরোধী প্রতিশ্রুতি, বিশাল আমলাতান্ত্রিক বেড়াজাল আর বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ নীতি। ফলে কাজটা সহজ নয়।
আমি কখন টিকা পাব?
ঢাকায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তাকে ২৭শে জানুয়ারি এক ডোজ ভ্যাকসিন দেয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে শুরু হয় করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকা দেয়ার কর্মসূচি। প্রথম দিনে পরীক্ষামূলকভাবে মোট ২৬ জনকে টিকা দেয়া হয়।
এরপর সাতই ফেব্রুয়ারি গণভাবে সারা দেশে মানুষকে টিকা দেবার কর্মসূচি শুরু করা হয়। বাংলাদেশে মানুষকে দেয়া হচ্ছে অক্সফোর্ড- অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড টিকা।
কোভিশিল্ড বাংলাদেশে দেয়ার জন্য ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউটের সঙ্গে বেক্সিমকোর মাধ্যমে চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ সরকার। ছয়মাসের মধ্যে তিন কোটি টিকা আনার চুক্তি হয়েছিল।
গত জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ভারত থেকে দুই চালানে ৭০ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশ পেয়েছে। এছাড়া ভারত সরকারের উপহার হিসাবে দিয়েছিল ৩২ লাখ ডোজ।
সিরাম ইন্সটিটিউটের সাথে চুক্তি অনুযায়ী প্রতিমাসে ৫০ লাখ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা বাংলাদেশে আসার কথা থাকলেও গত দুই মাসে কোন চালান আসেনি।
সম্প্রতি ভারতে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় অদূর ভবিষ্যতে দেশটি থেকে টিকা আসার সম্ভাবনাও নাকচ করে দেয়া হয়েছে।
যে কারণে বাংলাদেশে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে প্রায় ১৩ লাখ ডোজ টিকার ঘাটতি রয়েছে বলে বিবিসি বাংলাকে বলেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মোঃ খুরশিদ।
সরকার প্রথম ডোজের টিকা দেয়া এবং নিবন্ধন কার্যক্রমও স্থগিত করে দিয়েছে। এখন শুধুমাত্র দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেয়া হচ্ছে।
তবে চীন থেকে উপহার হিসাবে পাঠানো পাঁচ লাখ ডোজ করোনাভাইরাসের সিনোফার্ম টিকা ঢাকায় পৌঁছেছে ১২ই মে।
বাংলাদেশে টিকা নেয়ার জন্য ১২ই মে পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ৭২ লাখ ৪৮ হাজার ৮২৯ জন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন জানিয়েছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এক থেকে দুই কোটি ডোজ করোনাভাইরাসের টিকা চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দেশের চলমান টিকা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্তত ৪০ লাখ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা চাওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে টিকা আনার ব্যাপারেও চেষ্টা চালাচ্ছে। এছাড়া, একটি একটি বেসরকারি কোম্পানি মডার্নার ভ্যাকসিন আমদানি করার জন্য আবেদন করেছে।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে টিকাদান কর্মসূচি কীভাবে এগোচ্ছে দেখতে নিচে ক্লিক করুন:
এ পর্যন্ত কত টিকা দেয়া হয়েছে?
এখন পর্যন্ত পৃথিবীর ১০০টিরও বেশি দেশে করোনাভাইরাসের বিভিন্ন ধরনের টিকা দেয়া হয়েছে ৩০ কোটির বেশি। এটা ইতিহাসে বৃহত্তম পর্যায়ের টিকাদান কর্মসূচি।
চীনের উহানে নভেল করোনাভাইরাসের প্রথম কেসগুলো শনাক্ত হবার এক বছরেরও কম সময় পর থেকে প্রথম টিকা দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টিকাদান কর্মসূচি এগোচ্ছে অসমভাবে।
কোন কোন দেশ যথেষ্ট টিকা সংগ্রহ করতে পেরেছে এবং তাদের জনগোষ্ঠীর বিশাল সংখ্যক মানুষকে টিকা দিতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু আরও বহু দেশ এখনও তাদের টিকার প্রথম চালানের অপেক্ষায় রয়েছে।
বেশিরভাগ দেশ তাদের প্রথম দফা টিকাদান কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে:
- ষাটোর্ধ্ব জনগোষ্ঠীকে
- স্বাস্থ্য কর্মীদের
- যাদের মেডিকেল কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছেন
এবং ইসরায়েল ও ব্রিটেনের মত দেশগুলোতে দেখা যাচ্ছে ব্যাপক হারে টিকাদানের ফলে করোনা আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তি, মৃত্যু এবং গোষ্ঠীগত পর্যায়ে সংক্রমণ কমার ইতিবাচক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
তবে আমেরিকা এবং ইউরোপপের প্রায় সব দেশ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে পারলেও আফ্রিকার মাত্র হাতে গোণা কয়েকটি দেশ তাদের টিকা কার্যক্রম শুরু করতে পেরেছে।



ছবির উৎস, Rex Features
ইকোনমিস্ট ইন্টালিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)-এর বৈশ্বিক পূর্বাভাস বিভাগের পরিচালক আগাথ দ্যেমারে এ বিষয়ে সবচেয়ে ব্যাপকভিত্তিক কিছু গবেষণার কাজ করেছেন।
এই টিকা সব মানুষের বাহুতে পৌঁছে দেবার জন্য বিশ্ব সর্বমোট কত পরিমাণ টিকা উৎপাদন করতে সক্ষম এবং পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যসেবা দেবার অবকাঠামো কীধরনের সে নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে ইআইইউ। পাশাপাশি এই গবেষণায় তারা আমলে নিয়েছে কোন্ দেশের জনসংখ্যা কত এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আর্থিক সামর্থ্য কতটা।
তাদের গবেষণার ফলাফলে স্বাভাবিকভাবেই যে চিত্রটা বেরিয়ে এসেছে সেটা হল ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর সক্ষমতায় বৈষম্য। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ টিকার সরবরাহ রয়েছে আমেরিকা আর ব্রিটেনের কাছে। কারণ ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের কাজে তারা সবচেয়ে বেশি অর্থ বিনিয়োগ করতে পেরেছে, ফলে ভ্যাকসিন প্রাপকদের তালিকায় তারা শীর্ষে জায়গা করে নিতে পেরেছে।
তাদের অল্প পেছনে রয়েছে অন্য কিছু ধনী দেশ যেমন ক্যানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন জোটের দেশগুলো।
অনেক স্বল্প আয়ের দেশ টিকাদান কার্যক্রম এখনও শুরুই করতে পারেনি।
ধনী দেশগুলো কি ভ্যাক্সিন মজুত করে রাখছে?
কানাডার সব মানুষকে টিকা দেবার জন্য যত ভ্যাকসিন প্রয়োজন দেশটি তার তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি টিকা কেনায় গত বছরের শেষ দিকে সমালোচনার মুখে পড়ে কানাডা। তবে যেটা দেখা যায় যে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে টিকা পাবার তালিকায় তারা নাম লেখায়নি।
এর কারণ হল, কানাডার একটা উদ্বেগ ছিল যে ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার ক্ষমতায় থাকলে আমেরিকা রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা বসাবে আর সেই উদ্বেগ থেকে কানাডা ইউরোপের ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক কারখানাগুলোয় অর্থ লগ্নীর সিদ্ধান্ত নেয়। তবে তাদের সেই সিদ্ধান্ত সুবিবেচনার হয়নি।
ইউরোপের কারখানাগুলো এখন টিকা সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে, এবং সম্প্রতি দেখা গেছে, আমেরিকা নয় বরং ইইউ-ই রফতানির ওপর এখন নিষেধাজ্ঞা জারির হুমকি দিয়েছে এবং সেই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নও করেছে। ইতালি অস্ট্রেলিয়ায় কিছু ভ্যাকসিনের রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে।

তবে কিছু কিছু দেশ, যা আশা করা হয়েছিল, তার থেকে অনেক ভাল করছে।
জনগোষ্ঠীর যত মানুষকে ইতোমধ্যেই টিকা দেয়া হয়েছে তার আনুপাতিক হিসাবে ইইউ-র দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভাল করেছে সার্বিয়া।
তাদের সাফল্যের কারণ আংশিকভাবে টিকাদান কর্মসূচি কার্যকরভাবে সাথে শুরু করা। এছাড়া ভ্যাকসিন কূটিনীতি থেকেও তারা লাভবান হয়েছে। কারণ পূর্ব ইউরোপে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় প্রতিযোগিতায় নেমেছে রাশিয়া আর চীন।
সার্বিয়া পেয়েছে রাশিয়ার স্পুটনিক ভি টিকা, চীনের সিনোফার্ম, আমেরিকা/জার্মানির ফাইজার এবং যুক্তরাজ্যে উদ্ভাবিত অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন।
এ পর্যন্ত সার্বিয়ার বেশিরভাগ মানুষকে দেয়া হয়েছে সিনোফার্মের ভ্যাকসিন।

ভ্যাকসিন কূটনীতি কী?
চীন চাইছে সার্বিয়ার বাজারে তাদের প্রভাব দীর্ঘ মেয়াদী হোক।
যেসব দেশ সিনোফার্মের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ টিকা জনগণকে দেবে, তারা ভবিষ্যতে বুস্টার ডোজ দিতে চাইলে সেজন্যও তাদের চীনেরই মুখাপেক্ষী হতে হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতও সিনোফার্ম টিকার ওপর নির্ভরশীল। দেশটিতে যে টিকাদান প্রক্রিয়া চলছে তাতে ফেব্রুয়ারি মাসে ৮০% ডোজই দেয়া হয়েছে সিনোফার্মের টিকা। আমিরাত স্থানীয়ভাবে সিনোফার্ম টিকা উৎপাদনের জন্য ওষুধ কারখানাও গড়ে তুলছে।
"চীন সেখানে উৎপাদন স্থাপনা তৈরি করছে এবং প্রশিক্ষিত কর্মী দেবার কথা বলছে। কাজেই চীন সেখানে দীর্ঘ মেয়াদে একটা প্রভাব রাখছে," বলছেন আগাথ দ্যেমারে। "ফলে ভবিষ্যতে কোন কিছুর ব্যাপারে চীনকে না করা গ্রহীতা দেশগুলোর সরকারের জন্য খুবই জটিল হয়ে দাঁড়াবে।"
তবে বিশ্বের মহা শক্তিধর একটা দেশ হবার অর্থ এই নয় যে আপনার দেশের জনগোষ্ঠী সবার আগে টিকা পাবে।
ইআইইউ-র গবেষণায় আভাস দেয়া হয়েছে যে, বিশ্বে টিকা উৎপাদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিধর দুটি দেশ চীন এবং ভারত ২০২২ সাল শেষের আগে যথেষ্ট সংখ্যায় তাদের জনগোষ্ঠীকে টিকা দিয়ে উঠতে পারবে না। কারণ দুই দেশের জনসংখ্যা বিশাল। ফলে দেশ দুটিকে একদিকে এত মানুষকে টিকা দেবার বিষয়টি এবং অন্যদিকে স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি মোকাবেলা করতে হবে।

ছবির উৎস, Getty Images
চ্যালেঞ্জগুলো কী?
ভারতের কোভিড টিকা উৎপাদনের সাফল্যের পেছনে কৃতিত্বের দাবিদার মূলত একজন ব্যক্তি, আদার পুনাওয়ালা। তার সংস্থা সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া পৃথিবীর সর্ববৃহৎ টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।
গত বছরের মাঝামাঝি সময় তার পরিবারের সদস্যরা ভাবতে শুরু করেন মি. পুনাওয়ালার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। কোভিড-১৯এর টিকা কার্যকর হবে কিনা তা জানার আগেই তিনি নিজের কোটি কোটি ডলার অর্থ ব্যয় করে এই টিকা উৎপাদনের ব্যাপারে একটা ফাটকা খেলেন।
জানুয়ারি মাসে কোভিডের প্রথম টিকা, যেটি উদ্ভাবন করছিল অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা, সেটি উৎপাদনের দায়িত্ব দেয়া হয় ভারত সরকারকে। এখন মি. পুনাওয়ালা তার সংস্থায় প্রতিদিন ২৪ লক্ষ ডোজ টিকা তৈরি করছেন।
"আমি ভেবেছিলাম এই চাপ এবং যে মাথা খারাপ করে দেবার মত অবস্থা, আমরা টিকা তৈরি করার পর তার অবসান ঘটবে," তিনি বলেন। "কিন্তু আসল চ্যালেঞ্জটা হল সবাইকে খুশি রাখতে পারা।"
তিনি বলছেন, টিকার উৎপাদন তো রাতারাতি বাড়িয়ে ফেলা সম্ভব নয়।
"এর জন্য সময়ের দরকার," মি. পুনাওয়ালা বলেন। "মানুষ মনে করছে যে সিরাম ইনস্টিটিউট ম্যাজিক দেখাতে পারে। হ্যাঁ, আমরা যে কাজ করি তাতে আমরা দক্ষ ঠিকই, কিন্তু আমাদের হাতে তো যাদুর কাঠি নেই।"
তবে অন্যদের তুলনায় তিনি এখন সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। কারণ গত বছর মার্চ মাসে তিনি নতুন কারখানা ভবন তৈরি করেন এবং অগাস্ট মাসে সেখানে রাসায়নিক ও টিকা রাখার জন্য কাঁচের ভায়াল মজুত শুরু করেন।

ছবির উৎস, Reuters
টিকা উৎপাদন প্রক্রিয়ার সময় তৈরি টিকার পরিমাণে অনেকটাই হেরফের হতে পারে এবং প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক কিছুই গোলমাল হতে পারে।
"এটা একদিকে যেমন বিজ্ঞান, অন্যদিকে তেমনি একটা শিল্প," বলেন মিজ আগাথ দ্যেমারে।
যেসব টিকা প্রস্তুতকারক এখন উৎপাদন শুরু করছেন, তাদের ভ্যাকসিন তৈরি করে উঠতে বেশ কিছু মাস সময় লাগবে। এবং ভাইরাসের নতুন ধরনগুলো মোকাবেলা করতে যদি বুস্টার ডোজের প্রয়োজন হয়, সেটার ক্ষেত্রেও একই সমস্যা হবে।
কোভ্যাক্স কি টিকার বিলি ব্যবস্থা তরান্বিত করতে পারবে?
মি. পুনাওয়ালা বলছেন, তিনি প্রথমে ভারতের জনগণের জন্য টিকা সরবরাহ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এবং এরপর তার তালিকায় রয়েছে আফ্রিকা। সেখানে কোভ্যাক্স নামে এক প্রকল্পের মাধ্যমে টিকা সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তার সংস্থা।
বহু দরিদ্র দেশ টিকা পাবার জন্য কোভ্যাক্স প্রকল্পের ওপর নির্ভর করছে। এটি একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ যারা করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন বিশ্বের সবগুলো যাতে পায় তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
এই কোভ্যাক্স প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তাদের সাথে আরও আছে ভ্যাকসিন বিষয়ে বৈশ্বিক জোট গ্যাভি এবং মহামারির প্রস্তুতিতে উদ্ভাবনী কার্যক্রম বিষয়ক জোট কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনিশিয়েটিভ বা সেপি।
কোভ্যাক্স তাদের কার্যক্রমের আওতাধীন দেশগুলোতে জনসংখ্যার ২০%ক টিকা দেয়ার মত পর্যাপ্ত ডোজ পৌঁছে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রথম ভ্যাকসিন পায় পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গানা ২৪শে ফেব্রুয়ারি তারিখে।
কোভ্যাক্সের পরিকল্পনা এবছরের শেষ নাগাদ পৃথিবীর দেশগুলোকে ২০০কোটি ডোজ টিকা পৌঁছে দেয়া।
তবে ইতোমধ্যেই, বহু দেশ নিজস্ব উদ্যোগে আলাদা ভাবে টিকা নিয়ে দেন-দরবার চালানোর ফলে কোভ্যাক্সের পরিকল্পনা একটা ধাক্কা খেয়েছে।
আদার পুনাওয়ালা বলেন, আফ্রিকার প্রায় প্রত্যেকটি দেশের নেতা স্বাধীনভাবে নিজেরা টিকা পাবার জন্য তার সাথে যোগাযোগ করেছেন।

ছবির উৎস, EPA
তবে কোভ্যাক্স আদৌ তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে বলে আগাথ দ্যেমারে এবং ইকোনমিস্ট ইন্টালিজেন্স ইউনিট খুব আশাবাদী নন। সব কিছু পরিকল্পনা মাফিক এগোলেও কোভ্যাক্সের লক্ষ্য হল একটি দেশের জনসংখ্যার মাত্র ২০ থেকে ২৭%কে এ বছর টিকার আওতায় আনা।
"তাদের উদ্যোগ পরিস্থিতি অল্পই বদলাতে পারবে, তারা অবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে পারবে না," বলছেন আগাথ দ্যেমারে।
ইকোনমিস্ট ইন্টালিজেন্স ইউনিট-এর পক্ষে দেয়া তার পূর্বাভাসে মিজ দ্যেমারে বলেছেন, কোন কোন দেশ সব মানুষকে ২০২৩ সালের মধ্যে তো পুরোপুরি টিকা দিয়ে উঠতে পারবেই না- হয়ত কখনই পারবে না। তাছাড়া, সমস্ত জনগোষ্ঠীকে টিকা দেয়া সব দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নাও হতে পারে, বিশেষ করে যেসব দেশে জনসংখ্যার একটা বড় অংশ তরুণ এবং যেখানে খুব বেশি সংখ্যায় মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে না।
অবশ্য এধরনের পরিস্থিতিতে ঝুঁকির অন্য একটা দিক রয়েছে। সেটা হল ভাইরাস যদি ছড়ানোর সুযোগ পায়, তাহলে তা চরিত্র পরিবর্তন করবে এবং মানুষের মাধ্যমে অন্য দেশে গিয়ে পৌঁছবে। ভ্যাকসিন প্রতিরোধ করার ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট তৈরি হওয়া অব্যাহত থাকবে।
তবে, সবকিছুই কিন্তু নেতিবাচক নয়। টিকা তৈরি হচ্ছে আগের যে কোন সময়ের তুলনায় দ্রুত। কিন্তু তারপরেও পৃথিবীর ৭৭০ কোটি মানুষকে প্রতিরোধী টিকা দেয়া বিশাল একটা চ্যালেঞ্জ। এতবড় চ্যালেঞ্জ অতীতে কখনও আসেনি।
আগাথ দ্যেমারে মনে করেন সরকারগুলোকে তাদের জনগণের কাছে স্বচ্ছ হতে হবে। বাস্তবে কী সম্ভব সে বিষয়ে মানুষকে সত্য কথা জানাতে হবে: "যে কোন সরকারের পক্ষেই এটা বলা খুবই কঠিন হবে যে, 'না - ব্যাপক পরিসরে মানুষকে টিকা দেবার লক্ষ্য অর্জন করতে আমাদের আরও বেশ কয়েক বছর সময় লাগবে।' কোন সরকারই একথা বলতে চাইবে না।"
তথ্য সাংবাদিকতার কাজ করেছেন বেকি ডেল এবং নাসোস স্টাইলিয়ানু।
তথ্য বিবরণ
আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডেটা অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং একটি শিক্ষা বিষয়ক দাতব্য সংস্থার সহযোগিতার ভিত্তিতে উপরের ম্যাপ ও টেবিলে দেয়া তথ্য সঙ্কলন করেছে।
জনসংখ্যার পরিসংখ্যানের সূত্র হল জাতি সংঘের ২০২০-এর মাাঝামাঝি নাগাদ সংগৃহীত।









