জাগৃতি প্রকাশনীর ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যার ছয় বছর পর আটজনের মৃত্যুদণ্ড

ছবির উৎস, NurPhoto/Getty
জাগৃতি প্রকাশনীর সত্ত্বাধিকারী ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আটজন আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয়া হয়েছে।
এরা সবাই জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য বলে জানানো হয়। এদের মধ্যে সেনাবাহিনীর বরখাস্তকৃত মেজর জিয়াউল হক জিয়াও রয়েছে।
২০১৫ সালে শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে ফয়সাল আরেফিন দীপন খুন হওয়ার পর হত্যার দায় শিকার করে বিবৃতি দিয়েছিল আনসার আল ইসলাম নামের এই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন।
ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেয়।
মামলায় অভিযুক্ত ৮ আসামির মধ্যে দুই জন পলাতক রয়েছেন। বাকিরা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। রায়ের আগে তাদেরকে আদালতে হাজির করা হয়।
নিহত দীপনের স্ত্রী রাজিয়া রহমান এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সেই সাথে এই রায় দ্রততম সময়ে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আদালতের পর্যবেক্ষণ:
আদালত তার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, জিহাদের অংশ হিসেবে নিষিদ্ধ সংগঠন আনসার আল ইসলাম বা আনসার উল্লা বাংলা টিমের সদস্যদের যারা এই মামলার আসামী তাদের লক্ষ্য ছিল, ব্লগার, লেখক ও প্রকাশকদের হত্যা করে মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেয়া।
এছাড়া মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে বিঘ্নিত করাও লক্ষ্য ছিল বলে আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন।
আসামীপক্ষের প্রতিক্রিয়া:
এই রায়ে সংক্ষুব্ধ করার কথা জানিয়েছেন আসামীপক্ষের আইনজীবী।
আইনজীবী এম এ বি এম খায়রুল ইসলাম বলেন, আসামিরা ন্যায়বিচার পায়নি, তাই রায়ের বিপক্ষে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তারা।
এ মামলায় আগামী সাত দিনের মধ্যে আপিলের আবেদন করতে হবে।
২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে খুন হন ফয়সাল আরেফিন দীপন। একই বছর ফেব্রুয়ারিতে একই ধরণের আরেকটি হামলায় নিহত লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়ের কয়েকটি বইয়ের তিনি প্রকাশক ছিলেন।
আনসার আর ইসলাম বাংলাদেশ নামে কট্টর ইসলামপন্থী একটি সংগঠন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে।
ফয়সল আরেফিন দীপন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের ছেলে।
মি. আরেফিনকে হত্যার পরই তার স্ত্রী রাজিয়া রহমান শাহবাগ থানায় মামলা করেন। ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ-ডিবি। ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।
২০১৯ সালে এই মামলার বিচার শুরুর এক বছর তিন মাসের মাথায় এটি রায়ের পর্যায়ে এসেছে।
এদিকে মি. আরেফিনকে হত্যার দিনেই ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর লালমাটিয়ায় আরেক প্রকাশনা সংস্থা শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে ঢুকে এর কর্ণধার আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুলসহ তিন জনকে একই কায়দায় কুপিয়ে আহত করা হয়েছিল। তবে তারা কেউই মারা যাননি।
জাগৃতি ও শুদ্ধস্বর-দুই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকেই লেখক অভিজিৎ রায়ের বই প্রকাশিত হয়। দুটি ঘটনাতেই জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের নাম আসে।








