উত্তরাখণ্ড হিমবাহ ধস: তুষারধস এবং বিপুল বন্যার সম্ভাব্য যত কারণ

    • Author, নাভিন সিং খাড়কা
    • Role, পরিবেশ সংবাদদাতা, বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস

যে এলাকায় বন্যার ঘটনা ঘটেছে তার দুর্গমতার কারণেই এখনো পর্যন্ত কারো কাছে সুনির্দিষ্ট কোন জবাব নেই যে এটি কেন ঘটেছিল।

হিমবাহ বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয়ের শুধু এই এলাকাটিতেই হাজারখানেক হিমবাহ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় কারণটি হতে পারে, তাপমাত্রা বাড়ার কারণে বিশালাকার বরফ খণ্ড ভেঙ্গে পড়েছে এবং এটি বিস্ফোরিত হয়ে বিপুল পরিমাণে পানি এসে নদীতে পড়েছে।

একই কারণে তৈরি হয়েছে তুষারধস, যা বয়ে এনেছে বিপুল পরিমাণে কাদা ও মাটি।

দেরাদুনের ওয়াদিয়া ইনস্টিটিউট অব হিমালয়্যান জিওলজির অবসরপ্রাপ্ত হিমবাহবিদ ডিপি ধোবাল বলেন, "আমরা এগুলোকে বলি মৃত বরফ। কারণ হিমবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এই বরফ সাধারণত পাথর ও মাটির চূর্ণ দিয়ে আবৃত থাকে।"

"এমনটা হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে কারণ তুষার ধসের সাথে বিস্তর পলিমাটিও নেমে এসেছে।"

কোন কোন বিশেষজ্ঞ বলছেন যে, কোন তুষার ধসের হয়তো আঘাত করেছে কোন হ্রদে। আর এই আঘাতে হ্রদ বিস্ফোরিত হয়ে বিপুল জলরাশি আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে বন্যার সৃষ্টি করেছে।

কিন্তু অন্যরা বলছেন, ওই এলাকায় এমন জলাশয় থাকার কোন তথ্য নেই।

"কিন্তু আজকাল কত দ্রুত হিমবাহের হ্রদ তৈরি হচ্ছে সেটা জানাটা খুব মুশকিল," বলেন ডা. ধোবাল।

আরো পড়ুন:

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয়ের হিন্দুকুশ এলাকায় হিমবাহ ব্যাপকভাবে গলতে শুরু করেছে এবং হিমবাহের হৃদগুলো আশঙ্কাজনক হারে বিস্তৃত হচ্ছে। অনেক নতুন হ্রদও তৈরি হচ্ছে।

যখন এগুলোতে পানির উচ্চতা বিপদসীমায় পৌঁছায় তখন তা মানব বসতিসহ সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে নিচের দিকে বয়ে যায়।

এ ধরণের কিছু ঘটনা এর আগেও ওই এলাকাতে ঘটতে দেখা গেছে।

আরেকটি কারণ হতে পারে যে, তুষার ধস কিংবা ভূমিধসের কারণে নদীর মধ্যে হয়তো বাঁধ সৃষ্টি করেছে যার কারণে কিছু সময় পর পানির উচ্চতা বেড়ে তা হঠাৎ করেই বাঁধ ভেঙ্গে বেরিয়ে এসেছে।

হিমালয় এলাকায় ভূমিধসের কারণে নদীতে বাধার সৃষ্টি করায় সেখানে সাময়িক হ্রদ তৈরি হয়। পরে সেগুলো হঠাৎ করে ভেঙ্গে গিয়ে মানব বসতি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেমন সেতু কিংবা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

২০১৩ সালে যখন উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ এবং আরো কয়েকটি স্থান ব্যাপক বন্যার কবলে পড়ে তখন বেশ কিছু তত্ত্ব সামনে এসেছিল।

ড. ধোবাল বলেন, "বেশ কিছু সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর আমরা নিশ্চিত করতে পেরেছিলাম যে বন্যার কারণ ছিল আসলে ছোরাবারি হিমবাহ হ্রদ থেকে হঠাৎ করে পানি বেরিয়ে আসা।"

উত্তরাখণ্ডের কর্মকর্তারা বলেছেন যে, ধাওলিগঙ্গা নদীতে বন্যার পেছনের কারণ জানতে বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে।