রামমন্দিরের জন্য চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রদেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা

রাম মন্দিরের ভূমিপূজা উপলক্ষে ভক্তদের মিষ্টি বিতরণ। ফাইল ছবি

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, রাম মন্দিরের ভূমিপূজা উপলক্ষে ভক্তদের মিষ্টি বিতরণ। ফাইল ছবি
    • Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
    • Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি

ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় আযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের জন্য চাঁদা সংগ্রহকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা মাথাচাড়া দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।

ইন্দোর, মান্দসৌর, উজ্জয়িনী-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মুসলিম সমাজের নেতারা অভিযোগ করছেন, রামমন্দিরের চাঁদা তোলার মিছিল ইচ্ছে করে তাদের মহল্লা দিয়ে নিয়ে গিয়ে হিংসায় প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছে এবং মসজিদেও ভাঙচুর চালানোর চেষ্টা হচ্ছে।

রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধেও এই সব ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাত দেখানোর অভিযোগ উঠেছে, তবে পুলিশ কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্যের বিজেপি সরকার তা জোরালোভাবে অস্বীকার করছে।

বস্তুত সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের পথ প্রশস্ত হওয়ার পর গত আগস্টেই সেই মন্দিরের ভূমিপূজা সম্পন্ন হয়েছে, এখন চলছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সেই মন্দির নির্মাণের জন্য অর্থসংগ্রহের কাজ।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতো বিভিন্ন সংগঠন বাইক মিছিলের আয়োজন করে মন্দিরের জন্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলতেও শুরু করেছে।

মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের নেতা আরিফ মাসুদ পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাত দেখানোর অভিযোগ এনেছেন

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের নেতা আরিফ মাসুদ পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাত দেখানোর অভিযোগ এনেছেন

মধ্যপ্রদেশের বেশ কয়েকটি জেলায় এই সব মিছিল যখন মুসলিম মহল্লা দিয়ে যাচ্ছিল তখন এলাকাবাসী মিছিল লক্ষ্য করে পাথর বা ইট-পাটকেল ছুঁড়েছে বলে হিন্দুত্ববাদীরা অভিযোগ করছেন।

মুসলিম সমাজের নেতারা পাল্টা বলছেন, মিছিল থেকেই হিংসায় প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছে, এমন কী মসজিদের মাথায় উঠে মিনার ভাঙার চেষ্টা পর্যন্ত হয়েছে।

গত ২৯ ডিসেম্বর এই ধরনেরই তীব্র সাম্প্রদায়িক সংঘাতের সাক্ষী ছিল ইন্দোরের কাছে চন্দন খেড়ি গ্রাম।

ওই গ্রামের সরপঞ্চ বা মোড়ল দিলনওয়াজ প্যাটেল বলছিলেন, "রামমন্দিরের নামে চাঁদা তোলার মিছিল বের করে আসলে গোটা রাজ্যেই সাম্প্রদায়িক পরিবেশকে বিষিয়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। এই সব মিছিলের উদ্দেশ্যই হল মুসলিমদের ভয় দেখানো।"

"বিভিন্ন মুসলিম পরিবারের ওপর হামলা হয়েছে, অথচ পুলিশ এই সব ঘটনায় শুধু মুসলিমদেরই আটক করছে - হিন্দুদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে না।"

আরও পড়তে পারেন :

অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভূমিপূজায় যোগী আদিত্যনাথ। ৫ আগস্ট, ২০২০

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভূমিপূজায় যোগী আদিত্যনাথ। ৫ আগস্ট, ২০২০

"প্রত্যক্ষদর্শীদের তোলা ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা গেছে মসজিদের মাথায় চড়ে মিনার ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে, অথচ তাদের বিরুদ্ধে কিছুই করা হচ্ছে না।"

একই সময়ে অবিকল প্রায় একই ধরনের ঘটনা ঘটার অভিযোগ এসেছে মান্দসৌর বা উজ্জয়িনী জেলা থেকেও।

মালওয়া অঞ্চলে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা সোহন বিশ্বকর্মা অবশ্য দাবি করছেন, মুসলিমরা বাড়ির ছাদে আগে থেকেই পাথর জড়ো করে রেখে তাদের বিভিন্ন মিছিলে হামলা চালিয়েছে, আর সেই আক্রমণ ছিল পূর্ব-পরিকল্পিত।

হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেই পুলিশের কাছে এই সব ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে - এবং জাতীয় টিভি চ্যানেল এনডিটিভি দাবি করেছে, উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে যাদের আটক করা হয়েছে তারা সবাই মুসলিম।

ইন্দোর জোনে পুলিশের আইজি যোগেশ দেশমুখ অবশ্য কোনও বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাত দেখানোর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।

Skip X post
X কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

End of X post

পুলিশের কাছে ধরনা দিতে আসা মুসলিম নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "নিজেদের সম্প্রদায়ের লোকজনকে ও অন্য সম্প্রদায়ে আপনাদের বন্ধুদের কাছে গিয়েও বলুন পুলিশ বিন্দুমাত্র পক্ষপাত দেখাবে না।"

"দোষীরা সবাই গ্রেপ্তার হবে। আমাদের চোখে সবাই সমান এবং এটাও মনে রাখতে হবে সম্প্রীতি বজায় রাখার দায়িত্বও সব ধর্মের লোকেদের, সব নাগরিকের।"

কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং, দলের এমএলএ আরিফ মাসুদরা অবশ্য অভিযোগ করছেন, বিজেপির নেতা-মন্ত্রীদের উসকানিমূলক বক্তব্যেই পরিস্থিতি আরও বিষিয়ে উঠছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান যদিও আশ্বাস দিয়েছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে - 'তারা যে-ই হোক না কেন'!

তবে রামমন্দিরের জন্য চাঁদা সংগ্রহে যে কোনও বাধা দেওয়া হবে না, সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের ক্যাবিনেট মন্ত্রী বিশ্বাস সারং।

মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান

মি সারং বলছেন, "শ্রীরামচন্দ্র আমাদের আরাধ্য, আমাদের মান-সম্মান, জীবন। তাঁর মন্দিরের জন্য অর্থসংগ্রহকে আমি চাঁদা তোলা বলতে রাজি নই, এটা হল জাতীয় জনজাগরণ।"

"একশো তিরিশ কোটি ভারতীয়র সবার তো অযোধ্যায় যাওয়া সম্ভব নয়, তো তারা তো সেই আহুতিতে এভাবেই যোগদান করবেন, তাই না? সেই স্বপ্নে কেউ বাদ সাধতে আসলে তাকে ছেড়ে কথা বলা হবে না।"

ফলে মধ্যপ্রদেশ জুড়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বাইক-মিছিল চলছে অব্যাহতভাবেই।

রাজ্যের মুসলিমদের অভিযোগ, সেই সব মিছিল থেকে মুসলিম-বিরোধী স্লোগান, ভয়-দেখানো হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বিরামহীনভাবে।