হজ ও ওমরা ব্যবস্থাপনায় আসছে কঠোর আইন, এজেন্সির বিরোধিতা

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, সাইয়েদা আক্তার
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশ থেকে হজ করতে লোক পাঠানোর জন্য চুক্তিবদ্ধ হবার পর কোন হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে যদি অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা বা দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, তাহলে ওই এজেন্সির নিবন্ধন বাতিলের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে নতুন একটি আইন করতে যাচ্ছে সরকার।
'হজ ও ওমরা ব্যবস্থাপনা আইন ২০২০' নামে নতুন এই আইনের খসড়া সোমবার নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
কিন্তু হজ এজেন্সির মালিকরা এর বিরোধিতা করে বলছেন, বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ভিন্ন কোন ব্যবস্থা না নিয়ে অত্যধিক জরিমানা করে আইনের খসড়া করা হয়েছে।
কী আছে খসড়া আইনে?
বাংলাদেশে এতদিন নীতিমালার মাধ্যমে হজ ব্যবস্থাপনার কাজ চলত। অনেক সময়ই হজ পালন করতে সৌদি আরবে গিয়ে নানা অব্যবস্থাপনা ও ভোগান্তির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেন অনেক হজ পালনকারীরা।
এসবের মধ্যে খাওয়ার অসুবিধা, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আবাসনের ব্যবস্থা না করা, এবং মোয়াল্লেম মানে হজযাত্রীদের থাকা-খাওয়া, যাতায়াতসহ সবকিছুর ব্যবস্থা করার দায়িত্ব যাদের ওপর, তাদের অসহযোগিতাসহ নানা ধরনের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠে থাকে।
আরো পড়তে পারেন:
বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার অভিযোগে ২০১৯ সালে হজের পর কয়েক দফায় প্রায় একশর মত হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে 'হজ ও ওমরা ব্যবস্থাপনা আইন ২০২০'র খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, আইনের খসড়া অনুযায়ী হজ ও ওমরা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সরকারের উপর ন্যস্ত থাকবে। আইনটি পাস হলে হজ ও ওমরা এজেন্সি সৌদি আরবে গিয়ে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা বা দুর্নীতি করলে, সেই অপরাধ বাংলাদেশে হয়েছে গণ্য করে অভিযুক্ত এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি বলেছেন, "আইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সরকারের ওপর ন্যস্ত রাখা। এই আইনের অধীনে নিবন্ধন ছাড়া কেউ কোনও হাজি বা হজের কোনও লোকজনকে হ্যান্ডেল করতে পারবে না।"
"অনিয়মের জন্য হজ এজেন্সির নিবন্ধন বাতিল করা যাবে এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। ওমরাহ এজেন্সির ক্ষেত্রে নিবন্ধন বাতিল ও ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করা যাবে। ক্রিমিনাল অফেন্স করলে পেনাল কোড বা অন্যান্য আইনে তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া যাবে।"
কোন এজেন্সির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তদন্ত করে প্রমাণিত হলে, সেক্ষেত্রে অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী তাদের সতর্কতা বা ওয়ার্নিং দেয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
কোন এজেন্সিকে পর পর দুই বছর ওয়ার্নিং দেয়া হলে দুই বছরের জন্য তার লাইসেন্স বাতিল হবে।
হজ এজেন্সির বিরোধিতা
২০১১ সালে সৌদি আরব হজ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনে, যার প্রেক্ষিতে সেসময় পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এ বিষয়ে আইন প্রণয়ন করে। বাংলাদেশ সরকারও ২০১২ সালে হজ ব্যবস্থাপনায় নীতিমালার পরিবর্তে একটি আইন তৈরির নির্দেশনা দেয়।
এরপর ২০১৩-১৪ সালের দিকে সরকার এই আইন করার উদ্যোগ নিয়েছিল, কিন্তু হজ এজেন্সি মালিকদের বিরোধিতায় সেটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
হজ এজেন্সিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা হাব-এর সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিন আহমেদ স্বীকার করেন যে হজ ব্যবস্থাপনায় কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়, কিন্তু আইনে প্রস্তাবিত জরিমানা অনেক বেশি ধরা হয়েছে বলে তার অভিযোগ।

ছবির উৎস, Getty Images
তিনি বলেন, "হজ ও ওমরা হচ্ছে একটা সার্ভিস-ওরিয়েন্টেড (সেবামূলক) বিষয়। এখানে ১০০ তে ১০০ দেওয়ার সুযোগ নাই। সরকারের যে হজ ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান আছে তারাও পারবে না। এখানে অনেক ত্রুটি বিচ্যুতি হবে, যেমন খাওয়া নিয়ে অভিযো, এখন খাবার তো ওখানকার ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান করে, তাদের দেরি হলে তো আমাদের কিছু করার নেই।"
"এখন একজন হাজির কাছ থেকে কেউ নিল সাড়ে তিন লাখ টাকা, কিন্তু তার অভিযোগের ওপর জরিমানা হবে ৫০ লাখ টাকা, আবার ফৌজদারি আইনে বিচার হবে। এটা অমানবিক। এরকম হলে আমাদের লাইসেন্স সারেন্ডার করা ছাড়া উপায় থাকবে না।"
এর আগে হাবের পক্ষ থেকে সরকারকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল যে কোন হাজী যদি অনিয়মের অভিযোগ করে তাহলে সৌদি আরবের হজ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এবং বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে সেখানেই তা মিটিয়ে ফেলার।
করোনাভাইরাস মহামারির আগে সর্বশেষ ২০১৯ সালে বাংলাদেশ থেকে ১ লক্ষ ২৭ হাজারের কিছু বেশি মানুষ হজ পালন করেছেন।









