আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
থাইল্যান্ড: সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বাচ্চা হাতিকে সারিয়ে তুললেন ত্রাণকর্মী
থাইল্যান্ডে সড়ক পার হওয়ার সময় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় অজ্ঞান হয়ে যাওয়া একটি শিশু হাতিকে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন বা সিপিআর দিয়ে বাঁচিয়ে তোলা হয়েছে।
আর একাজ করেছেন একজন ত্রাণকর্মী, যিনি কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন।
মানা শ্রিভাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তিনি তার কেরিয়ারে কয়েক ডজন সময় মানুষের ওপর সিপিআর ব্যবহার করেছেন। কিন্তু হাতির ওপর কখনই এই চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করেননি।
ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অন্ধকার এক রাস্তার একপাশে পড়ে থাকা বাচ্চা হাতির ওপর তিনি দুই হাত দিয়ে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন।
এভাবে দশ মিনিট চলার পর সেটি একসময় জ্ঞান ফিরে পেয়ে উঠে দাঁড়ায়।
থাইল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় চানথাবুরি প্রদেশে একদল বুনো হাতির সঙ্গে বাচ্চাটি রাস্তা অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল।
ঐ ভিডিওতে একই সঙ্গে দেখা যাচ্ছে কিছু লোক মোটরসাইকেল আরোহীকে চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করছে। তবে তার আঘাত গুরুতর ছিল না।
মি. মানা গত ২৬ বছর ধরে ত্রাণকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। তিনি রয়টার্সকে বলেন, ঘটনাটি গত রোববার রাতের দিকে ঘটে। সে সময় তিনি ডিউটিতে ছিলেন না।
"আমার প্রকৃতিই হচ্ছে মানুষের জান বাঁচানো। কিন্তু পুরো সময়টা আমি খুব ভয়ের মধ্যে ছিলাম। কারণ বাচ্চাটির মা এবং অন্য হাতিগুলো বাচ্চাটিকে ডাকছিল।"
"হাতির হৃদপিণ্ডের অবস্থান কোথায় আমি কিছুটা ধারণা করে নিয়েছিলাম। মানুষের হৃদপিণ্ড এবং অনলাইনে একটি ভিডিও ক্লিপ দেখে আমার এই ধারণা তৈরি হয়েছিল।
"বাচ্চা হাতিটি যখন নড়াচড়া শুরু করলো তখন আনন্দে আমি প্রায় কেঁদেই ফেলেছিলাম।"
দশ মিনিট পর শিশু হাতিটি উঠে দাঁড়ানোর পর তাকে চিকিৎসার জন্য একটি সেবা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তাকে আবার দুর্ঘটনার জায়গায় ফেরত আনা হয় যাতে সে তার মায়ের সাথে মিলিত হতে পারে।
মি. মানা জানান, শিশু হাতিটি ফিরে আসার পর মায়ের ডাক শুনে অন্য হাতিরাও তখন সেখানে ছুটে আসে।
বন্য প্রাণীর প্রতি মানুষের অসীম মমতার বিষয়টা বাচ্চা হাতি ও তার মা তাদের সহজাত প্রবৃত্তি দিয়ে হয়তো সেদিন অনুভব করেছিল।