শিশু সামিউল হত্যায় মা ও তার কথিত প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত

হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পর শিশু সামিউল হত্যাকাণ্ডের রায় হলো।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পর শিশু সামিউল হত্যাকাণ্ডের রায় হলো।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার আদাবর এলাকায় বহুল আলোচিত সামিউল হত্যা মামলায় তার মা আয়শা হুমায়রা এশা ও তার কথিত প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

সাথে তাদের প্রত্যেকের পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেয়া হয়েছে।

রবিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত এই রায় ঘোষণা করে।

একথা নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী ফারুক উজ্জামান ভূঁইয়া টিপু।

তিনি জানান, আদালত রায়ে বলেছেন, মায়ের অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলে এবং বাবাকে বলে দেবে, এই আশঙ্কা থেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে শিশু সামিউলকে।

"পরকীয়া প্রেমের ঘটনা থেকে এই মামলার উৎপত্তি।"

তিনি বলেন, "আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ এটি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।"

এ ঘটনার পর মামলা দায়ের করেছিলেন সামিউলের বাবা কে আর আজম। যিনি মামলা চলার কিছুদিন পর মারা যান।

মি. ভূঁইয়া জানিয়েছেন, এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে নিহত সামিউলের পরিবার।

আরো পড়ুন:

এর আগে গত আটই ডিসেম্বর এই মামলার রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু সেদিন রায় প্রস্তুত না হওয়ায় তা পিছিয়ে আজ ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়।

মি. ভূঁইয়া বলেন, ২২ জন আসামীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই রায় দিয়েছে আদালত।

আসামী সামিউলের মা আয়েশা হুমায়রা এশা ও তার কথিত প্রেমিক শামসুজ্জামান আরিফ ওরফে বাক্কু- দুজনই জামিন পাওয়ার পর পলাতক রয়েছেন। আজ তাদের অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করা হয়। এদিন আসামী পক্ষের কোন আইনজীবীও উপস্থিতি ছিলেন না।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করারও আদেশ দিয়েছে আদালত।

২০১০ সালে ২৩ জুন শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল পাঁচ বছর বয়সী খন্দকার সামিউল আজিম ওয়াফিকে। পরের দিন নবোদয় হাউজিং এলাকা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়।

কী ঘটেছিল?

এই মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী ফারুক উজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ২০১০ সালের জুন মাসে মায়ের অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলে সামিউল। এর পর ২২শে জুন তাকে অপহরণ করে মামলার আসামী শামসুজ্জামান বাক্কু।

২৩শে জুন সামিউলকে হত্যার পর তার মরদেহ ফ্রিজে রাখা হয়।

২৪শে জুন তারিখে সামিউলের লাশ বস্তায় ভরে নবোদয় হাউজিং এলাকার একটি খালি প্লটে ফেলে যায় শামসুজ্জামান বাক্কু। পরে সেখান থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।

মি. ভূঁইয়া জানান, আসামীদের মধ্যে শামসুজ্জামান বাক্কুর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর অভিযোগ ছিল। আর নিহত সামিউলের মায়ের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে উস্কানি দেয়ার অভিযোগ ছিল।

গ্রেফতার হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও দিয়েছিলেন শামসুজ্জামান বাক্কু। এর পর তাকে জামিন দেয়া হলে ২০১১ সাল থেকে পলাতক রয়েছেন তিনি।

মি. ভূঁইয়া জানান, আয়শা হুমায়রা এশাকে ২০১৫-১৬ সালের দিকে একবার জামিন করেছিলেন সামিউলের বাবা ও মামলার বাদী কে আর আজম। সেসময় তার সাথে কিছু দিন সংসারও করেছিলেন তিনি।

এদিকে মামলার রায় ঘোষণার এক মাস আগে থেকে সামিউলের মা আয়শা হুমায়রা এশা পলাতক রয়েছেন।