আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়: টিউশন ফি দেয়া নিয়ে যেসব সমস্যা তৈরি হয়েছে
- Author, শাহনাজ পারভীন
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশে অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে টিউশন ফি ৫০ শতাংশ কমানোর দাবি করছেন।
এনিয়ে আন্দোলন হয়েছে, শিক্ষার্থী বহিষ্কারের ঘটনাও ঘটেছে। অনেক শিক্ষার্থী কর্তৃপক্ষের কাছে টিউশন ফি মওকুফ অথবা আংশিক ছাড় দেয়ার আবেদন করছেন।
শিক্ষার্থীরা যে সমস্যায় পড়েছেন
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ১০৭ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।
করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে অন্য সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো সেগুলো বন্ধ রয়েছে তবে বেশ কিছুদিন হল অনলাইনে ক্লাস চলছে।
ক্লাস বন্ধ থাকার কারণে টিউশন ফি ছাড়াও ল্যাব, লাইব্রেরি, যানবাহন, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য ফি মওকুফের দাবিও তোলা হয়েছিল।
মহামারির শুরুর দিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো টিউশন ফি নিয়ে কিছু না বললেও পরের দিকে অনেকগুলোতে চাপ দেয়া শুরু হয়।
ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী বলছেন, একসঙ্গে অনেকগুলো টাকা দেয়া তার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলছেন, "অনেকে প্রাইভেট পড়িয়ে নিজে টাকা জমিয়ে তারপর পড়াশোনা করে। আমাদের সাথে যারা পড়ে তারা সবাই মধ্যবিত্ত পরিবারের। করোনার শুরুতে আমরা টিউশন ফি দেই নাই। কিন্তু এখন অনেকের একসাথে ৬০ -৭০ হাজার টাকা জমে গেছে।"
টিউশন ফি কমানোর দাবিতে আন্দোলন
বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন বেশ বিরল। এর আগে ভ্যাট আরোপের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আন্দোলন হয়েছিল।
তবে টিউশন ফি কমানোর দাবিতে দেশের প্রথম সারির একটি সহ আরও কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি আন্দোলন হয়েছে।
নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে।
তারা টিউশন ফি মওকুফের দাবিতে আরও অনেকের সাথে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।
এই শিক্ষার্থীদের একজন বলছেন, "ইউজিসি'র (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) একটা নির্দেশনা আছে। সেই জায়গা থেকে অনেক শিক্ষার্থী টিউশন ফি ছাড়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর আবেদন করেছে। কেউ একা করেছেন, অনেকে ২০-২৫ জন মিলে করেছেন কিন্তু তাদের বারবার ফিরিয়ে দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাদের জানানো হয়েছে যে গত সেমিস্টারে প্রি-রেজিস্ট্রেশনে ৪ হাজার টাকা ছাড় দেয়ায় তাদের ৫ কোটি টাকা লস হয়েছে। তাই সামনে আর ছাড় তারা দিতে পারছে না।"
আরো পড়ুন:
যদিও তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্য হচ্ছে টিউশন ফি ও কর্মী ছাঁটাই সম্পর্কে তারা সামাজিক ও গণমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছিলেন।
ইউজিসি'র নির্দেশনা মানছে না অনেকে
বাংলাদেশে ৯০ এর দশকের শুরুতে প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চালু হয়।
সেসময় এরকম দুএকটি প্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র বিত্তশালীদের সন্তানরাই ভর্তি হতেন।
তবে কাছাকাছি সময়ে মধ্যবিত্তদেরও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রবণতা বেড়েছে।
তাদের কথা মাথায় রেখে আরও অনেক নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চালু হয়েছে। যেগুলোর বিরুদ্ধে নানা সময়ে অনিয়মের অভিযোগও পাওয়া যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন মে মাসের দিকে টিউশন ফি বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করেছিল, যাতে টিউশন ফি মওকুফ, হ্রাস বা কিস্তিতে দেবার সুযোগ, ফি আদায়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ না দেয়ার কথা বলা ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের এই নির্দেশনার পর দেশের পুরোন ও প্রথম সারির বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন হারে টিউশন ফি কমিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর কাজী শহিদুল্লাহ বলছেন, "আমরা যে নির্দেশনাটি দিয়েছিলাম, এই ডিফিকাল্ট টাইমে কেউ কেউ সেটা বাস্তবায়ন করছে না।
''সেই অভিযোগটা আমাদের কাছেও আসছে। হয়ত আবার নতুন করে তাদের মনে করিয়ে দেবার জন্য আর একটা পাঠাতে পারি। সবকিছু স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সমস্যাতো কিছুটা থাকবে।"
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যা বলছে
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংগঠন, এসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রধান শেখ কবির হোসেন বলছেন, অর্থের অভাবে তারাও সঠিকভাবে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছেন না।
তিনি বলছেন, "হয়ত কয়েকটা ইউনিভার্সিটি আছে যারা অনেক আগে শুরু করেছে তারা ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। তাদের অবস্থা মোটামুটি ভাল। কিন্তু বাকি যারা আছে, তারা খুব আর্থিক সংকটে রয়েছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না। বাড়িভাড়া দিতে পারছে না। সেটার জন্য তাগিদ আছে। কিছু শিক্ষার্থী অল্প কিছু দিচ্ছে আবার বাকিটা দিচ্ছে না। এতে কোনরকমে চালানো হচ্ছে।"
তিনি বলছেন, তারা সরকারের কাছে প্রণোদনার আবেদন জানিয়েছেন কিন্তু সেব্যাপারে তারা কোনও সাড়া পাননি।
অন্যান্য খবর: