আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
টিউশন ফি: সেমিস্টার ফি কমানোর দাবিতে আন্দোলনে নর্থ সাউথ শিক্ষার্থীরা, কী বলছেন ভিসি
করোনাভাইরাস মহামারির কারণে টিউশন ফি ৩০ শতাংশ কমানোর পাশাপাশি স্টুডেন্টস অ্যাক্টিভিটি ফি সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছে ২২শে অক্টোবর পর্যন্ত সময় চাইলেও তাতে তারা রাজি হননি।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে অন্তত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী।
সেমিস্টার ফি কমানোর দাবিতে এই মাসের শুরুতে দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ইমেইলের মাধ্যমে পিটিশন জমা দিলেও কোনও সাড়া মেলেনি বলে তারা অভিযোগ করেন।
এরই প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামার কথা জানান।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী খালেদ জোহানী তন্ময় জানান, তারা প্রতি সেমিস্টারে টিউশন ফি ছাড়াও স্টুডেন্টস অ্যাক্টিভিটি ফি অর্থাৎ কম্পিউটার ল্যাব ফি, লাইব্রেরি ফি, ইত্যাদি বাবদ সেমিস্টার ভেদে ৫,৫০০-১৫,০০০ টাকা পরিশোধ করে থাকেন।
করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস কার্যক্রম যেহেতু বন্ধ, সে কারণে ওই ফি সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার, সেইসঙ্গে ক্লাস যেহেতু অনলাইনে চলছে এজন্য টিউশন ফি-র ৩০ শতাংশ ছাড়ের দাবি জানান তারা।
খালেদ জোহানী তন্ময় বলেন, "আমরা তো অনলাইনে ক্লাস করছি। আর অনলাইনে ক্লাস করার সব জিনিসপত্র মানে ল্যাপটপ, কম্পিউটার আমাদের নিজেদের। বাসার বিদ্যুৎ লাইনই ব্যবহার করছি। এই সময়ে ক্যাম্পাসের কম্পিউটার ল্যাব, লাইব্রেরি, বা অন্য কোন সুবিধাই তো আমরা গ্রহণ করছি না। তাহলে এগুলোর জন্য বাড়তি ফি কেন দেব? আর মহামারির কারণে অনেকেই কষ্টে আছে। কর্তৃপক্ষ সেটা কি ভাবে না?"
তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট অনুযায়ী ফি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টি নিয়ে থাকে। শিক্ষার্থীরা যে দাবি জানিয়েছেন সেটা বোর্ডকে অবগত করা হয়েছে বলে জানান উপাচার্য আতিকুল ইসলাম।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমাদের ক্যাম্পাস বন্ধ থাকলেও ভার্চুয়ালি সব কার্যক্রম চলছে। ভর্তি, সার্টিফিকেট তোলা, অনলাইন ক্লাস কোনটাই বাদ নেই। সেই বাবদ খরচ তো হচ্ছেই। আমাদের অর্থনৈতিকভাবে কোন সমস্যা নেই। তবে এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আমরা সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছি। "
এর আগের সেমিস্টারেও শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০ শতাংশ টিউশন ফি মওকুফ করেছিল।
কিন্তু আসন্ন সেমিস্টারে কোনও ঘোষণা ছাড়াই এই সুবিধা বাতিল করে পরবর্তী সেমিস্টারের কোর্স রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চালু করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এর কারণ হিসেবে মি. ইসলাম বলেন, "করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা এক সেমিস্টারের ফি মওকুফ করেছিলাম। এখন নতুন সেমিস্টার আসার পর ওয়েবসাইট থেকে (ফি) অটোমেটিক চলে গেছে। এখন বোর্ড বিবেচনা করবে যে তারা এই সুবিধা আবার দেবে কি না।"
ফি মওকুফের এই সুবিধা তুলে নেয়ার প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করলে তাদের শান্ত করতে গতকাল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসএমএস এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জানায় যে, ২২শে নভেম্বরে সেমিস্টার ফি কমানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে। শিক্ষার্থীরা যেন যার যার বাড়িতে ফিরে যান।
আরও পড়তে পারেন:
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে পাঁচজন প্রতিনিধির সাথে কথা বলে জানান যে ২২ তারিখ সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
কিন্তু শিক্ষার্থীদের দাবি সোমবারের মধ্যে সিদ্ধান্ত না এলে তারা আরও কড়া অবস্থান নেবেন।
মি. জোহানী বলেন, "কর্তৃপক্ষ বলছে ২২ তারিখে সিদ্ধান্ত জানাবে, কিন্তু ২২ তারিখে তো ক্লাস শুরু। সিদ্ধান্ত দিতে হলে তো তার আগেই জানাতে হবে। আজকের মধ্যে সিদ্ধান্ত না এলে আমরা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখবো।"
এ ব্যাপারে উপাচার্য আতিকুল ইসলাম বলেন, "আমি বোর্ডকে তাদের দাবির বিষয়টি জানিয়ে সদয়ভাবে বিবেচনার কথা বলেছি। এজন্য ২২ তারিখ পর্যন্ত সময় চেয়েছি। ওই সময় ক্লাস চালু হলেও কোন সমস্যা নেই, টাকা তো তখনই দিতে হবে না। পরে দিলেও হবে। আমরা টাকা দেয়ার তারিখ বাড়িয়ে দেব। আমরা শিক্ষার্থীদের বলবো রেজিস্ট্রেশন করে ক্লাস শুরু করে দিতে। বোর্ড যদি টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তাহলে সেটা কমিয়েই রাখা হবে।"
এর আগে রোববার সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের মূল ফটকের বাইরে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী।
এসময় তারা ব্যানার হাতে মানববন্ধন করার পাশাপাশি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ভেতরে মিছিল করে বিক্ষোভ করে বলে জানা যায়।
বিকেলের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রবেশ পথ অবরুদ্ধ করে রাখায় টানা চার-পাঁচ ঘণ্টা আটকা ছিলেন উপাচার্য মো. আতিকুল ইসলামসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য এবং প্রোক্টরের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।