আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
বাড়লো মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, শীঘ্রই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা সরকারের
- Author, মুন্নী আক্তার
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, 'পরবর্তী পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত' সারা দেশে অনলাইনসহ সব প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখা বন্ধ রাখা হবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন ঘোষণার কথা জানান মানসিক চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টস বা বিএপি-র সহ-সভাপতি অধ্যাপক আজিজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, "মানসিক রোগের যারা রোগী তাদের জন্যও এটা অত্যন্ত কষ্টের। আমরাও দুঃখিত। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।"
সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল-মামুনের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়।
সেই সাথে সব মানসিক চিকিৎসকদের ঢালাওভাবে কমিশনসহ অন্যান্য ভাবে জড়িয়ে দেয়ার প্রচেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে এর নিন্দা জানানো হয়।
এর আগে বুধবার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে নিজেদের চেম্বারে দুই দিন অর্থাৎ বুধবার ও বৃহস্পতিবার রোগী না দেখার ঘোষণা দিয়েছিলেন মনোরোগ চিকিৎসকরা।
আজ মূলত সেই কর্মসূচীই আরো বাড়ানো হলো।
এরআগে বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের সই করা এক বিবৃতিতে বলা হয় যে, নিহত পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুল করিমের চিকিৎসার সাথে গ্রেপ্তারকৃত চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনের কোন সম্পৃক্ততা নেই।
তাদের নিজেদের পরিচালিত তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, "হাসপাতালের তদন্ত প্রতিবেদনে এটা প্রতীয়মান হয় যে উক্ত রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো পর্যায়েই ডা. আবদুল্লাহ আল মামুনের সংশ্লিষ্টতা ছিল না।"
এ বিষয়ে বিএপি'র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ডা. সিফাত-ই-সাইদ বলেন, সরকারি হাসপাতালে অনেকেই থাকতে চান না। কারণ অনেকেরই সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ পছন্দ হয় না।
"এমন পরিস্থিতিতে আমাদের কাছে অনেকেই জানতে চান যে, কোন বেসরকারি হাসপাতালে রোগীকে নেয়া যেতে পারে। আমরা যদি কোন হাসপাতালের নাম বলি তাহলেই কি সেখানকার দালাল হয়ে যাবো?"
এমন হাসপাতালে কোন ঘটনা ঘটলে সেটার দায়ভার ওই চিকিৎসকের উপর এসে বর্তায় কিনা - সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে মানসিক স্বাস্থ্য ও মাদক নিরাময় কেন্দ্রে রোগীদের সাথে অমানবিক আচরণ নিয়ে অভিযোগ থাকলেও এ বিষয়ে, মানসিক চিকিৎসকদের সংগঠন আগে কেন কোন পদক্ষেপ নেয়নি ?এমন এক প্রশ্নের জবাবে ডা. সিফাত-ই-সাইদ বলেন, এর আগে আনুষ্ঠানিক কোন অভিযোগ পাননি তারা।
এদিকে চিকিৎসকদের এই কর্মবিরতি সাধারণ রোগীদের জন্য ভোগান্তিকর বলে অভিযোগ তুলেছেন অনেকেই।
এমন পরিস্থিতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাশার মো. খুরশীদ আলম বিবিসি বাংলাকে বলেন, তার নেতৃত্বে কর্তৃপক্ষের একটি দল জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করেছেন এবং আলোচনাও হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথেও আলোচনা হয়েছে এবং তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, সরকার পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবে। খুব শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেই সাথে মামলা এবং গ্রেফতারের ঘটনা তদন্তের আওতায় থাকার কারণে ডা. আল মামুনকে সব ধরণের আইনি সহায়তা দেয়া হবে বলেও জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী?
প্রসঙ্গত ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে মঙ্গলবার হাসপাতাল সংলগ্ন তার বাসা থেকে আটক করে পুলিশ।
তাকে আটকের খবর দিয়ে পুলিশের তেজগাঁও জোনের ডিসি হারুন অর রশীদ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন যে, আনিসুল করিম হত্যা মামলায় এফআইআরভুক্ত পনের জনের মধ্যে মোট বার জনকে এ পর্যন্ত আটক করা গেছে।
এর মধ্যে চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।
পুলিশের বরাত দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, মি. মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো তিনি মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটে আসা রোগীদের ঢাকার আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে পাঠাতেন।
ওই হাসপাতালেই পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুল করিম নিহত হন।
মঙ্গলবারই মি. মামুনকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
কী ঘটেছিল?
গত নয়ই নভেম্বর আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে চিকিৎসা করতে গিয়ে মারা যান পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুল করিম।
পরে হাসপাতালের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হলে তাতে দেখা যায় মিস্টার করিম ওই হাসপাতালে যাওয়ার পর একদল লোক তাকে একটি রুমে নিয়ে মারধর করছেন।
অভিযোগ ওঠে যে এ মারধরের সময় ওই কর্মকর্তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, ভিডিও ফুটেজে যারা আনিসুল করিমকে টেনে-হিঁচড়ে ওই কামরাটিতে নিয়ে যায় তারা কেউই চিকিৎসক ছিলেন না। এদের মধ্যে চার জন ওয়ার্ড বয়, দুজন সমন্বয়কারী, আর কয়েকজন পরিচ্ছন্নকর্মী ছিল।
এদেরকেসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তারের কথা পুলিশ গত দশই নভেম্বর জানিয়েছিলো। যাদের মধ্যে হাসপাতালটির একজন পরিচালক ডাঃ নিয়াজ মোর্শেদ।