এডিটার'স মেইলবক্স: ফ্রান্স, ম্যাক্রঁ, কার্টুন নিয়ে বিতর্ক আর ইরফান সেলিম নিয়ে প্রশ্ন

ছবির উৎস, AFP
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ঘিরে এবং ফ্রান্সে ইসলামের নবীর কার্টুন প্রকাশ করা নিয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ হচ্ছে। সে বিষয় দিয়ে আজকে শুরু করছি, প্রথমে লিখেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে আরিফুল ইসলাম:
''ফ্রান্সে এক শিক্ষক ক্লাসে শিক্ষার্থীদের মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাল্লেল লাহু আলয়হে ওয়াসাল্লাম)-এর ব্যাঙ্গ কার্টুন চিত্র দেখানোর পর, এক মুসলিম তরুণ তাকে শিরশ্ছেদ করে। তা নিয়ে সারা মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সেই শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটি মত প্রকাশের স্বাধীনতা নামে নবীর ব্যঙ্গ কার্টুন কীভাবে দেখায়? নিশ্চয় ফরাসি আইনে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর কোন বিচার হয় না, সেই জন্য ফরাসি ম্যাগাজিন শার্লি এব্দো বার বার নবীর কার্টুন অঙ্কন করে । অন্যদিকে ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ নবীর ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রত্যাহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে গোটা ফ্রান্স ও মুসলিমদের উস্কানি দিচ্ছে।''
ফ্রান্সের আইনে জাতিগত এবং ধর্মগত বিদ্বেষের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা আছে মি. ইসলাম। তবে ফ্রান্সের সব চেয়ে বড় মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাক স্বাধীনতা বা মতামত প্রকাশ করার স্বাধীনতা। কার্টুন প্রকাশ করেছে একটি ম্যাগাজিন, যার স্বাধীনতা আইনে নিশ্চিত করা আছে। ফ্রান্সে অনেক মানুষই আছেন যারা এ'ধরণের কার্টুন প্রকাশ করা নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন, কিন্তু তারা এটাও বোঝেন যে, মুক্তচিন্তা রোধ করা ফ্রান্সের মৌলিক মূল্যবোধের পরিপন্থী হবে।

ছবির উৎস, AFP
এ'বিষয়ে আরো লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:
''ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ সম্ভবত আগুনে ঘি ঢেলেছেন। বাক স্বাধীনতার নামে মি. ম্যাক্রঁ যা বলেছেন, তা চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ, একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট। প্রকারান্তরে তিনি প্রতিটি মুসলিমের বিশ্বাসে চরমভাবে আঘাত করেছেন। তিনি ইসলাম ধর্মের সমালোচনা করতে গিয়ে ইসলামকে "আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের উৎস" হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা দায়িত্বশীল একজন রাষ্ট্রপ্রধানের মুখে শোভা পায় না। অথচ ফ্রান্সের জাতীয় ফুটবল দলের মিডফিল্ডার পল পগবা বলেছেন, "ইসলামকে প্রত্যেকে যেভাবে দেখে - সন্ত্রাস - ইসলাম সেরকম নয়। এটা খুব সুন্দর একটি ধর্ম।'' আমার প্রশ্ন তাহলে কে সত্য বলেছেন, ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, না পল পগবা। আশা করি বিবিসি বাংলা উত্তর দিবে।''
আমার কোন সন্দেহ নেই মি. রহমান যে, আপনার সেন্টিমেন্টের সাথে অনেকেই একমত হবেন। তবে, মি. ম্যাক্রঁ যেহেতু ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট, তাই দেশের আইন এবং মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা তার দায়িত্ব। তবে হ্যাঁ, এখানে একটি রাজনৈতিক খেলাও আছে।
নিজ দেশের ভেতরে মি. ম্যাক্রঁর রাজনৈতিক অবস্থান বর্তমানে বেশ নড়বড়ে এবং অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে, তিনি নিজের ভাগ্য ঘুরানোর জন্য ইসলামী জঙ্গিবাদকে একটি বড় হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করবেন। এর ফলে যদি ফ্রান্সে মুসলিম-বিদ্বেষের নতুন অধ্যায় শুরু হয়, তাহলে আপনি নিশ্চিত থাকবেন, ফ্রান্সের ভেতর থেকেই এর তীব্র নিন্দা জানানো হবে।
আর পল পগবা যা বলেছেন, সেটা তিনি তার নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে বলেছেন, সেটা নিয়ে আমার মন্তব্য করার কিছু আছে বলে মনে হয় না।

ছবির উৎস, Getty Images
এ বিষয়ে আরো লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:
''ফ্রান্সে নবীর কার্টুন নিয়ে যে সন্ত্রাসবাদ এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট-এর ইসলাম বিরোধী কঠোর অবস্থানের কারণে বেশ হইচই হচ্ছে মুসলিম দেশগুলোতে। ফ্রান্সের পণ্য বর্জনের ডাক দেয়া হয়েছে। এই পণ্য বর্জন করে কি আসলেই কোন দেশকে চাপে ফেলা যায়? আগেও দেখেছি ডেনমার্কের পণ্য এবং ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় মার্কিন পণ্য বর্জনের ডাক দেয়া হয়েছিলো। আরো একটি বিষয়, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট কি তার অবস্থান থেকে সরে আসতে পারেন?''
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ এ'মাসের ২ তারিখে দেয়া একটি ভাষণে তাঁর চিন্তা ভাবনা ব্যক্ত করেছেন মি. শামীম উদ্দিন। সেখানে তিনি ফরাসি মুসলিমদের একাংশকে উগ্রবাদী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী বলেছেন, এবং তাদের দমন করার জন্য একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এখান থেকে সরে আসার কোন সম্ভাবনা আছে বলে আমার মনে হয় না, কারণ এখানে তার রাজনৈতিক অস্তিত্ব জড়িত আছে। আর ফ্রান্সের পণ্য বর্জন করে আদৌ কিছু হবে বলে আমার মনে হয় না, তবে অনেক মুসলিম দেশে ফ্রান্সের ভাবমূর্তি সাময়িক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ছবির উৎস, NurPhoto
পরের চিঠি লিখেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাকামে মাহমুদ চৌধুরী:
''ধর্ম নিরপেক্ষতা বলতে সাধারণত কোন ধর্মের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে বোঝানো হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশে যেভাবে উস্কানিমূলক এবং অগ্রহণযোগ্য মন্তব্যর মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করা হচ্ছে, তাতে ধর্ম নিরপেক্ষতা নীতিকেই যেন বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। ইসলাম ধর্মকে আঘাত করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের উস্কানিমূলক এবং অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য ফ্রান্সকে যে অনতিবিলম্বে চরম সংকটের মধ্যে ফেলবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।''
এখানে ব্যাপার হচ্ছে মি. চৌধুরী, প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ মনে করছেন বিশ্বব্যাপী ইসলামই একটি সঙ্কটের মুখে পড়েছে। তবে, তার জন্য তিনি, তার ভাষায় ইসলামী উগ্রবাদকেই দায়ী করছেন। তিনি মনে করেন ফ্রান্সের আত্মপরিচয় এখন হুমকির মুখে, কারণ মুসলিমদের একাংশ দেশের ধর্মনিরপেক্ষ এবং উদারপন্থী নীতি থেকে আলাদা হতে চায়। তবে একথা বলা যায় যে, মুসলিমরা যদি আক্রমণের শিকার হন, তাহলে ফ্রান্সের ধর্মনিরপেক্ষ নীতি নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।

ছবির উৎস, Erfan Salim/Facebook
এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গে যাই। সম্প্রতি ঢাকায় নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে মারধর করার জের ধরে সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলের বাসা ঘেরাও এবং তল্লাশি করে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। ইরফান সেলিমের বাসায় বিদেশী মদ আর ওয়াকি টকি পাওয়ার অভিযোগে তার তাৎক্ষণিক বিচার এবং এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।
সে বিষয়ে মন্তব্য করে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:
''একজন আইন-প্রণেতার সন্তানের বাড়িতে এমন বে-আইনি কাজকর্ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। 'সংসদ সদস্য' স্টিকার লাগানো গাড়ির যেরূপ ব্যবহার হয়েছে তা-ও দেশের মানুষকে হতবাক করেছে। ক্ষমতার অপপ্রয়োগের এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে আমাদের দেশে। ক্ষমতা সংশ্লিষ্টরা নিজেদের দায়িত্ব-কর্তব্য ভুলে ক্ষমতা প্রদর্শনেই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, অন্যায়কারী জনপ্রতিনিধি হলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা সেটাই দেখতে চাই। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।''
সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার করতে তো বেশ সময় লাগে মি. ইসলাম, কিন্তু এখানে মনে হচ্ছে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তদন্ত, বিচার এবং শাস্তি সবই হয়ে গেল। এখানে অভিযুক্ত আত্মপক্ষ সমর্থন করার কতটুকু সুযোগ পেয়েছিল বা আদৌ পেয়েছিল কি না, তাও পরিষ্কার না। ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ ছিল তিনি নৌবাহিনীর এক অফিসারকে মারধর করেছেন। তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা, জিজ্ঞাসাবাদ করা এবং আদালতে পাঠানো হতো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু তার বাড়ি তল্লাশি হল এবং বিদেশী মদ থাকার অভিযোগে তাৎক্ষণিক কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠানো হল। বিষয়টা নিয়ে ভাবার কারণ আছে বলে আমার মনে হয়।

ছবির উৎস, Barcroft Media
র্যাবের দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার, তবে তিনি কিছু প্রশ্নও তুলেছেন:
''সম্প্রতি নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে মারধর এবং কক্সবাজারে অবসর প্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা রাশেদ হত্যা কাণ্ডের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন ত্বরিত গতিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিঃসন্দেহে এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু একই সাথে এমন প্রশ্নও তোলা হচ্ছে, সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এমন দ্রুত ব্যবস্থা কেন নেওয়া হয় না?
''অনেক অভিযোগ তো বছরের পর বছর বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে, সেই সব অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়াটা কি জরুরি নয়? আমার মনে হয়ে, জনগণের এ অধিকার নিশ্চিত করাটাও রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।''
আমার মনে হয় সবারই সেই প্রত্যাশা আছে মি. সরদার, যে সাধারণ জনগণ অপরাধের শিকার হলে যেন এরকম ত্বরিত এ্যাকশন দেখা যায়। তা না হলে তারা ভাবতে পারেন যে, এখানে সামরিক বাহিনীর একজন সদস্য ভিকটিম ছিলেন বলেই র্যাব দ্রুত গতিতে অপরাধীকে ধরেছেন এবং ভিন্ন একটি অপরাধে তার কারাদণ্ডও হয়ে গেছে। সরকার নিশ্চয়ই চাইবে না জনগণ সেটা ভাবুক।

ছবির উৎস, D-Keine
বাংলাদেশে যে আইন শৃঙ্খলা নিয়ে অনেক গুরুতর সমস্যা আছে, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। পুলিশের হেফাজতে মানুষের মৃত্যু তার মধ্যে একটি। সে বিষয়ে লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:
''আমার রায়হানই যেন পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুর শেষ নাম হয়'', কথাটি সাম্প্রতিককালে পুলিশ হেফাজতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া রায়হানের অভাগিনী মায়ের। বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, একজন মানুষকে আরেকজন "মানুষ হিসেবে দাবিকারী" কীভাবে এমন পাশবিক নির্যাতনে খুন করতে পারে। হাজার হোক এই খুনিকে তো দিন শেষে কোন পরিবারের কাছেই ফিরে যেতে হয়, যেখানে হয়ত রায়হানের মা'র মত মা, ফুটফুটে বাচ্চা, বউ আরো পরিজন আছেন। রায়হানের মায়ের মত আমিও প্রার্থনা করি, এটাই যেন পুলিশ হেফাজতে এই ধরণের শেষ মৃত্যু হয়।''
আপনি ঠিকই বলেছেন মি. সাঈদ, অনেকেই আশা করবেন পুলিশের হেফাজতে যেন আর কোন লোকের মৃত্যু না হয়। পুলিশ যদি আইনের অধীনে কাজ না করে, তাহলে করবে কে? কিছু দিন আগেই এ'ধরণের অপরাধ রোধে প্রণীত একটি আইনের অধীনে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সাজা দেয়া হল। কিন্তু তারপরও কিছু পুলিশ সদস্য পুরনো অভ্যাস ছাড়তে পারছেন না। সকল পুলিশ সদস্যকে আইন সম্পর্কে সজাগ করা পুলিশ প্রশাসনেরই দায়িত্ব।

ছবির উৎস, NurPhoto
আশে পাশে যা ঘটছে, তা দেখে হতাশা প্রকাশ করে গত সপ্তাহে লিখেছিলেন বাগেরহাটের কচুয়া থেকে শিবাজী মণ্ডল। তিনি আবারো হতাশা প্রকাশ করেই লিখেছেন:
''বর্তমান সময়ের বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহের দিকে একটু লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, দিনদিন মানুষের মাঝে সহনশীলতার অভাব বেড়েই যাচ্ছে। পারিবারিক, সামাজিক, ধর্মীয়, রাষ্ট্রীয় - সকল ক্ষেত্রেই মানুষ অসহিষ্ণুতার পরিচয় দিতে শুরু করছে। একজন মানুষ হিসেবে অপর মানুষের প্রতি সম্মানের ঘাটতি এখন হরহামেশাই নজরে আসে। এই পরিস্থিতির জন্য কাকে দায়ী করা যায়? সামাজিকভাবে নৈতিকতা চর্চার অভাব, পারিবারিক ভাবে সুশিক্ষার অভাব, শিক্ষাঙ্গনে মূল্যবোধ বিষয়ক শিক্ষার ঘাটতি নাকি রাষ্ট্রযন্ত্রর সঠিক নির্দেশনার অভাবকে?''
দায়ী তো সবাইকেই করা যায় মি. মণ্ডল। কিন্তু আসল কথা হচ্ছে, একজন মানুষ যখন বড় হয়, যখন তার চরিত্র গঠন হয়, তখন তার ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে তার পরিবার, শিক্ষাঙ্গন আর পাড়া-প্রতিবেশী। আমার মতে পরিবার, অর্থাৎ বা-মা'র প্রভাবই এখানে মুখ্য।

ছবির উৎস, RichVintage
এবারে ভুয়া খবর বা ফেক নিউজ নিয়ে একটি মেইল, পাঠিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে শামীম সরকার:
''ভারতে ফেক নিউজ বা ভুয়া খবর প্রচারে ভারতীয় গণমাধ্যম যেখানে দায়িত্বজ্ঞানহীন, সেখানে সাধারণ নাগরিকের আর কতখানি দায়িত্ব থাকবে? সম্প্রতি ফেক নিউজ প্রচারের জন্য একটি প্রথম সারির সংবাদসংস্থা ইন্ডিয়া টুডে জরিমানাও দিয়েছে। আর এই ফেক নিউজ প্রচারে সরকারের উদাসীনতা ও নীতিগত কারণ দায়ী বলে আমি মনে করি।ফেক নিউজ প্রচারে বিবিসি কতখানি সতর্ক?''
ফেক নিউজ বিবিসির জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ মি. সরকার এবং তা মোকাবেলা করাটা আমরা অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। ফেক নিউজ কীভাবে মোকাবেলা করা যায় সে লক্ষ্যে গত বছরই বিবিসি লন্ডনে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন করে, দিল্লিতেও কিছু ভারতীয় গণমাধ্যমকে সাথে নিয়ে অনুষ্ঠান করা হয়। 'রিয়ালিটি চেক' নামে বিবিসির নিজস্ব একটি ইউনিট আছে যাদের কাজই হচ্ছে বিভিন্ন সংবাদ বা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত খবর নিয়ে অনুসন্ধান চালানো, যাতে ফেক নিউজ চিহ্নিত করা যায়।

ছবির উৎস, Getty Images
আর কয়েক দিন পরেই বিশ্বের সম্ভবত সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্তিতে ভোগেন। সেরকম একটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিখেছেন বাগেরহাটের ফকিরহাট থেকে তন্ময় কুমার পাল:
''বিবিসি বাংলায় ইতিহাসের সাক্ষীতে দেখলাম, কীভাবে জর্জ ডাব্লিউ বুশ এক ভোটের ব্যবধানে আল গোরকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রতিবেদনে দেখলাম ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ভোটিং পদ্ধতি।
''প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই একাধিক ভোটিং পদ্ধতির মধ্যে ২০০০ সালে ফ্লোরিডায় ব্যবহৃত বাটারফ্লাই ব্যালট পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল, কারণ এটিতে ভুল হবার সম্ভাবনা বেশি। এত বড় নির্বাচন ব্যবস্থায় একাধিক ভোটিং পদ্ধতি কতটা যুক্তিযুক্ত যেখানে একটি ভোটের গুরুত্ব রয়েছে আমেরিকা সহ সারা বিশ্বের কাছে?''
আমেরিকার গোটা রাজনৈতিক কাঠামোটাই অন্য যে কোন দেশ থেকে ভিন্ন মি. পাল। এখানে প্রতিটি রাজ্য অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের ইচ্ছামত কাজ করে থাকে। নির্বাচন পদ্ধতি তার একটি। নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে স্বয়ং মার্কিন রাজনীতিকরা অভিযোগ করে থাকেন। এবার দু'পক্ষই কারচুপির সম্ভাবনার কথা বলছেন, ভোট গণনে বিভ্রান্তির কথা বলছেন। সে কারণে ২০০০ সালের মত এবারও কিন্তু পুরো বিষয় আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে।

ছবির উৎস, Getty Images
করোনাভাইরাস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্কট নিয়ে লিখেছেন সাতক্ষিরা কলেজ থেকে মোহাম্মদ আব্দুল মাতিন:
''শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি বলেছেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ অনলাইনে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট পাঠিয়ে দেবেন, এবং অনলাইনেই উত্তর সংগ্রহ করে জমা দেবেন এবং উত্তর সংগ্রহ করে তার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করবেন কর্তৃপক্ষ। মূল্যায়নে যে সব চিত্র পাওয়া যাবে, পরবর্তী বছরে সে বিষয়ে জোর দেবেন তারা।
তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক হারুন-অর রশীদ বলেছেন যে,অনার্স ৪র্থ বর্ষের বাকী ৩/৪ টা পরীক্ষা তো হবেই এবং ১ম,২য়,৩য়, বর্ষের সকল শিক্ষার্থীদের পড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এমন কি একথা ও বলা হয়েছে যে,অটো পাশের সুযোগ নাই। আমার প্রশ্ন, ২য় ও ৩য় বর্ষের পরীক্ষা এক বারে দেওয়া কি ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে আদৌ সম্ভব হবে?''
সম্ভব হবে বলে তো আমার মনে হয় না মি. মাতিন। কিন্তু সবই নির্ভর করবে কর্তৃপক্ষ কীভাবে পাঠ্য কার্যক্রম তৈরি করেন, এবং ছাত্র-ছাত্রীরা প্রস্তুতি নেবার কতটুকু সময় পায়, তার ওপর। কিন্তু এগুলোর বাইরে নিশ্চয়ই আরো জটিলতা আছে, যেগুলোর সমাধান করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তবে এটুকু বলা যায়, ছাত্র-ছাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের মুখে না ফেলাই ভাল হবে।

ছবির উৎস, NurPhoto
শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবারে লিখেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোহাম্মদ মাসুদ রানা:
''সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ কমানোর জন্য অথচ সেই শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট -টিউশনি চালিয়ে যাচ্ছে একসাথে গাদা গাদি করে, পার্কে ঘুরে বেড়াচ্ছে, হাট -বাজারে মাস্ক পরিধান ছাড়াই অবাধে চলাচল করছে। অথচ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অটো প্রমোশন দেওয়া হল। আবার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে মূল্যায়নের ঘোষণা দেওয়া হলো। সবকিছুই যখন স্বাভাবিক নিয়মে চলছে তখন শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের এই হঠকারিতায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় দীর্ঘমেয়াদী কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে না কি?''
বিষয়টা একেবারেই পরিষ্কার যে সরকার স্কুল-কলেজ খোলাকে বড় রকমের ঝুঁকি মনে করছে। বাংলাদেশে স্কুল-কলেজগুলোতে একেক ক্লাসরুমে এক সাথে অনেক ছেলে-মেয়ে ক্লাস নেয়। তাতে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি। স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েরা সংক্রমিত হলে তারা দ্রুত সেরে উঠবে ঠিকই, কিন্তু নিজেদের বাসায় তারা তাদের বাবা-মা বা আরো বয়স্ক আত্মীয়-স্বজনের জীবন বিপন্ন করতে পারে। পড়া-শোনার ক্ষেত্রে একটি বছর পানিতে গেছে, এখন পরিস্থিতি নিরাপদ হলেই স্কুল-কলেজ খুলবে বলে মনে হচ্ছে।

ছবির উৎস, NurPhoto
পরের চিঠি লিখেছেন নরসিংদী সদর থেকে ওয়ারেছ আলী খান:
''বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির ভাষ্য অনুযায়ী শুধু ঢাকা শহরেই প্রায় আশি শতাংশের অধিক গাড়িচালক মাদক সেবন করে। দেশের উচ্চ আদালত ইতোমধ্যে চালকদের মাদক সেবনের বিষয়টি পরীক্ষা করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। সেজন্য এখন থেকে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন কিংবা প্রদান কালীন তার মাদকাসক্তির বিষয়টি বাধ্যতামূলকভাবে পরীক্ষার পাশাপাশি ইতোপূর্বে চালক হিসেবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত সকলের ডোপ টেস্ট অনতিবিলম্বে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করতে হবে। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর সক্রিয় হস্তক্ষেপের কথা ব্যক্ত করেছেন। তাঁর ইচ্ছার আশু বাস্তবায়ন সড়কে শত শত মানুষের প্রাণহানি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস।''
আপনি যে ধরনের মাদক পরীক্ষার কথা বলছেন, তা উপকারে আসবে ঠিকই। কিন্তু আমার মতে তার চেয়ে বেশি উপকারে আসবে পুলিশ যদি প্রতি শহরে এবং মহাসড়কে নিয়মিত কিন্তু পূর্ব ঘোষণা ছাড়া ডোপ টেস্ট চালায়, তাহলে তা আরো বেশি কাজে দিবে। কোন দুর্ঘটনা বা অন্য কোন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে কোন গাড়িকে আটকানো হলে তার চালককে নিয়ম করে মাদক পরীক্ষা করাও একটি কার্যকরী প্রতিরোধক হবে বলে আমর বিশ্বাস।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
শহীদুল ইসলাম, তালগাছিয়া, ঝালকাঠি।
সবুজ বিশ্বাস, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বঙ্গ।
সাব্বির আহমেদ,নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এমদাদুল হক বাদশা, দক্ষিণ বনশ্রী, ঢাকা
মাহবুব রহমান মামুন, দারিয়াপুর,গাইবান্ধা
মোহাম্মদ আবু তাহের মিয়া, পীরগঞ্জ, রংপুর।
সাদিকুর রহমান, বাংলাদেশ।
শাহিন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।
দিপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।








