যৌন হেনস্থার অভিযোগে যেভাবে নাকাল বলিউড পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ

ছবির উৎস, NurPhoto
- Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
- Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি
ভারতের শীর্ষস্থানীয় ফিল্ম নির্মাতা ও মোদী সরকারের কঠোর সমালোচক বলে পরিচিত অনুরাগ কাশ্যপের বিরুদ্ধে একজন অভিনেত্রী তথা মডেল যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনার পর বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বলিউড কার্যত দুভাগ হয়ে গেছে।
পায়েল ঘোষ নামে ওই অভিনেত্রীর অভিযোগ সামনে আসার পর অনুরাগ কাশ্যপের ছবির নায়িকারা অনেকেই পরিচালকের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন, অনুরাগের প্রাক্তন স্ত্রী-রাও পুরনো স্বামীর পাশে দাঁড়িয়েছেন।
অন্য দিকে, অনুরাগ কাশ্যপের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছেন যারা সেই শিবিরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত, ভারতের জাতীয় মহিলা কমিশনও অভিযোগকারিণীকে সাহায্য করার প্রস্তাব দিয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা অনেকেই মনে করছেন, দেশের সাম্প্রতিক রাজনীতি যেভাবে বলিউডে প্রভাব ফেলছে এই বিতর্কেও তার ছায়া পড়ছে।
ব্ল্যাক ফ্রাইডে, দেভ ডি বা গ্যাংস অব ওয়াসেপুরের মতো বহু সমাদৃত ছবির পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ ইদানীংকালে বারবার শিরোনামে এসেছেন নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে।

ছবির উৎস, SUJIT JAISWAL
নরেন্দ্র মোদীর শিক্ষাগত ডিগ্রি কিংবা তার ও তার বাবার বার্থ সার্টিফিকেট দেখতে চেয়েও বিজেপি সমর্থকদের আক্রমণের মুখে পড়েছেন তিনি।
কিন্তু এই মুহুর্তে তিনি আলোচনার কেন্দ্রে পায়েল ঘোষ নামে এক অভিনেত্রী তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনার পর।
সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিস ঘোষ বলেন, ২০১৪-১৫ সাল নাগাদ একটি রোল নিয়ে কথা বলতে গেলে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে প্যান্টের জিপ খুলে অনুরাগ কাশ্যপ তার ওপর জোরজবরদস্তি করেন।
বেশ কিছু নায়িকার নাম করে না কি এমনও বলেন, ফোন করলেই তারা না কি এসে পরিচালককে তৃপ্ত করে যান।
কিন্তু প্রায় পাঁচ-ছবছর আগের এই ঘটনা নিয়ে তিনি এতদিন বাদে মুখ খুললেন কেন?

ছবির উৎস, SUJIT JAISWAL
পায়েল ঘোষ বলছেন, "বহুবার এটা নিয়ে কথা বলতে চাইলেও আমার পরিচিতরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন ওরা সাঙ্ঘাতিক লোকজন, আমার ওপর অ্যাসিড হামলা করতে পারে বা এমন কী তুলেও নিয়ে যেতে পারে।"
"অন্য অনেককেও ওরা আগে বিপদে ফেলেছে, তাই আমাকেও চুপ থাকতে বলা হয়েছিল।"
টুইটারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দপ্তরকেও এই অভিযোগ ট্যাগ করেন তিনি।
আর এটা সামনে আমার পরই বলিউড তারকা কঙ্গনা রানাওয়াত - যিনি সম্প্রতি নানা ইস্যুতে ইন্ডাস্ট্রির দিকপালদের একহাত নিচ্ছেন ও আরএসএসের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছেন - তিনি অনুরাগ কাশ্যপের গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন।
কঙ্গনা লেখেন, বলিউড আসলে অনুরাগের মতো এরকম 'যৌন শিকারি'তে ভর্তি।
এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of X post
আরো পড়তে পারেন:
অভিনেত্রী ও বিজেপি এমপি রূপা গাঙ্গুলিও টুইটারে সমর্থন জানান পায়েলকে। জাতীয় মহিলা কমিশনও স্বত:প্রণোদিতভাবে পদক্ষেপ নিতে এগিয়ে আসে।
কমিশনের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মা বলেন, "পায়েল ঘোষকে পাল্টা টুইট করে আমি জানিয়েছি এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হলে কমিশন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করবে ও পুলিশকেও ব্যবস্থা নিতে বলবে।"
আদালতে এই মামলা গড়ালেও কমিশন যে অভিনেত্রীর পাশে আছে, সে কথাও স্পষ্ট করে দেন তিনি।
তবে বলিউডে অনুরাগ কাশ্যপের সমর্থনেও এগিয়ে এসেছেন মাহি গিল, হুমা কুরেশি, সায়ামি খেরের মতো তার বহু নায়িকা, রিচা চাড্ডার আইনজীবী তো পায়েল ঘোষকে আইনি নোটিশও পাঠিয়েছেন।
পরিচালকের দুজন প্রাক্তন স্ত্রী, কাল্কি কেকলা ও আরতি বাজাজও বিবৃতি দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন - তারা এই অভিযোগের ছিঁটেফোঁটাও বিশ্বাস করেন না।

ছবির উৎস, NurPhoto
মুম্বাইয়ের সাংবাদিক ও বলিউড ওয়াচার লিসা রে বিবিসিকে বলছিলেন, "বলিউডের সবচেয়ে রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও সোচ্চার ব্যক্তিদের মধ্যে অনুরাগ কাশ্যপ অগ্রগণ্য। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে তাকে সেটারই দাম দিতে হচ্ছে বা মূল্য চোকাতে হচ্ছে।"
"বহুদিন ধরে ছবি বানাচ্ছেন অনুরাগ কাশ্যপ, কিন্তু মনে রাখতে হবে এর আগে কিন্তু কখনও তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তার টিমের কেউ কখনও করেননি।"
"আমার ধারণা বলিউডে এখন রাজনীতির অভিঘাত নিয়ে একটা তোলপাড় চলছে, আর তত সফল নন তেমন কোনও কোনও অভিনেত্রী সেই টালমাটাল সময়টারই সুযোগ নিতে চাইছেন।"
"মি-টু নিয়ে বছরদুয়েক আগে যখন বলিউডে হইচই চলছিল, তখন বা তার ঠিক পরেও কেন পায়েল ঘোষ এই অভিযোগগুলো সামনে আনেননি এটা নিয়েও কিন্তু প্রশ্ন উঠছে", বলছিলেন লিসা রে।
অনুরাগ কাশ্যপের আইনজীবীও দীর্ঘ বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, তার মক্কেল এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে কতটা ব্যথিত।
কিন্তু বলিউডের এই পরিচালক যেভাবে সাম্প্রতিককালে রাজনীতিতে জড়িয়েছেন, তাতে এই সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া তার জন্য খুব সহজ হবে না বলেই পর্যবেক্ষকদের অনেকের ধারণা।








