আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ডাকসু'র সাবেক ভিপি নূরের বিরুদ্ধে ফের মামলা
বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের বিরুদ্ধে একই ঘটনায় দ্বিতীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় ধর্ষণ, অপহরণ এবং ফেসবুকে খারাপ পোস্ট দিয়ে প্রচার করাসহ তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ২১শে সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজধানীর কোতয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে এই মামলা দায়ের করা হয়।
নতুন করা এই মামলাটিতে ছয় জনকে আসামী করা হয়েছে। এদের মধ্যে নুরুল হক নূর তিন নম্বর আসামী।
মি. হক বলেন, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার কোন বাস্তবতার ভিত্তি নেই। পুলিশি তদন্ত হলেই এ বিষয়টি সবার সামনে আসবে বলে মনে করেন তিনি।
সেই সাথে এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলেও মন্তব্য করেন মি. হক।
এর আগে ২০শে সেপ্টেম্বর লালবাগ থানায় নূরসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী একটি ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছিল।
কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, "গতকাল থানায় একটি মামলা হয়েছে ছয় জনের নামে। এই ছয় জনের মধ্যে নুরুল হক নুরও রয়েছেন।"
"এখানে ধর্ষণ, অপহরণ এবং ফেসবুকে খারাপ পোস্ট দিয়ে প্রচার করার অভিযোগ রয়েছে।"
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয় যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী দুটি ছাত্র সংগঠনের সাথে যুক্ত পাঁচজন ছাত্র এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর-এর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়। পরে সেটিকে মামলা হিসেবে রুজু করা হয়।
আরো পড়ুন:
এজাহারে বলা হয়, আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে চাঁদপুরে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণে সহায়তা করে।
অভিযোগকারী ওই ছাত্রী আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলেন, ২০১৮ সালে তার বিভাগের একজন সিনিয়র ছাত্রের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এর ধারাবাহিকতায় এ বছরের জানুয়ারি মাসে প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়।
এরপর ওই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে অভিযুক্তদের একজনের সহযোগিতায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেসময় অভিযুক্তকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়া হলে সে "বিয়ের জন্য সম্মত হয়" কিন্তু সুস্থ হওয়ার পর "তালবাহানা"করে।
পরে ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে আরেকজন অভিযুক্ত ওই ছাত্রীকে লঞ্চে করে চাঁদপুরে নিয়ে যায় এবং ফেরার সময় লঞ্চের কেবিনে তাকে 'ধর্ষণ' করে।
২০২০ সালের মে মাসে ওই শিক্ষার্থীকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ফেসবুকে একাধিক ফেইক আইডি খুলে বিভিন্ন সেক্সুয়াল গ্রুপে নাম্বার ছড়িয়ে দেয়।
এই ঘটনা জুন মাসে ডাকসু'র সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরকে মৌখিকভাবে জানানো হয়। তিনি এটি মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে জুন মাসের ২৪ তারিখে ওই শিক্ষার্থীর সাথে নীলক্ষেতে দেখা করতে যান। কিন্তু তখন মীমাংসার আশ্বাস এড়িয়ে এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন। বাড়াবাড়ি করলে 'উল্টাপাল্টা পোস্ট দেয়া এবং পতিতা' বলে প্রচার করার কথা বলেন।
এরইমধ্যে চার নম্বর আসামী এবং অন্য দুইজন ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনার কাজ করে বলে এজহারে উল্লেখ করা হয়।
মামলার বিষয়ে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর বলেন, তারা এই ঘটনার নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, "আমরা যেহেতু বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দল গঠনের দিকে আগাচ্ছি এবং বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারের স্বৈরশাসনে মানুষ অতিষ্ঠ এবং মানুষ এটার পরিবর্তন চায় এবং আমরা যেহেতু মুখ্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছি সেক্ষেত্রে সরকার আমাদেরকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য, কোণঠাসা করার জন্য এবং মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য আমাদের কয়েক জনের নাম বিশেষ করে আমার নাম জড়িয়েছে।"
চাঁদপুর যাওয়ার পথে কিংবা বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে কিনা তার একটি তদন্ত হতে পারে বলে মনে করেন ডাকসুর সাবেক এই ভিপি। তবে এখানে তার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি। ধর্ষণে সহযোগিতার কথাও অস্বীকার করেন তিনি।
"বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে মামলায় যে অভিযোগগুলো আসছে তাতে বোঝা যায় যে এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক মামলা।"
"যে সময়ে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে অর্থাৎ ৩রা জানুয়ারি তখন মার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম আমরা। আমি ১৫ দিনের মতো ভর্তি ছিলাম। এটা বোঝা যাচ্ছে যে আমাদের চরিত্র হননের জন্য এই মামলা করা হয়েছে।," তিনি বলেন।
এর আগে নুরুল হক নূরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে করা মামলার বিরুদ্ধে শাহবাগে বিক্ষোভ করেন নুরুল হক নুর ও সাধারণ ছাত্র পরিষদ নামে তার সংগঠনের সদস্যরা। সেই বিক্ষোভ চলার সময় তাদের আটক করা হয়।
আটক করার কয়েক ঘণ্টা পর তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।