ইউএই-ইসরায়েলের মধ্যে প্রথম ‘ঐতিহাসিক‘ ফ্লাইট

ইসরায়েল এবং আমেরিকান কর্মকর্তাদের নিয়ে দুই-দেশের মধ্যে প্রথম যে বাণিজ্যিক বিমানটি তেল-আবিব থেকে আবুধাবিতে গেছে, তার গায়ে ইংরেজি, হিব্রু এবং আরবিতে লেখা হয়েছে ‘শান্তি‘।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে ১৩ই অগাস্ট যে চুক্তি হয়েছে, তারপর এই প্রথম দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের সূচনা হলো।

ইসরায়েলি বিমান সংস্থা এল আলএর এলওয়াই-৯৭১ ফ্লাইটটি সৌদি আকাশ সীমার ওপর দিয়ে তিন ঘণ্টায় আবুধাবিতে নামে।

ইউএই‘র আন্তর্জাতিক টেলিফোন ডায়াল কোড ৯৭১, এবং তার সূত্রেই বিশেষ এই ফ্লাইটির নম্বর ঠিক করা হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যে যেমন এই প্রথম কোনো বাণিজ্যিক ফ্লাইট, তেমনি এই প্রথম সৌদি আরব কোনো ইসরায়েলি বিমানকে তার আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিল।

গতকাল (রোববার) ইসরায়েলি একটি টিভি চ্যানেলের (কান) এক রিপোর্টে বলা হয় যে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সৌদি আরব হয়তো শেষ মূহুর্তে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি বাতিল করতে পারে। তবে তা হয়নি।

যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ের জামাই এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও ব্রায়ান এবং ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেইর বেন-শাবাত।

জানা গেছে, মি কুশনারের গোপন মধ্যস্থতায় এই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব হয়েছে।

শনিবার আমিরাত সরকার ১৯৭২ সালে জারি করা ইসরায়েলকে বয়কটের আইনটি বাতিল করে। এছাড়া, এ মাসের গোঁড়ার দিকে প্রথমবারের মত দুই দেশের মধ্যে টেলিফোন সার্ভিস চালু হয়।

আগামী দুই দিনে ইসরায়েল এবং আমিরাতের কর্মকর্তারা বসে তাদের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র এবং মাত্রা ঠিক করবেন।

বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য সংবাদদাতা টম বেটম্যান বলছেন, ইউএই এবং ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত তিনটি দেশই নানাভাবে লাভবান হওয়ার আশা করছে - আরবদের কাছ থেকে স্বীকৃতি পাওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা ইসরায়েলের রয়েছে সে পথে তারা অনেকটাই এগিয়েছে, ইসরায়েলের অসামান্য প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা শক্তি থেকে ইউএই লাভবান হওয়ার আশা করছে, এবং নভেম্বরর নির্বাচনে দেশের ভেতর চাপে পড়া

মি. ট্রাম্পের আশা মধ্যপ্রাচ্যে এই চুক্তি তাকে নির্বাচনে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে।

লাইনে সৌদি আরব, ওমান, সুদান

সন্দেহ নেই এই চুক্তি সর্বদা বিভক্ত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন একটি মাত্রা যোগ করেছে।

রোববার মি নেতানিয়াহুর সাথে এক বৈঠকের পর মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও'ব্রায়ান বলেন, ইউএইর পথ ধরে আরো মুসলিম দেশ ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করবে।

তিনি কোনো দেশের নাম করেননি. কিন্তু ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইদানীং খোলাখুলিভাবে ওমান, সৌদি আরব, সুদান এবং মরক্কোর নাম করছেন। ফিলিস্তিনরা মনে করছে এমন অবজ্ঞার শিকার তারা আর কখনই হয়নি।

তাদের আশঙ্কা, দখলীকৃত জমি ফিরে পেয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টিতে আরবে বিশ্বের যে ঐক্যবদ্ধ চেষ্টা এতদিন ছিল ইউএই তা দুর্বল করে দিয়েছে।

ফিলিস্তিনিরা বলছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি দিনদিন প্রসারিত হচ্ছে, এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত এই বাস্তব পরিস্থিতির দিকে চোখ বন্ধ রেখে ইসরায়েলের সাথে চুক্তি করেছে।

‘শান্তির বদলে শান্তি‘- নেতানিয়াহু

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বিনইয়ামিন নেতানিয়াহু এক টুইটে আজকের ফ্লাইটকে 'শান্তির বদলে শান্তি'র একটি উদাহরণ হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

সংবাদদাতারা বলছেন, দখল করা ফিলিস্তিনি ভূমিকে ব্যবহার করে আরব বিশ্বের সাথে শান্তি স্থাপন সম্ভব বলে তার যে বিশ্বাস এই টুইটের ভেতর দিয়ে মি. নেতানিয়াহু সেটাই পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের কিছু অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের অংশ করে নেওয়ার যে পরিকল্পনা মি.নেতানিয়াহু করেছিলেন, ইউএইর সাথে চুক্তির বিনিময়ে তিনি সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে রাজী হয়েছেন। তবে তার এই প্রতিশ্রুতিতে ফিলিস্তিনিরা একেবারেই ভরসা রাখতে পারছে না।

ইউএই‘র আগে আরব বিশ্বর মাত্র দুটি দেশ - মিশর এবং জর্ডান- ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছে। মিশর ইসরায়েলের সাথে শান্তি চুক্তি করে ১৯৭৮ সালে এবং জর্ডান করেছে ১৯৯৪ সালে।

আরব লীগের আরেক সদস্য মৌরতানিয়া ১৯৯৯ সালে ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করলেও, ২০১০ সালে সম্পর্ক ছেদ করে দেয়।