বাংলাদেশে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র সিনহা-সহ ১১ জনের বিচার প্রক্রিয়া শুরু

বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা

ছবির উৎস, SUPREME COURT

ছবির ক্যাপশান, বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা

ফারমার্স ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ এগার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে ঢাকার একটি আদালত।

ফলে প্রায় চার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে আত্মসাতের এ মামলায় মিস্টার সিনহাসহ ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলো বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী আবু আব্দুল্লাহ।

সরকারের সঙ্গে প্রচণ্ড মতবিরোধের জের ধরে এক পর্যায়ে দেশ ছেড়ে বিদেশে গিয়ে প্রধান বিচারপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন মিস্টার সিনহা।

প্রথমে কিছুদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে পরে কানাডায় বসবাস করতে শুরু করেন তিনি।

এর আগে গত বছর ৯ই ডিসেম্বর বিচারপতি সিনহাসহ এগার জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলো দুর্নীতি দমন কমিশন।

চলতি বছরের ১১ই জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলো আদালত।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বইয়ের প্রচ্ছদ

ছবির উৎস, -

ছবির ক্যাপশান, সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বইয়ের প্রচ্ছদ

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিলো, 'আসামীরা পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে নিজেরা লাভবান হয়ে এবং অন্যদের লাভবান করে অবৈধভাবে ভুয়া ঋণ সৃষ্টির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে নগদে উত্তোলন ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে গোপনে পাচার করেছেন'।

অভিযোগপত্রে আরো যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছিলো তারা হলেন:

  • ফারমার্স ব্যাংকের অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশত
  • সাবেক এমডি এ কে এম শামীম
  • সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন
  • ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়
  • ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী
  • ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ লুৎফুল হক
  • টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহজাহান
  • সেখানকার বাসিন্দা নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা
  • রনজিৎ চন্দ্র সাহা এবং তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়।

এদের মধ্যে মাহবুবুল হক চিশতী কারাগারে রয়েছেন।

তার আগে এস কে সিনহার ব্যাংক হিসাবের চার কোটি টাকা জব্দ করা হয়।

ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করে গত বছরের ১০শে জুলাই এস কে সিনহাসহ ১১জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছিলেন দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন।

তবে বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিলেন নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছেন।