ঋণ জালিয়াতি মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা

ছবির উৎস, SUPREME COURT

ছবির ক্যাপশান, বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা

ফারমার্স ব্যাংক (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) থেকে চার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ ১১ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ঢাকার একটি আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দেয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ এই আদেশ দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এসকে সিনহা বর্তমান কানাডায় রয়েছেন। সেখানে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন।

গত ৯ই ডিসেম্বর বিচারপতি এস কে সিনহাসহ ১১জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে নিজেরা লাভবান হয়ে এবং অন্যদের লাভবান করে অবৈধভাবে ভুয়া ঋণ সৃষ্টির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে নগদে উত্তোলন ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে গোপনে পাচার করেছেন।

অন্য যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেখা হয়েছে, তারা হলেন ফারমার্স ব্যাংকের অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী, সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো: লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো: শাহজাহান, সেখানকার বাসিন্দা নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, রনজিৎ চন্দ্র সাহা এবং তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়।

আরো পড়ুন:

সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বইয়ের প্রচ্ছদ
ছবির ক্যাপশান, সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বইয়ের প্রচ্ছদ

এদের মধ্যে মাহবুবুল হক চিশতী কারাগারে রয়েছেন।

তার আগে এস কে সিনহার ব্যাংক হিসাবের চার কোটি টাকা জব্দ করা হয়।

ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করে এ বছরের ১০শে জুলাই এস কে সিনহাসহ ১১জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন।

২০১৭ সালে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত একটি মামলার আপিলের রায়কে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং সরকারের কাছ থেকে প্রচণ্ড চাপের মুখে বিচারপতি সিনহা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

টাকা পাচার সংক্রান্ত অভিযোগের জবাবে তিনি বিবিসি বাংলাকে এর আগে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছেন।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর: