সড়ক নিরাপত্তা: ২০১৯ সালে সড়কে দুর্ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা বেড়েছে যে কারণে

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশে ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ও দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে বলে উঠে এসেছে সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে করা নিরাপদ সড়ক চাইয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯'এ সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৮৮ জন বেশি নিহত হয়েছেন।
নিরাপদ সড়ক চাই'এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন এসব দুর্ঘটনার বেশিরভাগই হচ্ছে মহাসড়কে আর দুর্ঘটনার হার বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারির অভাব।
"অনেক নির্দেশনা, আইনই মানা হয় না এবং সেগুলো নজরদারির আওতায়ও থাকে না। মূল শহরের রাস্তায় বা মহাসড়কে কম গতির যানবাহনগুলো না চলার বিষয়ে যে নির্দেশনা ছিল, তা অনেকাংশেই মানা হয় না।"
উদাহরণ হিসেবে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক বিষয়ে কিছু তথ্য তুলে ধরেন ইলিয়াস কাঞ্চন। জানান, গত বছরে এই মহসড়কে মৃত্যুর হার ছিল সবচেয়ে বেশি।
আরো পড়ুন:
৪৯ লাখ ৮৯ হাজার টাকাপ্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ক্ষতির পরিমাণ
২ লাখ ৩৮ হাজার টাকামারাত্মক দুর্ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ
সাধারণ দুর্ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা
"ঐ মহাসড়কটি চার লেন হলেও সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা সহ কম গতির নানা যানবাহন চলাচল করে। এছাড়া একটু পর পর দেখা যায় রিক্সা স্ট্যান্ডের মত জায়গায় মানুষ জমায়েত করে থাকে।"
তিনি বলেন, চার লেন হওয়ার পর রাস্তায় যানবাহনের গতি বেড়েছে, কিন্তু একইসাথে রাস্তায় কম গতির যানবাহন চলাচল করতে দেয়ায় দুর্ঘটনার হারও বেড়েছে।
আর এই কম গতির যানবাহনের চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ না থাকাও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন তিনি।
ইলিয়াস কাঞ্চন জানান গত এক বছরে দেশের সড়কে যানবাহন বেড়েছে ১০ লাখেরও বেশি, কিন্তু সেই অনুপাতে কর্তৃপক্ষের নজরদারি না বাড়ার কারণে দুর্ঘটনার হার বেড়েছে।

ছবির উৎস, Getty Images
হাইওয়ে পুলিশ কী বলছে?
বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি তানভির হায়দার চৌধুরী দাবি করেন কার্যপরিধি ও জনবল কম থাকার কারণে মহাসড়কের সব অংশে নজরদারি নিশ্চিত করতে পারে না পুলিশ।
"হাইওয়ে পুলিশের মোট ৭৬টি আউটপোস্ট আছে, কিন্তু সেগুলো সকল মহসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়ক কাভার করে না।"
তিনি জানান তাদের কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজও করছে তারা।
তবে পুলিশের জনবল কম থাকার অজুহাত অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন ইলিয়াস কাঞ্চন।
তার মতে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং পুলিশের পাশাপাশি যানবাহন চালকদের যথাযথ দেয়ার মাধ্যমে দুর্ঘটনার হার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
"প্রযুক্তির যুগে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে জনবলের অজুহাত দেয়া একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। আধুনিক প্রযুক্তি এবং প্রশিক্ষন দেয়ার জন্য বিনিয়োগ করে বর্তমান লোকবলের দক্ষতা বাড়ালেই অনেকাংশে দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব।"








