করোনা ভাইরাস আর আম্পানের তাণ্ডব নিয়ে প্রশ্ন, 'হিন্দু-বিদ্বেষ' নিয়ে অভিযোগ

ছবির উৎস, Getty Images
করোনা ভাইরাস বা ঘূর্ণিঝড় আম্পানের মত দুর্যোগের সময় সবাই যুক্তিসঙ্গত কারণেই কৃষক, শ্রমিক এবং নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে কথা বলেন। কিন্তু লকডাউন এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতার সময় যে মধ্যবিত্তরাও বিপর্যয়ের মুখে পড়েন, সেকথা অনেকেই ভুলে যান।
সে কথাই মনে করিয়ে দিয়েছেন ঢাকার নিলুফার আক্তার:
''আমরা মধ্যবিত্তরা কেমন আছি, এই ব্যাপারে কেউ কোনো কথা বলছেনা। এদিকে বাড়িওয়ালা ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে, স্কুল থেকে ছেলের বেতন বাবদ ১৫,০০০/- দাবি করা হয়েছে, সবকিছুর দামও অনেক বেশি বেড়ে গেছে। আমার হাসবেন্ড একটি মাল্টিন্যাশনালে আগে কাজ করতেন, সেটিও গণহারে সবাইকে ছাঁটাই করে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাবার পর একটা লোকাল কোম্পানিতে বর্তমানে কাজ করছেন, যারাও অনেক কষ্টে এমাসে ৬০ শতাংশ বেতন দিতে পেরেছেন।
''আগামী মাসে কী হবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। এভাবে যদি সব দিক থেকে অমানবিকভাবে চাপ দেয়া হতে থাকে, তবে আমরা কীভাবে চলবো? আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।''
মধ্যবিত্ত সমাজের পরিস্থিতি যে বেশ জটিল তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই মিসেস আক্তার। তবে চাকুরীজীবীরা সরাসরি কোন সাহায্য না পেলেও, তারা যে কোম্পানিতে কাজ করেন, তারা হয়তো সরকারের কাছ থেকে সহায়তা পেতে পারেন, যাতে তারা কর্মচারীদের বেতন দিতে পারেন। শিল্প খাত, কৃষি খাতে সরকারি সাহায্যের কথা শোনা গেছে, বড় অংকের অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। চাকুরীজীবী মধ্যবিত্ত যাতে ধাক্কা সামলাতে পারে তার ব্যবস্থাও সরকার নিশ্চয়ই করবে।
এই মহামারি সমাজে মূল্যবোধ অনেকটা নষ্ট করে দিয়েছে বলে মনে করছেন ঝিনাইদহর কাজী সাঈদ:
''করোনা ভাইরাস আমাদেরকে অনেক কিছুই শিখিয়ে যাচ্ছে। বিপদগ্রস্ত সঙ্গীকে কত অমানবিকভাবে আমরা ছেড়ে যেতে পারি তা বোধকরি করোনা না এলে আমার বুঝতেই পারতাম না। খুব কষ্ট লাগে যখন দেখি একান্ত কাছের মানুষ করোনা রোগীকে ছেড়ে পালাচ্ছে, বাড়িওয়ালা করোনা রোগী ভাড়াটিয়াকে বের করে দিচ্ছে।
''বিপরীত চিত্রও যে নেই তাও না। বিবিসি বাংলারই একটা ভিডিও প্রতিবেদন দেখলাম যেখানে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি প্রবাসীরা বিলাসবহুল হোটেল গুলোতে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন। শুধু তাই না, তাদেরকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে যত্ন সহকারে রাখা হচ্ছে। আসলে এমনটাই তো হওয়া উচিত। এই করোনা একদিন থাকবে না,থেকে যাবে মানুষের প্রতি মানুষের মমত্ববোধ আর অগাধ ভালোবাসা, এটাই কাম্য।''
আপনার সেন্টিমেন্ট ঠিক আছে মি. সাঈদ, কিন্তু এটাও ঠিক যে মানুষের যে অমানবিকতার কথা আপনি তুলে ধরেছেন, সেটা এসেছে আতঙ্ক থেকে। এই আতঙ্ক অজ্ঞতা বা কুসংস্কার থেকে আসতে পারে। কিন্তু করোনা ভাইরাস রোধে যে বার্তা আমরা মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি সেটাও আতঙ্কের জন্য আংশিক দায়ী।
কোভিড-১৯ অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি ভাইরাস, সেজন্যই মানুষকে একে অপর থেকে ছয় ফিট দূরে থাকতে বলা হয়েছে। এই ছোঁয়াচে ভাইরাস থেকে মৃত্যু হতে পারে, এই ভয়েই মানুষ এক অপরের প্রতি সন্দিহান হয়েছে, এবং সরকারি পরামর্শ অনুযায়ী সবার থেকে দূরে থাকছেন।
করোনা ভাইরাস রোধে লকডাউন আদৌ কোন কাজ করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বরিশালের বাকেরগঞ্জ থেকে মোবারক হোসাইন:
''করোনা পরিস্থিতির জন্য অনেকেই লকডাউন লকডাউন বলে চিৎকার করছে। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য কি লকডাউন মানা সম্ভব? আর লকডাউন এই পর্যন্ত যতটুকুই মানা হয়েছে তার কি কোনো প্রতিফলন পাওয়া গেছে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে এই করোনা হয়তোবা কখনোই আমাদের ছেড়ে যাবেনা তাই আমাদেরকে করোনার সাথেই চলতে হবে।
''লকডাউন দিয়ে তো আর করোনা নির্মূল করা যাবে না। হয়তোবা কিছু সময়ের জন্য দমিয়ে রাখা যেতে পারে কিন্তু সেটা কতদিন দমিয়ে রাখা সম্ভব? তাই আমার মতে সবকিছু খুলে দেওয়া হোক। এবং তারপরে যতটুকু সম্ভব আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বা যেভাবে নিজেকে সেভ করে চলা যায় সেভাবে আমরা চলবো।''

ছবির উৎস, Barcroft Media
এই বিতর্ক এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলছে মি. হোসাইন। লকডাউনের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, হয়তো অনেক কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে যাবে, লক্ষ লক্ষ লোক চাকরি হারিয়েছেন, অনেকে পথে বসার উপক্রম। শুধু বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশেই না। বিশ্বের সব চেয়ে ধনী দেশ যুক্তরাষ্ট্রে তিন কোটিরও বেশি মানুষ কাজ হারিয়েছেন। তাই আপনার মত অনেকে বলছেন, যথেষ্ট হয়েছে. করোনা থেকে বাঁচার জন্য গোটা অর্থনীতি যদি ভেস্তে যায় তাহলে কোটি কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে।
অন্যদিকের বক্তব্য হচ্ছে, লকডাউন আরো অনেক আগে করা উচিত ছিল, দেরিতে করার ফলে এত লোক সংক্রমিত হয়েছে, এত লোক মারা যাচ্ছে। এখন যদি লকডাউন তুলে নেয়া হয়, তাহলে সংক্রমণ আবার হু হু করে বাড়বে। দু'দিকের যুক্তিই জোরালো। পশ্চিমা দেশগুলোর সরকার লকডাউন তোলার পক্ষে, কিন্তু ধীরে ধীরে, পরিস্থিতি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করে তারপর। কিন্তু এ'কথা অনস্বীকার্য যে, এই মহামারি সব দেশেই মানুষকে যেমন আতঙ্কগ্রস্ত করেছে, তেমনি লকডাউন থেকে মুক্তি পাবার জন্য অস্থির করে দিয়েছে।

ছবির উৎস, Pierre Suu
করোনা ভাইরাস নিয়ে যখন সারা পৃথিবী আতঙ্কগ্রস্ত, তখনি ভারত এবং বাংলাদেশে আঘাত হানে সাইক্লোন আম্পান। এই ঘূর্ণিঝড়ের কাভারেজ নিয়ে প্রশ্ন করেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''বুধবার ঘূর্ণিঝড়টি যখন ভারত এবং বাংলাদেশের উপর দিয়ে মুভ করছে ঠিক সেই সময়ে পরিক্রমার ফোন-ইনে করোনা সম্পর্কে শ্রোতাদের উত্তর দেওয়া কি খুবই প্রাসঙ্গিক বা জরুরি ছিল? ফোন-ইন এর পরিবর্তে ঘূর্ণিঝড় আম্পান এর আরও খবর দিলে ভালো হতো বলেই আমার মনে হয়।''
ভাল প্রশ্ন করেছেন মি. সরদার। ঘূর্ণিঝড় আম্পান নিয়ে গত দু'তিন দিন ব্যাপক কাভারেজ দেয়া হয়েছে। আমাদের ওয়েবসাইটের লাইভ পেজ মঙ্গলবার থেকেই করোনা ভাইরাসের পরিবর্তে আম্পানের খবর নিয়ে করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের এটাও মনে রাখতে হয়েছে যে, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ এখনো বাড়ছে, কমছে না। কাজেই ভাইরাস সংক্রান্ত খবর বা তথ্য থেকে আমাদের নজর সরালে চলবে না। সোমবার এবং বুধবারের ফোন-ইন এক ধরণের সেবামূলক অনুষ্ঠান, যেখানে শ্রোতারা তাদের স্বাস্থ্যের প্রতি এই বিশাল হুমকি সম্পর্কে জানতে পারেন, নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারেন।
ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রসঙ্গেই পরের চিঠি, লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:
''বিবিসি সুপার সাইক্লোন আম্পানের শুরু থেকেই এর যাবতীয় খবর খুব গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে। মুন্নী আকতারের প্রতিবেদনে সামাজিক দূরত্ব মানতে না পারার বেশ উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। তবে একদিকে করোনা ভাইরাসের মহামারি অন্যদিকে সাইক্লোন আম্পানের আঘাত থেকে রক্ষার জন্য প্রাণপণে আশ্রয় কেন্দ্রে ছুটে চলা। দুটোই ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু অনিবার্য অনুষঙ্গ। এটাই উপকূলবর্তী মানুষের বাঁচা মরার সংগ্রাম।
''বিগত তিন চার দশক আগে এ ধরণের দুর্যোগে যেখানে লক্ষ লক্ষ লোক মারা যেত, সেখানে দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতার কারণে এখন প্রাণহানির সংখ্যা খুবই হাতেগোনা কয়েকজন। দুর্যোগ মোকাবেলায় মানুষের সচেতনতা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে দুর্যোগ মোকাবেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দুর্যোগ প্রস্তুতির তথ্যও দ্রুত সবার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।''

ছবির উৎস, মানিক হোসেন
আপনার সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত মি. রহমান। ঘূর্ণিঝড়ের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্ধ করার কোন উপায় নেই। কিন্তু তার আঘাত থেকে জীবন এবং জীবিকা রক্ষা করার পথ মানুষকে বের করতেই হবে। বাংলাদেশ সরকার এবং জনগণ জীবন রক্ষা করার পথ বের করেছে। এখন ধ্বংসযজ্ঞের পর দ্রুত জীবিকা উদ্ধারই হবে প্রধান কাজ।
আবার ফিরে যাচ্ছি করোনা ভাইরাস প্রসঙ্গে। এবার অভ্যাস পরিবর্তন নিয়ে লিখেছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে মোহাম্মদ রেজাউল রহিম:
''চলতি মাসের কুড়ি তারিখে ফেসবুকে বিবিসি নিউজ বাংলায় একটি প্রতিবেদন দেখলাম, যেখান বলা হয়েছে, হাত ধুলে করোনাভাইরাসের মত জীবাণুর সংক্রমণ কমে বলে ব্রিটেনের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে। খবরটি আমার কাছে বেশ আশাব্যঞ্জক মনে হয়েছে ।
''প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ ছিলো" নিয়মিত অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া করোনাভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায়। তাছাড়া বাইরে বেরনোর পর অথবা গণ পরিবহন ব্যবহার করার পরও হাত ভাল করে ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত" কিন্তু আমরা মানুষরা সে অভ্যাসটা কি আদৌ আমাদের প্রাত্যাহিক জীবনে চর্চা করতে পারবো?''
পারবেন না কেন মি. রহিম? চেষ্টা করলেই পারবেন। কথায় আছে, মানুষ অভ্যাসের দাস। কোনো জিনিস আপনি মনোযোগ দিয়ে নিয়মিত করলে অভ্যাসে পরিণত হবে বলে আমার বিশ্বাস।

ছবির উৎস, Getty Images
করোনাভাইরাস থেকে দ্রুত পরিত্রাণ পাবার আশা প্রকাশ করে লিখেছেন চাঁপাই নবাবগঞ্জের চর হরিশপুর থেকে মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন:
''করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ এ বিশ্ব আজ স্তব্ধ। বিশ্বের মতো আমরাও অনেকেই ঘরে বসে আছি। আবার কেউ কেউ নিয়ম বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রয়োজনে বাহিরে যাচ্ছি। খবরেও আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনেক উৎসাহ দিচ্ছে বিবিসি বাংলা। এতে আমরা অনেকটা সাহস ও শক্তি পাচ্ছি। আতঙ্কিত না হয়ে প্রতিদিনই সতর্ক হচ্ছি।
''করোনা ভাইরাস নিয়ে বিবিসি বাংলার নিয়মিত ফোন-ইন অনুষ্ঠান খুব ভালো লাগছে। এতে বিশেষজ্ঞ কর্তৃক শ্রোতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আমরা উপকৃত হচ্ছি। করোনা ভাইরাস থেকে অতি দ্রুত আমরা পরিত্রাণ পাবো এ কামনায়।''
আমাদের অনুষ্ঠান এবং ওয়েবসাইটে উপদেশমূলক প্রতিবেদন আপনাদের উপকারে আসছে জেনে আমাদেরও ভাল লাগলো মি. হোসেন। আপনার সাথে আমরাও আশা করছি গোটা বিশ্ব এই মহামারি থেকে শীঘ্রই মুক্তি পাবে।
এবারে অন্য প্রসঙ্গে আসি। বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার প্রসঙ্গে লিখেছেন গাজীপুরের টঙ্গী থেকে জ্যোতিষ রায়:
''বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দুদের উপরে অত্যাচারের মাত্রাটা অনেক বেড়ে গেছে। তার প্রমাণ আপনাদের কাছে অনেক আছে। বাংলাদেশের কোন টিভি চ্যানেল সে ঘটনা গুলো প্রচার করেনা। আর এর কারণে অত্যাচারে মাত্রা আরো বেড়ে যাচ্ছে দিনে দিনে।''
আপনি একদিক থেকে ঠিকই বলেছেন মি. রায়, যে কোন সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচারের ঘটনা ধামা-চাপা দেয়া হলে সেটা অত্যাচারকারীদের উৎসাহিত করে। তবে অত্যাচারের ঘটনার অনেক প্রমাণ আমাদের কাছে আছে, এ'কথা মানতে পারলাম না। আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, প্রমাণ আমাদের কাছে আসলে আমরা অবশ্য তা নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করবো। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সাম্প্রতিক ঘটনা আমরা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছি:

ছবির উৎস, MASUK HRIDOY
তবে ভারত থেকে অর্ক রায় বিবিসি বাংলার বিরুদ্ধে হিন্দু বিদ্বেষের অভিযোগ এনেছেন:
''বিবিসি বাংলাকে দেখলাম বেশ কয়েক বছর ধরে ইচ্ছাকৃতভাবে হিন্দু বিদ্বেষী নিউজ প্রকাশ করে যাচ্ছে। হুগলীতে তেলেনীপাড়ায় দাঙ্গার খবর প্রকাশ করতে গিয়ে বিবিসি বাংলা শিরোনাম দিয়েছে মুসলিমদের উপর হিন্দুরা নাকি আক্রমণ করেছে। এখানে খুব সুকৌশলভাবে বিবিসি হিন্দু মুসলিম শব্দগুলো ব্যবহার করেছে।
''অথচ বাংলাদেশে যখন অর্থাৎ নিজের দেশে যখন হিন্দুদের উপর মুসলিমরা আক্রমণ করে যেমন নাসিরনগর, ভোলাতে তখন বিবিসি হিন্দু মুসলিম শব্দের পরিবর্তে " দুষ্কৃতি" শব্দ ব্যবহার করে কিন্তু ভারতে একই ঘটনা ঘটলে তখন সরাসরি হিন্দু মুসলিম শব্দ ব্যবহার করে। এতেই প্রমাণিত হয় বিবিসি তীব্র হিন্দু বিদ্বেষী ও বাংলাদেশের মুসলিমদের খুশি করতে নিজের দেশে হিন্দু অত্যাচারের ঘটনার সময় "দুষ্কৃতি" শব্দ ব্যবহার করে।''

আপনার বক্তব্যে বেশ কিছু ভুল আছে মি. রায়। প্রথমত, হুগলীর ঘটনার খবরের শিরোনামে বলা হয়নি যে হিন্দুরাই মুসলিমদের ওপর হামলা করেছে। ঘটনা যেভাবে ঘটেছে, সেভাবে শিরোনাম এবং রিপোর্ট করা হয়েছে।
বিবিসি বাংলা বাংলাদেশি গণমাধ্যম নয়। এটি ব্রিটিশ পাবলিকের অর্থায়নে আন্তর্জাতিক সংস্থা। বিবিসি বাংলাদেশে মুসলিম বা অন্য কাওকে খুশি করার জন্য কিছু করে না। বরং, আপনি যে ভাষায় আমাদের নিন্দা করছেন, আমরা প্রতি নিয়ত বাংলাদেশের বিভিন্ন মুসলিম গোষ্ঠীর কাছ থেকে একই ভাষায় নিন্দার লক্ষ্যবস্তু হই।
ভোলার ঘটনা ছিল ভিন্ন। সেখানে একটি ফেসবুক পোস্ট কেন্দ্র করে ইসলামী সংগঠনের সমর্থকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পুলিশের গুলিতে চারজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়। ভোলা ঘটনা নিয়ে আমরা বেশ কয়েকটি রিপোর্ট করেছি, সেখানে কাওকে দুষ্কৃতি বলে অভিহিত করা হয়নি। আমাদের কয়েকটি রিপোর্টের তার মধ্যে দুটোর লিঙ্ক এখানে দিলাম, পড়ে দেখতে পারেন:

আপনি যদি বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট কোন ঘটনা নিয়ে শিরোনামে মুসলিম শব্দটি নেই বলে অভিযোগ করেন, তাহলে সেটা নিয়ে আমি দ্বিমত পোষণ করবো না, কিন্তু সকল প্রতিবেদনেই পরিষ্কার করেই বলা হয়েছে যে হিন্দুরাই সেখানে আক্রান্ত হয়েছে এবং কারা এই হামলা করেছে সেটারও খোলা-খুলি ব্যাখ্যা দেয়া আছে। কাজই, আপনার ঢালাও অভিযোগ যে বিবিসি বাংলা হঠাৎ করে হিন্দু বিদ্বেষী হয়ে গেছে, সেটা মানার কোন প্রশ্নই ওঠে না।
শেষ করার আগে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
শামীম সরকার, দক্ষিণ দিনাজপুর, পশ্চিমবঙ্গ।
ফয়সাল আহমেদ সিপন, ঘোড়াদাইড় , গোপালগঞ্জ
আহমেদ সুমন, সাভার, ঢাকা।
বিপুল মণ্ডল, কোটালিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
সন্তোষ সরেন, তানোর, রাজশাহী।
বি, এম, কৌশিক আহমেদ সুজন, ঘোড়াদাইড়, গোপালগঞ্জ ।
ইসমাইল হোসেন বাবু, লক্ষ্মীপুর।
সুব্রত গুপ্ত, দমদম, পশ্চিমবঙ্গ।
মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান মিয়া, দক্ষিন টুটপাড়া, খুলনা।











