মহাকাশযান : আমেরিকার গোপন সামরিক বিমান মহাকাশে রহস্যময় মিশনে

কেপ ক্যানাভেরল থেকে উৎক্ষেণ করা অ্যাটলাস ভি রকেট বহন করছে এক্স ৩৭বি নামে মহাকাশযান

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, রোববার মহাকাশ কেন্দ্র কেপ ক্যানাভেরল থেকে অ্যাটলাস ভি রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।

আমেরিকান বিমান বাহিনী অ্যাটলাস ভি নামে একটি রকেট সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে। এই রকেটে করে এক্স-৩৭- বি নামে একটি মহাকাশযান পাঠানো হয় এক গোপন মিশনে।

মহাকাশ কেন্দ্র কেপ ক্যানাভেরল থেকে রোববার এই রকেট ছাড়া হয়। শনিবারই এটি উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে সেটা একদিন পেছিয়ে দেয়া হয়।

মহাকাশযানটি অরবিটাল টেস্ট ভেহিক্যাল নামেও পরিচিত, যেটি কক্ষপথে একটি উপগ্রহ ছাড়বে, এছাড়াও বিচ্ছুরণ-শক্তি সংক্রান্ত প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা চালাবে।

এটি মহাকাশে এই বিমানের ষষ্ঠ মিশন।

এই মহাকাশ মিশন করোনাভাইরাস মহামারি যাদের ওপর প্রভাব ফেলেছে এবং এই মহামারি সামাল দিতে যারা সামনের সারিতে থেকে কাজ করছে তাদের উৎসর্গ করা হয়েছে। রকেটের গায়ে এই মর্মে একটি বার্তা লেখা হয়েছে এবং তাতে আরও লেখা হয়েছে "America Strong" বা "শক্তিশালী আমেরিকা"।

এক্স-৩৭-বি আমেরিকান গোয়েন্দা বিভাগের একটি গোপন কর্মসূচি। অ্যাটলাস রকেট পরিচালনার কাজ করে যে সংস্থা ইউনাইটেড লঞ্চ অ্যালায়েন্স তাদের বলা হয়েছে এই যাত্রার বিবরণ সংক্রান্ত কোনরকম ওয়েবকাস্ট একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর বন্ধ করে দিতে হবে।

পেন্টাগন এই মহাকাশযানের মিশন এবং যানটির সক্ষমতা অর্থাৎ এটি কী করতে পারে, সে সম্পর্কে খুবই কম তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে এ মাসের গোড়ার দিকে বিমানবাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী বারবারা ব্যারেট বলেছিলেন: ''এক্স-৩৭-বি মিশন এমন কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাবে যা আগের কোন মিশনে কখনও চালানো হয়নি।''

এটা জানা গেছে যে মহাকাশযানটির ভেতরে বীজ এবং অন্যান্য জিনিসের ওপর তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব পরীক্ষা করে দেখা হবে।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন:

কেপ ক্যানাভেরল থেকে রকেট উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, এক্স-৩৭-বি একটি গোপন কর্মসূচি এবং তাদের অতীত মিশনগুলো সম্পর্কে খুবই কম জানা যায়।

এক্স-৩৭-বি কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। এই কর্মসূচিতে জড়িত আছে দুটি মহাকাশযান। ২০১১ সালে আমেরিকার মহাকাশ কর্মসূচিতে ক্রু নিয়ে যেতে পারে এমন যে ছোট আকারের মহাকাশযানগুলো ছিল, যেগুলো এখন আর ব্যবহার হচ্ছে না, তেমনই দুটি মহাকাশযান এই এক্স-৩৭-বি কর্মসূচির কাজে ব্যবহার হচ্ছে।

এগুলো আকাশ দিয়ে ভেসে নিজেই রানওয়েতে অবতরণ করতে পারে। যে ক্ষমতা স্পেস শাটলগুলোর আছে।

বোয়িং-এর তৈরি এই বিমানগুলো কক্ষপথে চলে সৌরশক্তিতে। এগুলো নয় মিটার লম্বা- ২৯ফুট, ডানার বিস্তার প্রায় ১৫ ফুট এবং ওজন ৫ হাজার কিলোগ্রাম।

এই কর্মসূচির প্রথম বিমানটি পাঠানো হয়েছিল ২০১০-এর এপ্রিলে এবং আট মাস মহাকাশে থাকার পর সেটি ফিরে এসেছিল।

সর্বশেষ মিশনটি ছিল ২০১৯এর অক্টোবরে এবং সেটি কক্ষপথে ছিল ৭৮০দিন। এর ফলে এই গোপন কর্মসূচি থেকে পাঠানো মহাকাশযান মহাকাশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করার কাজে সময় দিয়েছে সর্বমোট সাত বছরের বেশি।

গতকাল শুরু হওয়া মিশনটি কতদিন ধরে চলবে বা কী এর উদ্দেশ্য তা গোপন রাখা হচ্ছে।