স্বাধীনতা পুরস্কার তালিকা থেকে বাদ গেল এস. এম. রইজ উদ্দিন আহম্মদের নাম

ছবির উৎস, এস এম রইজ উদ্দিন আহম্মদ
বাংলাদেশে স্বাধীনতা পুরষ্কারের জন্য একজনের নাম ঘোষণা করেও সমালোচনার মুখে তা বাতিল করা হয়েছে।
সরকার ২০২০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার বিজয়ীদের একটি নতুন তালিকাটি প্রকাশ করেছে যাতে দেখা যাচ্ছে সাহিত্য ক্যাটগরিতে পুরস্কারপ্রাপ্ত এস এম রইজ উদ্দিন আহম্মদের নাম সেখানে নেই।
গত ২০শে ফেব্রুয়ারি স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২০ পাওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যে তালিকা প্রকাশ করে, তাতে মি. আহম্মদকে সাহিত্য ক্যাটেগরিতে ঐ পুরষ্কার দেয়া হয়। তালিকায় মোট নয় ব্যক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল।
কিন্তু ১২ই মার্চ বৃহস্পতিবার মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে যে সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করে তাতে দেখা যায় সাহিত্য ক্যাটগরিতে বিজয়ী ঘোষিত এস এম রইজ উদ্দিন আহম্মেদের নাম তাতে নেই। এমনকি সাহিত্য ক্যাটগরিটিই সেখানে নেই।
স্বাধীনতা পুরষ্কারের তালিকা পরিবর্তনের বিষয়ে মি. আহম্মদের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।

আর তালিকায় এই নাম পরিবর্তনের প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে কোন ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়নি।
চলতি বছর সাহিত্য ক্যাটেগরিতে কাউকে এই পুরষ্কার দেয়া হবে কীনা, সে সম্পর্কেও কোন তথ্য জানা যায়নি।
স্বাধীনতা পুরষ্কার ২০২০-এর প্রথম তালিকা ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে মি. আহম্মদকে নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়।
মি. আহম্মদের নাম শোনেননি কিংবা তার সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা নেই বলে অনেকে সোশাল মিডিয়ায় মত প্রকাশ করেন।
এদেরই একজন ছিলেন বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক। অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান ফেসবুকে এক পোস্টে লেখেন: "এবার সাহিত্যে স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন রইজউদ্দীন, ইনি কে? চিনি না তো। কালীপদ দাসই বা কে! হায়! স্বাধীনতা পুরস্কার!"

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর:
সরদার ফারুক নামের একজন মন্তব্য করেন: "পুরস্কার পেলেন এস এম রইজ উদ্দিন আহম্মদ। তাঁকে প্রাণঢালা অভিনন্দন। তবে তিনি কে, অথবা তিনি কোথায়, কবে, কী লিখেছেন এসব জানতে চেয়ে লজ্জা দেবেন না"।
এস এম রইজ উদ্দিন আহম্মদ বিবিসিকে যা বলেছিলেন:
স্বাধীনতা পুরষ্কার বিজয়ীদের প্রথম তালিকায় নাম প্রকাশের পর সাবেক সরকারি কর্মকর্তা মি. আহম্মদের সাথে বিবিসি বাংলার কথা হয়। তিনি জানান, গত ২০শে ফেব্রয়ারী তাঁর কাছে একটি ফোন আসে মন্ত্রীপরিষদের একজন অতিরিক্ত সচিবের।
সেই অতিরিক্ত সচিব তাকে জানান পুরস্কারের বিষয়টা। একই সাথে এটাও জানতে চান কেমন লাগছে? মি. আহম্মদ বলেন আমি উনাকে বললাম "আমি তো ভাষা হারিয়ে ফেললাম, আমিতো বিস্ময়াভিভূত হয়ে পড়েছি"।

তিনি বিবিসিকে বলেন "পুরস্কার প্রাপ্তিতে আনন্দ লাগার কথা, ভালো লাগার কথা, তাই আমারো ভালো লেগেছে ,আনন্দ লেগেছে। আমার জীবনে এটা একটা সারপ্রাইজের কথা বলে মানুষ, এটা তেমন একটা বিষয়"।
অনেকেই মি. আহম্মদের সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে জানেন না-এই বিষয়ে তিনি বলেন "আমি প্রচারবিমুখ, আমার প্রচারের জন্য গাংচিল আন্তর্জাতিক সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ আছে। এর শাখা দেশের সব জেলাতে আছে, বিদেশে আছে। আমি এটার কেন্দ্রীয় সভাপতি। হাজার হাজার তৃণমূল পর্যায়ের কবি আমাকে ভালো জানে, আমিও তাদের জানি"।
তিনি আরো বলেন "রাজধানীর (ঢাকার)যারা কৌলিন্যের দাবিদার সেখানে আমি খুব একটা পরিচিত না। একেবারে সেখানে অনুষ্ঠান করিনি তা না। কিন্তু এখন অনেকেই না চেনার ভান করবে। এটা তাদের ব্যাপার। আর পরিচিত হওয়ার জন্য প্রচেষ্টাও আবার খুব একটা ছিল না"।
রইজ উদ্দিন আহম্মদের ৩০টির বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া আঞ্চলিক ইতিহাস, বাংলাদেশের নদনদী নিয়ে তিনি লেখালেখি করেছেন।
তিনি বলেন "আমার যা কিছু কাজ সেসব খুলনা বা মফস্বলভিত্তিক বলতে পারেন"।
মি. আহম্মদের কবিতার বইয়ের মধ্যে রয়েছে, কেমন করে স্বাধীন হলাম, হ-য-ব-র-ল, পাখি সব করে রব, বাংলার যত ফুল ও হারানো প্রিয়া (কাহিনী কাব্য)।
তিনি বলেন, এর আগে মাদার তেরেসা স্বর্ণপদক, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন স্বর্ণপদকসহ কয়েকটি পদক পেয়েছেন তিনি।








