আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
করোনাভাইরাস: মৃতের সংখ্যা এক হাজারের বেশি, চীনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদ থেকে অপসারণ
করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেলে চীন বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে 'অপসারণ' করেছে।
হুবেই স্বাস্থ্য কমিশনের পার্টি সেক্রেটারি এবং কমিশনের প্রধান চাকরি হারানোদের মধ্যে রয়েছে।
যাদের এ পর্যন্ত অপসারণ করা হয়েছে তাদের মধ্যে এরাই সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
স্থানীয় রেড ক্রসের উপপরিচালককে অপসারণ করা হয়েছে 'অনুদান পরিচালনার' ক্ষেত্রে 'দায়িত্ব পালনে অবহেলা'র কারণে।
অপসারিত এই দুই পার্টি অফিসিয়ালের জায়গায় ওয়াং হেসেংকে বসানো হবে। তিনি চায়না ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের উপ পরিচালক।
মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা
সোমবার শুধুমাত্র হুবেই প্রদেশেই ১০৩ জন মারা গেছে। যেটা একদিনে এত মানুষ মারা যাওয়ার একটা রেকর্ড।
দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার সংখ্যা এখন ১০১৬জন।
তবে রবিবারের তুলনায় নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা ২০ শতাংশ কমেছে। সংখ্যায় সেটা আগে ছিল ৩০৬২ জন এখন ২৪৭৮ জন।
হুবেই প্রদেশের স্বাস্থ্য কমিশন নিশ্চিত করেছে যে, সোমবার ২০৯৭ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে যেটা আগের দিনের তুলনায় কম।
সংকট মোকাবেলা না করতে পারায় অপসারণ
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যাচ্ছে, হুবেই এবং অন্যান্য প্রদেশে শত শত মানুষকে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে, তদন্ত করা হচ্ছে, সতর্ক করা হচ্ছে।
কিন্তু নির্দিষ্ট পদ থেকে সরিয়ে নেয়া মানে এই নয় যে তাকে বরখাস্ত করা হবে। এটার আরেকটা অর্থ দাড়ায় তার 'পদাবনতি'।
পদ থেকে সরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি কর্মকর্তারা ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে শাস্তি পেতে পারেন।
যেমন রেড ক্রসের উপপরিচালক ঝাং কুইন-কে পার্টির পক্ষ থেকে সতর্ক করা এবং প্রশাসনিক মারাত্মক ত্রুটি হিসেবে ধরা হবে।
এই মাসের শুরুতে উহান ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস এর উপপরিচালককে "পার্টির পক্ষ থেকে গুরুতরভাবে সতর্ক করা হয়েছে এবং তার ব্যর্থতাকে মারাত্মক প্রশাসনিক ত্রুটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, কারণ ফেস মাস্ক সরবরাহ সংক্রান্ত নীতিমালা ভঙ্গ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে"।
হুয়াংগ্যাং-এর স্বাস্থ্য কমিশনের প্রধানকেও সরিয়ে নেয়া হয়েছে। হুবেই প্রদেশে উহানের পরে এটিই সবচেয়ে বেশি করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়া শহর।
সম্প্রতি এই সংকট মোকাবেলা করতে না পারার কারণে চীনের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মানুষ ক্রমেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।
বিশেষ করে একজন চিকিৎসকের মৃত্যুর পর ব্যাপক জনরোষ তৈরি হয় যার সতর্কবার্তা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।