রোবট প্রযুক্তি: অটোমেশনের ফলে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে শ্রমিকরা কিছু চাকরি হারালেও বিকল্প কর্মসংস্থান রয়েছে, বলছেন গবেষকরা

ছবির উৎস, Getty Images
সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এবং শিল্প কারখানার মালিকরা শ্রমিকদের কল্যাণকে প্রাধান্য দিলে অটোমেশনের কারণে বাংলাদেশের খুব বেশি কর্মী চাকরি হারাবে না বলে মনে করেন কর্মসংস্থান ও চাকরির ভবিষ্যত বিষয়ে করা এক গবেষণার গবেষকরা।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকের ইন্সটিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশে চাকরির ভবিষ্যত সম্পর্কে করা ঐ গবেষণায় বাংলাদেশের চাকরির বাজারের বর্তমান চিত্র তুলে ধরা হয় এবং ভবিষ্যতে চাকরিক্ষেত্রের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রযুক্তির প্রসারের সাথে সাথে যন্ত্র মানুষের কাজ করতে শুরু করবে, আর তার ফলে মানুষ চাকরি হারাতে থাকবে - এই ধারণা বাস্তবে পরিণত হতে শুরু করেছে আরো অনেকদিন আগে থেকেই।
এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ গাড়ি নির্মাণ শিল্প। একসময় গাড়ি তৈরি করতে অনেক শ্রমিক প্রয়োজন হলেও প্রযুক্তির প্রসারের সাথে সাথে সিংহভাগ কাজই মেশিনের মাধ্যমে করা হতে থাকে, যার ফলে ঐ শিল্প থেকে কাজ হারাতে শুরু করে মানুষ।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট চিন্তা করলে, অটোমেশনের ফলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ চাকরি হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে পোশাক শিল্পের সাথে জড়িত কর্মীদের।
বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ছবির উৎস, Getty Images
প্রয়োজন নীতিমালা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
তবে গবেষণায় বলা হচ্ছে এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে নীতিমালা তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানো হলে চাকরি হারাতে হবে না কর্মীদের।
গবেষক ও অর্থনীতিবিদ মাহিন সুলতান বলেন অটোমেশনের ফলে কিছু ক্ষেত্রে কর্মীরা চাকরি হারালেও তাদের বিকল্প কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
"অটোমেশনের ফলে গার্মেন্টস খাতের কিছু কর্মীরা কাজ হারাবে, তবে সেসব খুবই একঘেয়ে বিরক্তিকর কাজ। ঐ কর্মীদের কিছু বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে অন্যান্য কাজে নিয়োগ দেয়া সম্ভব।"
"আমরা অনেকসময় শুনি যে, মেয়েরা নতুন মেশিনে কাজ করতে চায় না। কিন্তু তাদেরকে সেসব মেশিন পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেয়াটা হয়তো সময়সাপেক্ষ বিষয়, কিন্তু দেয়া সম্ভব", বলেন মাহিন সুলতান।
কর্মীদের প্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষা দেয়ার পাশাপাশি টেকসই কর্মসংস্থান ধরে রাখতে শিক্ষাব্যবস্থায় কর্মমুখী শিক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়ার সুপারিশ করেন গবেষকরা।
গবেষক ফেরদৌসি সুলতানা বলেন, "চাকরির বাজারের চাহিদা বিবেচনায় রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার করা হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরো প্রসারিত হতে পারে।"
তবে নীতিমালা তৈরি করে সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে এরকম প্রশিক্ষন কার্যক্রমের দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করেন গবেষকরা।

ছবির উৎস, China News Service
আর তার মতে, এধরণের কার্যক্রমের সফলতা নির্ভর করবে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং শিল্প কারখানার মালিকদের মানসিকতার ওপর।
অব্যবহৃত সম্পদ কাজে লাগানো ও শ্রমবাজারের চাহিদা যাচাই করা
অব্যবহৃত সম্পদকে কাজে লাগিয়ে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুধাবন করে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েও অটোমেশনের নেতিবাচক প্রভাব এড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন গবেষকরা।
"আমাদের দেশের সামুদ্রিক খাতে অনেক সুযোগ রয়েছে এবং সম্পদ অব্যবহৃত রয়েছে। ঐ খাতে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে। সেবা খাতে বাংলাদেশে এখনো অনেক সুযোগ রয়েছে।"
আন্তর্জাতিক বাজারে যেসব কাজের চাহিদা রয়েছে, সেই ধরণের কাজ শিখিয়ে দেশের বাইরে বিপুল পরিমাণ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন ফেরদৌসি সুলতানা।
কর্মসংস্থানে অটোমেশনের প্রভাব ছাড়াও অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্রে চাকরিকে স্বীকৃতি দেয়া, কর্মীদের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা, নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্য দূর করার বিষয়েও বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয় গবেষণায়।








