রাজাকারের তালিকা: ক্ষোভ আর প্রতিবাদের মুখে বিতর্কিত তালিকা শেষ পর্যন্ত স্থগিত করলো সরকার

রাজাকার তালিকা স্থগিত করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়

ছবির উৎস, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট

ছবির ক্যাপশান, রাজাকার তালিকা স্থগিত করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর প্রকাশিত রাজাকারের তালিকাটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ওঠায় শেষ পর্যন্ত সেটি স্থগিত করেছে সরকার।

এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে ওই তালিকা সরিয়েও ফেলা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, রাজাকারের তালিকা যাচাই করে সংশোধনের জন্য আগামী ২৬শে মার্চ পর্যন্ত সেটি স্থগিত করা হয়েছে।

ওদিকে আওয়ামী লীগের এক সভায় বক্তব্যকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কোলাবরেটরদের তালিকা করতে গিয়ে গোলমাল পাকিয়ে ফেলেছে। অনেক মুক্তিযোদ্ধার নাম ঢুকে গেছে। এটা কোনোভাবেই রাজাকারের তালিকা নয়।

এতে যারা কষ্ট পেয়েছেন তাদের শান্ত হতে ও ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করে তিনি বলেন রাজাকার,আল-বদর,আল-শামস সবার তালিকা গেজেট করা আছে।

তবে নতুন তালিকা কবে প্রকাশিত হবে সেটি সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

মন্ত্রণালয়ের সচিব এস এম আরিফ-উর-রহমান জানিয়েছেন, যাচাই-বাছাই করে সংশোধিত তালিকা প্রকাশে যতটা সময় লাগে, ততটা সময়ই তারা নেবেন।

সেক্ষেত্রে কবে নাগাদ নতুন তালিকা প্রকাশিত হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, "গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক ভাবে যাচাই-বাছাই করে একটি নির্ভুল তালিকা করা। আমরা সেটিকেই গুরুত্ব দিচ্ছি"।

গত রোববারে প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় অনেক মুক্তিযোদ্ধা, এমনকি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক কয়েকজনের নাম অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে, এমন অভিযোগ ওঠার পর এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

দশ হাজার ৭৮৯ জনের ওই তালিকা প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে এরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার, আল-বদর, আল-শামসসহ স্বাধীনতাবিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল ।

তালিকা প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম হয় এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ দেখা দেয়।

এক পর্যায়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জানান যে ভুলভাবে কোনো মুক্তিযোদ্ধার নাম এলে তাদের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হলে তা তদন্ত করে তালিকা সংশোধন করা হবে।

ওদিকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান বাহিনীকে সহায়তাকারী রাজাকার, আল-বদরসহ স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম আসার বিষয়ে তদন্তের দাবি তোলেন।

এদিকে আজই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, তালিকাটি যাচাই-বাছাই ও সংশোধনের পর নতুন করে প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এর কয়েক ঘণ্টা পরই 'বিতর্কিত তালিকাটি' ২৬শে মার্চ পর্যন্ত স্থগিতের ঘোষণা দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী।

সরকার আগেই বলেছিল রাজাকারের তালিকা তৈরি এবং তা প্রকাশ করা হবে - ফাইল ছবি

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, সরকার আগেই বলেছিল রাজাকারের তালিকা তৈরি এবং তা প্রকাশ করা হবে - ফাইল ছবি

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন: