এডিটারস মেইলবক্স: চিঠি-পত্রের আসর কি একঘেঁয়ে এবং বিরক্তিকর মনে হচ্ছে?

    • Author, সাবির মুস্তাফা
    • Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা

বিবিসি বাংলার চিঠি-পত্রের আসরে কি ঘুরে-ফিরে গুটিকয়েক ব্যক্তির চিঠিই দেখা যায়? যদি হয়, তাহলে কি বিষয়টি অন্য সবার জন্য একটু বিরক্তিকর হয়ে যাচ্ছে?

এই নিয়ে একজন পাঠকের চিঠি এবং আমার উত্তর নিয়ে মন্তব্য করেছেন কয়েকজন নিয়মিত পত্রলেখক। প্রথমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মিনহাজুল ইসলাম তারেক:

''গত ১৬ই নভেম্বর যশোরের এক শ্রোতা প্রীতিভাজনেষুতে একটি স্পর্শকাতর বিষয় তুলে ধরেছিলেন। তার চিঠির বক্তব্য ছিলো, প্রীতিভাজনেষুতে চিঠি লেখকের সংখ্যা কম? নাকি একই লেখকের যেসব চিঠি বারবার স্থান পায়, তাদের লেখার মান ভালো? তার এই বক্তব্যের সাথে আমিও সহমত পোষণ করে বলতে চাই, সেদিন চিঠির জবাব দানে স্বয়ং বিবিসি বাংলার সম্পাদক সাবির মুস্তাফা থাকার পরও প্রশ্নের উত্তরটি সুকৌশলে এড়িয়ে গেলেন।

''যদি চিঠি লেখকের সংখ্যা কম হয় সেটা তিনি স্বীকার করতে পারতেন কিংবা যাদের চিঠি বারবার স্থান পায় তাদের লেখার মান যদি ভালো হয়ে থাকে--সেটাও তিনি অকপটে বলে ফেলতে পারতেন।''

এখানে এড়িয়ে যাবার কিছু ছিল না, মি. ইসলাম। চিঠির সংখ্যা যে কম, সেটা আমি বহুবার এই অনুষ্ঠানেই বলেছি, এবং এ'প্রশ্নও করেছি যে, এত কম সংখ্যক পত্রলেখকের জন্য সপ্তাহে ১০-১১ মিনিট বরাদ্দ করা আদৌ যৌক্তিক কি না। গত সপ্তাহেও আমি বলেছি, আমাদের অধিকাংশ শ্রোতা কখনোই চিঠি লেখেন না, আর যারা নিয়মিত লেখেন তাদের সংখ্যা খুবই কম। আর একটি কথা না বললেই না, শ্রোতাদের চিঠির মান নিয়ে কোন মন্তব্য করা আমার পক্ষে সম্ভব না, উচিতও না। আমি কিন্তু অতীতে বলেছি, লেখার মান নয়, চিঠির বিষয়বস্তুর ওপরই নির্ভর করে সেই চিঠি অনুষ্ঠানে নেয়া হবে কি না।

আরো লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''প্রীতিভাজনেষুতে কিছু শ্রোতার নাম বার বার উঠে আসে একথা ঠিক। বিবিসি বাংলাতে যেসব শ্রোতা লেখেন বিবিসি বাংলাকে ভালোবেসেই তারা সমালোচনা আর প্রত্যাশার কথা যেমন লেখেন, তেমনি সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলোতেও মন্তব্য করে থাকেন। বিবিসি বাংলাও প্রীতিভাজনেষুর মাধ্যমে তার শ্রোতা, দর্শক ও পাঠকদের নিকট জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে থাকে। প্রীতিভাজনেষু শ্রোতাদের নিকট একঘেয়েমি বা বিরক্তিকর হয়ে উঠবে এমনটা আমার মনেই হয় না।''

আপনার সেটা মনে হয় না জেনে খুশি হলাম মি. সরদার। রেডিওর প্রীতিভাজনেষু এবং অনলাইনের এডিটারস মেইলবক্স অবশ্যই আমাদের জবাবদিহিতার জায়গা, যে কারণে আমরা অনুষ্ঠানটি চালিয়ে যাচ্ছি। সেজন্য অনুষ্ঠানের কনটেন্ট এবং মান সম্পর্কে বেশি প্রশ্ন বা মন্তব্য নিতে আমি বেশি আগ্রহী। সমসাময়িক বিষয়ে মন্তব্য করার জন্য ফোন-ইন তো রয়েছেই।

ছোট একটি অভিযোগ, লিখেছেন পঞ্চগড়ের বড়শী থেকে মোহাম্মদ উজ্জ্বল ইসলাম:

''আগে এডিটারস মেইলবক্স প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যা ৬.০০ টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে ওয়েবসাইটে আপলোড করা হতো। কিন্তু এখন রেডিওতে প্রচারের পরও কয়েকদিন পর ওয়েবসাইটে আপলোড করা হচ্ছে। বার বার প্রীতিভাজনেষু আর এডিটারস মেইলবক্স যথাসময়ে ওয়েবসাইটে আপলোড দেওয়ার জন্য অনুরোধ করার পরও,বিবিসি বাংলাকে কেন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখছি না?''

ওয়েবসাইটটা রেডিওর মত না, মি. ইসলাম। রেডিওতে অনুষ্ঠানের একটি নির্দিষ্ট সময় আছে, কিন্তু ওয়েবসাইট সেই নিয়ম অনুযায়ী চলে না এবং এমন কোন নির্দিষ্ট সময়সূচীও কখনো ঘোষণা করা হয় নাই। তবে হ্যাঁ, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে শনি-রবিবার রেডিওতে অনুষ্ঠানের পর সোমবারের মধ্যে ওয়েবসাইটে এডিটারস মেইলবক্স আপলোড করা।

আমাদের রেডিও অনুষ্ঠান নিয়ে একটি প্রশ্ন এবং ছোট একটি মন্তব্য করে লিখেছেন রাজশাহীর রানীবাজার থেকে হাসান মীর: 

''বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠান কি এখন মিডিয়াম ওয়েভেও শোনা যায় ? ২১শে নভেম্বরের প্রত্যুষায় সেই রকমই বললেন উপস্থাপক। প্রীতিভাজনেষু অনুষ্ঠানটি সপ্তাহে দু'দিনের পরিবর্তে যে কোন একদিন প্রচার করলে ভালো হয়। দশ মিনিটের এই অনুষ্ঠানের জন্যে সে দিনের প্রত্যুষায় বিদেশি অথবা কম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন বাদ রাখা যেতে পারে।''

না মি. মীর, আমাদের অনুষ্ঠান মিডিয়াম ওয়েভে শোনা যায় না, প্রত্যুষার উপস্থাপক ভুল করেই কথাটি বলেছিলেন। আর প্রীতিভাজনেষু নিয়ে আমরা নতুন করে ভাবছি, বিশেষ করে যেহেতু রাতের অধিবেশন পুনরায় চালু করা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে।

শুধু হাসান মীরই নন, অন্যান্য রেডিও শ্রোতারাও এই সকাল-সন্ধ্যা আলোচনায় যোগ দিয়েছেন, যেমন কুষ্টিয়া সদর থেকে চয়ন কুমার সরকার:

''ষোলই নভেম্বর প্রত্যুষা অনুষ্ঠানে শুনলাম সকালের অনুষ্ঠানের শ্রোতা কম। সকালের প্রভাতী ফিরে না আসলেও প্রত্যুষা যেন বন্ধ না করা হয়, কারণ আমরা অফিস যাবার আগে এক নজরে পুরো বিশ্বের সংবাদ জেনে নেই। আবার সংবাদপত্র পর্যালোচনা অনেক জনপ্রিয়। কোন অবস্থাতে যেন প্রত্যুষা অনুষ্ঠান বন্ধ না করা হয়।''

আমাদের অনেক সময় বেশ কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয় মি. সরকার। ইউরোপে মানুষ সকালে রেডিও শোনে, সেটা যেমন সত্য তেমনি সত্য যে বাংলাদেশসহ গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় সকালে রেডিও শোনার অভ্যাসটা অল্প সংখ্যক মানুষের মধ্যে সীমিত। এখন যেহেতু আমরা রাত সাড়ে ১০টার অনুষ্ঠান ফিরিয়ে আনতে চাই এবং ডিজিটালের দিকে বেশি লোকবল নিয়োজিত করতে চাই, তাই একটু ত্যাগ স্বীকার করতেই হবে।

অন্যদিকে, সন্ধ্যার অধিবেশনের চেয়ে রাতের অধিবেশন এখন জরুরি বলে বলছেন ঢাকার বনশ্রী থেকে এমদাদুল হক বাদশা:

''শীতকালে সন্ধ্যে সাড়ে সাতটায় এশার নামাজের জামাত শুরু হয় এবং শেষ হতে প্রায় আধা ঘণ্টা লেগে যায়। বিধায় অধিকাংশ বাঙ্গালী মুসলিম শ্রোতারাই বিবিসির প্রবাহ অনুষ্ঠান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই সঙ্গত কারণেই রাত দশটা বা সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠান চালু করা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এমনকি শ্রোতাদের মতামত নিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার প্রবাহ বন্ধ করে হলেও রাতের অনুষ্ঠান চালু করা প্রয়োজন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।''

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার অধিবেশন বন্ধ করার কোন প্রয়োজন আমরা অনুভব করছি না মি. হক, এবং আপনার মত আমরাও মনে করছি রাতের অধিবেশন পুনরায় চালু করা দরকার। তবে সকালের অধিবেশনের কার্যকারিতা নিয়ে আমর ভেবে দেখছি।

আমাদের দুটি রেডিও অধিবেশনের কোনটি থাকবে, কোনটা আদৌ থাকবে কি না, সেই দুশ্চিন্তায় আছেন বরগুনা জেলার উত্তর মনসাতলীর রেদওয়ানউল্লাহ:

''বিবিসি বাংলার সকাল সাড়ে ছ'টা ও রাত সাড়ে দশটার রেডিও অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমার মনের মধ্যে একটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যে কোন সময় সকাল সাড়ে সাতটা ও সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার অনুষ্ঠানও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। দুই এক বছরের মধ্যে বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি? থাকলে জানাবেন।''

বলা মুশকিল মি. রেদওয়ানউল্লাহ। সম্প্রচার প্রযুক্তি যে প্রবল গতিতে অগ্রসর হচ্ছে, তাতে দু'বছর পর রেডিওর কী অবস্থা হবে, তা বলা কঠিন। তবে আমি এ'টুকু বলতে পারি, সন্ধ্যার অধিবেশন বন্ধ করার কোন পরিকল্পনায় নেই, বরং রাত সাড়ে দশটার অধিবেশন পুনরায় চালু করার কথা আমরা ভাবছি।

পরের চিঠি লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''বিবিসি বাংলা স্বভাবতই নারী নির্যাতন, নারীদের যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের মতো নানা ধরণের সংবাদ খুব গুরুত্ব দিয়ে পরিবেশন ও প্রচার করে। কিন্তু পুরুষরাও যে নির্যাতন ও নিগ্রহের শিকার হতে পারে, সেরকমই একটি প্রতিবেদন ১৯শে নভেম্বর বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পাতায় লক্ষ্য করলাম। সংবাদটি ব্যতিক্রমধর্মী হলেও এটি বিশ্বব্যাপী কমবেশি ঘটে। অনেক পুরুষকে আমি স্ত্রীদের দ্বারা নিগৃহীত বা মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হয়ে তার অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে দেখেছি। ধন্যবাদ বিবিসি বাংলাকে একটি ব্যতিক্রমধর্মী খবর পরিবেশনের জন্য।''

আপনাকেও ধন্যবাদ মি. রহমান। আশা করি নারী বা পুরুষ নির্যাতন ছাড়াও অন্যান্য খবর আপনি উপভোগ করছেন।

এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। মজা পেলেও, আমাদের একটি প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকার ধানমন্ডী থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''টয়লেটের পর শৌচকার্যে কী ব্যবহার করবেন, পানি নাকি টিস্যু?" শিরোনামের সংবাদটি ফেসবুকে চোখে পড়ায় সাথে সাথে হা..হা......হা. রিএ্যাক্ট দিলাম। ভাবলাম বিবিসি নিউজ বাংলা কি খবর করার বিষয়বস্তুর অভাবে ভুগছে? আমি ধরে নিলাম সেদিন বিশ্ব টয়লেট দিবস ছিল বলে হয়তো এ সংবাদটি দেয়া হয়েছে। তবুও আমি মনে করি এ সংবাদের তেমন গুরুত্ব বা প্রাসঙ্গিকতা নাই। তাহলে কি সত্যিই মাঝে মাঝে বিবিসি নিউজ বাংলা সংবাদ করার বিষয়বস্তুর সংকটে পড়ে?''

না, শামীমউদ্দিন শ্যামল, এখানে সংবাদের বিষয়বস্তুর কোন ঘাটতি ছিল না। ডিজিটাল মিডিয়া এমন একটি জায়গা যেখানে বিচিত্র বিষয়বস্তুর সমারোহ থাকাই বাঞ্ছনীয়। তবে আপনি ঠিকই বলেছেন, সেদিন বিশ্ব টয়লেট দিবস ছিল বলেই এই ব্যতিক্রমী প্রতিবেদনটি দেয়া হয়েছিল।

আমাদের টেলিভিশন অনুষ্ঠান বিবিসি প্রবাহর একটি রিপোর্ট ভাল লেগেছে বলে জানাচ্ছেন টাঙ্গাইলের সরকারি ম্যাটস থেকে বিলকিস আক্তার:

''ক্রিকেট নিয়ে অমিতাভ ভট্টশালীর প্রতিবেদনটি সত্যিই অনেক চমৎকার ছিল। প্রতিবেদনে আমার প্রিয় ক্রীড়া সাংবাদিক বরিয়া মজুমদারকে দেখতে পেয়ে সত্যিই মনটা ভরে গিয়েছিলো। বিবিসি বাংলায় একদিন সময় করে বরিয়া মজুমদারের একটা পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাতকার প্রচার করুন। আমার বিশ্বাস শ্রোতারা ওনার সাক্ষাৎকার সত্যিই অনেক পছন্দ করবে।''

পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকার বলতে কী বোঝাচ্ছেন, সেটা আমার কাছে অস্পষ্ট মিস আক্তার। ক্রিকেট নিয়ে বরিয়া মজুমদারের সাক্ষাৎকার আমরা নিয়মিত প্রচার করে থাকি এবং ভবিষ্যতেও করবো। আর শুধু তাঁর জীবন এবং ক্যারিয়ার নিয়ে বড়-সড় সাক্ষাৎকারের কথা যদি বলেন, তাহলে সেটাও ভবিষ্যতে হতে পারে।

রেডিওতে অনুষ্ঠান শোনা যাচ্ছে না, এই অভিযোগ করে লিখেছেন সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ থেকে অনিন্দ্য সরকার:

''খুবই বিরক্ত লাগে যখন বিবিসি রেডিও অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঝামেলা হয়। খুলনাতে ১৬ই নভেম্বর সন্ধ্যার অনুষ্ঠান শুরু থেকেই শোনা যায়নি। এর পাঁচ-ছয় দিন আগেও প্রবাহ অনুষ্ঠানের শুরু থেকে ২৭মিনিট শোনা যায় নি। কারিগরি ত্রুটি হতেই পারে। তাই বলে এত দীর্ঘ সময়? কারিগরি ত্রুটি হলে অনলাইনে শোনা ছাড়া তাৎক্ষণিক অন্য কোন সমাধান কি নেই?''

অনুষ্ঠান শুনতে এত ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে, তা জেনে আমি অত্যন্ত দু:খিত মি. সরকার। তাৎক্ষণিক ভাবে আমাদের কিছু করার থাকে না, যেহেতু সম্প্রচারের কারিগরি দায়িত্ব থাকে বাংলাদেশ বেতারের আঞ্চলিক কেন্দ্রের। আপনাদের অভিযোগ আমরা বেতার কর্তৃপক্ষকে পৌঁছে দেব, আশা করি তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন।

পুরনো একটি বিষয় নিয়ে নতুন করে লিখেছেন ঢাকার মিরপুর থেকে ই এ এস এম তানভীর হাসান:

''বিবিসির একটা বিষয়ে আমার খুব খারাপ লাগে। আর সেটা হচ্ছে যখন ফ্রিকোয়েন্সি ঘোষণা করা হয় তখন '৮৮' কে অশটোআশি উচ্চারণ করা হয় । কিন্তু সেটা বাংলা একাডেমী কর্তৃক প্রকাশিত 'বাংলা অভিধানে' "আটাশি" উচ্চারণ লেখা আছে। বিবিসি বাংলা একটা ছোট্ট ওয়ার্ড কী করে ভুল বলতে পারে।''

আমরা তো মনে করি না যে আমরা ভুল করছি মি. হাসান। একটি শব্দের দু'রকম উচ্চারণ থাকতেই পারে। আটাশি যেমন সঠিক, তেমনি অশটোআশিও সঠিক। এটা নিয়ে আমাদের কোন সন্দেহ বা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নেই।

সব শেষে, বেশ সুন্দর একটি অনুরোধ করে লিখেছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে এম নাজমুল হোসাইন:

''আজ আমি বিবিসি বাংলা শোনার অনুপ্রেরণা নিয়ে একটি গল্প বলবো। আমি ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি আমার নানা মোহাম্মদ আলী ফকির সাড়ে ছয়টা বাজলেই বিবিসি বাংলা শর্ট ওয়েভ ধরানোর জন্য বসে যেতেন। তিনিই আমাকে বাংলা শোনার অনুপ্রেরণা দেন। তার দেখাদেখি বিবিসি বাংলার প্রতি আমারও ভালোবাসা জন্মায়। তাই আপনারা যদি আমার নানাকে একটিবার হলেও ধন্যবাদ জানাতেন।''

অবশ্যই মি. হোসাইন। যে ব্যক্তি বহু বছর ধরে আপনাকে বিবিসি বাংলা শোনার জন্য প্রেরণা দিয়েছেন, আপনার নানা মোহাম্মদ আলী ফকিরকে বিবিসি বাংলার সবার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক

মাহবুব আলম, সরকারি ম্যাটস, কুমিল্লা।

ফয়সাল আহমেদ সিপন, ঘোড়াদাইড়, গোপালগঞ্জ।

মোহাম্মদ আক্তার হোসেন, হাড়াভাংগা, মেহেরপুর।

মোহাম্মদ মকবুল, রাধানগর প্রধান পাড়া, পঞ্চগড় ।

শাহিন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।

ওবায়েদুল ইসলাম উজ্জ্বল, আল-আইন, সংযুক্ত আরব।

এস এম. লিয়াকত আলী, পার্বতীপুর দোলাপাড়া রংপুর।

দিপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।

মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপি, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।

জহিন মুমতাহিনাহ, লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা।

পলাশ চন্দ্র রায়, মাড়েয়া, পঞ্চগড়।

অমিত কান্তি জানা, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ।