ওয়াইসির 'মসজিদ ফেরত চাই' মন্তব্যে অনলাইনে ঝড়

আসাদউদ্দিন ওয়াইসি'র টুইট

ছবির উৎস, টুইটার

ছবির ক্যাপশান, আসাদউদ্দিন ওয়াইসি'র টুইট

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যার ভেঙে-ফেলা বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির তৈরির পক্ষে রায় ঘোষণার পর থেকে এ নিয়ে অনলাইনে নানামুখী বিতর্ক এখনো চলছে।

এই রায় নিয়ে ভারতের শীর্ষ মুসলিম সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র বিভক্তি দেখা যাচ্ছে। মামলার অন্যতম পক্ষ সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড এই রায় মেনে নেওয়ার কথা ঘোষণা করলেও, তাদের আইনজীবীরা এবং অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড এর বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন দাখিল করার কথা বিবেচনা করছেন।

সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যারই অন্যত্র একটি মসজিদ বানানোর জন্য যে পাঁচ একর জমি বরাদ্দ করেছে তা নিয়েও মুসলিম সমাজের নেতারা একমত নন।

এর মধ্যেই অনলাইনে নতুন হৈচৈ শুরু হয়েছে ভারতের একজন মুসলিম নেতা এবং এমপি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি-র এক টুইট নিয়ে।

'আমি আমার মসজিদ ফেরত চাই' - বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণের রায় নিয়ে গত ১৫ই নভেম্বর এক টুইট বার্তায় বলেন মি. ওয়াইসি।

তার সাথে তিনি জুড়ে দেন আউটলুক পত্রিকায় প্রকাশিত তার একটি সাক্ষাতকার - যাতে তিনি প্রশ্ন তোলেন: '১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙা না হলে কি সুপ্রিম কোর্ট এই রায় দিতে পারতো?'

বাবরি মসজিদ - যা ১৯৯২ সালে উগ্র হিন্দু করসেবকরা ভেঙে ফেলে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বাবরি মসজিদ - যা ১৯৯২ সালে উগ্র হিন্দু করসেবকরা ভেঙে ফেলে

আসাদউদ্দিন ওয়াইসি হচ্ছেন ভারতীয় মুসলিমদের একটি সংগঠন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন বা এআইএমআইএম-এর প্রধান এবং হায়দরাবাদের এমপি।

টুইটারে মি. ওয়াইসির ফলোয়ারের সংখ্যা প্রায় ৭ লক্ষ।

মি. ওয়াইসির টুইট 'আই ওয়ান্ট মাই মস্ক ব্যাক' অর্থাৎ 'আমি আমার মসজিদ ফেরত চাই' - টুইটারে হ্যাশট্যাগে পরিণত হয় এবং এর পক্ষে-বিপক্ষে প্রচুর মন্তব্য পড়তে থাকে।

টুইটটি এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৮শ' বারেরও বেশি রিটুইট হয়েছে, লাইক দিয়েছেন ৩২ হাজারেরও বেশি। এ নিয়ে মন্তব্য করেছেন ২২ হাজারেরও বেশি।

সালিল শেখ নামে একজন মন্তব্য করেন, 'আমিও চাই।'

ইরিনা আকবর নামে একজন মন্তব্য করেন: "একসময় বাববি মসজিদ বলে একটি মসজিদ ছিল, যা ১৫২৮ সালে তৈরি হয়, ১৯৪৯ সালে অপবিত্র করা করা হয়, এবং ১৯৯২ সালে ধ্বংস করা হয়। কিন্তু আমাদের স্মৃতিতে এ মসজিদ চিরদিন থাকবে।"

কোসার পারভেজ নামে একজন মন্তব্য করেন, "আমাদের ভারত মহান, তারা (নাথুরাম) গডসে-কে হিরো বলে মানে, আর গান্ধীকে বানায় ভিলেন।"

শুধু টুইটারে নয়, অনলাইনে নানা ওয়েবসাইটে নিবন্ধ লেখা হচ্ছে এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে।

বিবিসি বাংলায় এ নিয়ে আরো খবর:

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট, দিল্লি

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট, দিল্লি

'দি ওয়্যার' নামে ওয়েবসাইটে এক নিবন্ধে নন্দিনী সুন্দর নামে একজন লেখেন, ভারতের মুসলিমরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল তাদের নাগরিকত্বে নিশ্চয়তা চেয়ে কিন্তু তাদের দেয়া হয়েছে পাঁচ একর জমি। তিনি লেখেন, শুধুমাত্র ন্যায় বিচারের ভিত্তিতেই স্থায়ী শান্তি ও মৈত্রী পুনপ্রতিষ্ঠা হতে পারে।

'স্ক্রল ডট ইন'-এ নরেশ ফার্নান্দেজ লেখেন, বাবরি মসজিদ যারা ধ্বংস করেছিল শুধুমাত্র তাদের বিচারের আওতায় আনার মধ্যে দিয়েই অযোধ্যা মামলায় ন্যায়বিচার হতে পারে।

আসাদউদ্দিন ওয়াইসির মন্তব্যের বিপক্ষেও মন্তব্য করেন প্রচুর লোক।

বিজেপির নেতা বাবুল সুপ্রিয় বলেন, আসাদউদ্দিন ওয়াইসি হচ্ছেন দ্বিতীয় জাকির নায়েক।

একই রকম প্রতিক্রিয়া দেন ইউনিয়ন মন্ত্রী গিরিরাজ সিং। তিনি বলেন, মি. ওয়াইসি সমাজে বিভক্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।

ববি সিং নামে একজন মন্তব্য করেন: আমি এমন এক সেকুলার দেশে বাস করি যেখানে ‌'আমি আমার মসজিদ ফেরত চাই' বলাটা হচ্ছে শান্তিপূর্ণ অধিকার কিন্তু আমি যদি বলি 'আমি আমার মন্দির ফেরত চাই' - তার অর্থ হচ্ছে ঘৃণা।

অযোধ্যা

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, অযোধ্যা

টুইটারে মি. ওয়াইসিকে নিয়ে ফরাজ শেখ নামে একজন মন্তব্য করেন, "ইনি শুধু ভোট ব্যাংকের জন্য পানি ঘোলা করছেন।"

তানভির আশরাফ নামে একজন মন্তব্য করেন: "আমি সকল মুসলিমের প্রতি আবেদন জানাচ্ছি - এ ধরণের লোককে এড়িয়ে চলুন যারা ভারতীয়দের ধর্মের নামে বিভক্ত করতে চায়। তিনি আরো লেখেন, আসাদ ওয়াইসি ২১ কোটি মুসলিমের প্রতিনিধিত্ব করেন না।"

অমৃতা ভিন্দার নামে একজন মন্তব্য করেন: "আমরা পেছন দিকে তাকিয়ে থাকলে সামনে এগোতে পারবো না।"

টুইটারে 'আই ওয়ান্ট অল মাই টেম্পলস ব্যাক' নামে একটি পাল্টা হ্যাশট্যাগও চালু হয়।

শ্রীকান্ত নামে একজন লিখেছেন: তিনি তার ত্রিশ হাজার মন্দির ফেরত চান - যা ''মোগল জিহাদিরা ধ্বংস করে''।

একাধিক লোক ভারতের বিভিন্ন জায়গার কিছু মসজিদের তালিকা তুলে দেন - যেগুলো তাদের মতে মন্দিরের ওপর নির্মিত।

বেশ কয়েকজন মি. ওয়াইসিকে 'পাকিস্তানে চলে যাবার' পরামর্শ দেন।

বিবিসি বাংলায় আরো খবর: