এমপি রাঙ্গার বহিষ্কার চেয়েছেন নূর হোসেনের ভাই

নব্বইয়ের দশকে ঢাকায় এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নিহত তরুণ নূর হোসেনকে 'ইয়াবাখোর ফেনসিডিলখোর' বলে কটুক্তি করার পর জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবং এমপি মশিউর রহমান রাঙ্গা প্রচণ্ড চাপে পড়েছেন।

বিবিসি বাংলার সাথে এক সাক্ষাৎকারে নূর হোসেনের ভাই আলী হোসেন বলেছেন, তার মৃত ভাই সম্পর্কে এমন মন্তব্য করার পর মি. রাঙ্গা সংসদে বসলে সংসদ 'কলুষিত' হবে।

"আমি মনে করি এরপরও তার (মশিউর রহমান রাঙ্গার) সংসদে বসা জাতির জন্য কলঙ্কজনক।"

আলী হোসেন বলেন, তার মৃত ভাইয়ের সম্পর্কে এরকম মন্তব্য শুনে তার বৃদ্ধা মা কান্নাকাটি করেছেন।

"শোনার পর আমিও ভাবছিলাম কেন তিনি এমন কথা বললেন। এটা কি ওনার কথা, নাকি জাতীয় পার্টির কথা...যেখানে ১৯৯৬ সালে এরশাদ সাহেব নিজে আমার ভাইয়ের ব্যাপারে সংসদে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলেন, তারপরও এমন মন্তব্য কেন...?"

১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর ঢাকায় বুকে-পিঠে গণতন্ত্রের দাবিতে শ্লোগান লেখা নূর হোসেন গুলিতে নিহত হওয়ার পর সামরিক শাসন বিরোধী গণ-আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন।

রোববার ঐ হত্যাকাণ্ডের বার্ষিকীতে দলের এক অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মন্তব্য করেন, "...নূর হোসেন কে ছিল? সে ছিল নেশাখোর, ইয়াবাখোর, ফেনসিডিলখোর...।"

তার এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার সংসদেও আওয়ামী লীগের একাধিক এমপি মি রাঙ্গার তীব্র সমালোচনা করেন, নূর হোসেনকে নিয়ে তাকে ক্ষমা চাইতে বলেন।

চাপের মুখে মশিউর রহমান রাঙ্গা তার এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

কেন তিনি এমন মন্তব্য করলেন? বিবিসিকে রাঙ্গা

কেন এত বছর পর নূর হোসেন সম্পর্কে এমন সব আপত্তিকর মন্তব্য তিনি করলেন?

বিবিসির এই প্রশ্নের জবাবে, জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেন যে রোববার নূর হোসেন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আওয়ামী লীগের এক সমাবেশে জে. এরশাদকে কটুক্তি করে দেওয়া স্লোগানের প্রতিক্রিয়ায় তিনি ঐ মন্তব্য করেন।

"সেদিন আওয়ামী লীগের সভায় 'এরশাদের দুই গালে জুতো মারো তালে তালে' ধরণের স্লোগানে আমাদের কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছিল। তারা বলছিলো, আমরা যখন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শরীক, সেখানে এমন স্লোগান কেন হবে।"

"সে সময় আমি বলি নূর হোসেন সেদিন অপ্রকৃতিস্থ ছিলেন, নিজের বুকে কেউ নিজে লিখতে পারেনা, কেউ হয়ত লিখে দিয়েছিল।"

মি. রাঙ্গা স্বীকার করেন নূর হোসেন সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার সময় 'দুটো শব্দ বের হয়ে গিয়েছিল।'

"আমি ঐ শব্দ দুটো আর ব্যবহার করতে চাইনা। আমি দুঃখিত। আমি অনুতপ্ত। আমার ভুল হয়েছে। আমি তার পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছি।"

তবে একইসাথে জাতীয় পার্টির এই নেতা বলেন, জেনারেল এরশাদ যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন জাতীয় পার্টির সরকারের অনেক মন্ত্রী বিশ্বাস করতেন যে নূর হোসেনকে দিয়ে তাদের নেতার পতন ত্বরান্বিত করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল।