ক্রিকেট: ইমরুল কায়েসের দলে ফিরে আসা ও টিকে থাকা কতটা কঠিন

ক্রিকেট, বাংলাদেশ, নিউজিল্যান্ড

ছবির উৎস, Hagen Hopkins

ছবির ক্যাপশান, ইমরুল কায়েস আজ খুলনার হয়ে জাতীয় লীগে ডাবল সেঞ্চুরি তুলেছেন
    • Author, রায়হান মাসুদ
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট লিগ, জাতীয় ক্রিকেট লিগে নতুন মৌসুমে দ্বিশতক বা ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে আবারো আলোচনায় এসেছেন ইমরুল কায়েস।

জাতীয় লিগের প্রথম রাউন্ডের শেষ দিনে খুলনায় রংপুর বিভাগের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি করেন ইমরুল।

কিন্তু ইমরুল কায়েসের এমন পারফরম্যান্স কি তাকে জাতীয় দলে ফেরাতে যথেষ্ট?

পূর্ব ইতিহাস বলছে, ২০১৫ সালে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর আর কখনো নিয়মিত হতে পারেননি তিনি।

১১ বছর আগে, ২০০৮ সালে ইমরুল কায়েসের অভিষেক হয় বাংলাদেশের হয়ে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের বেশ কয়েকটি বড় জুটি ও রেকর্ডে ইমরুল কায়েসের নাম রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে যারা বাংলাদেশের হয়ে টপ অর্ডারে ব্যাট করেছেন তাদের সাথে তুলনা করলে ইমরুল কায়েস খুব বেশি পিছিয়ে নেই।

'অন্যদের সমান করলেও জায়গা হবে না'

বাংলাদেশের একজন ক্রিকেট কোচ ও বিশ্লেষক নাজমুল আবেদীন ফাহিমের মতে, যখন একজন ক্রিকেটার জানেন যে অন্যদের মতো পারফর্ম করলে দলে সুযোগ মিলবে না, অন্যদের চেয়ে ভালো করতে হবে সেটা একটা মানসিক চাপ।

"এসব অনুভূতি ভালো পারফর্ম করার ব্যাপারে উপকার দেয়না।"

"একেকজনের মানসিকতা একেক রকম, ওকে যে সবাই একটু হলেও অবহেলা করে সেটা যদি জেদ হিসেবে কাজ করতো তাহলে কিন্তু ভালো হতো, যেটা হয় ওকে অবহেলা করলে ইমরুল আরো মানসিকভাবে নেতিবাচক অবস্থানে চলে যায়," বলছিলেন মি: ফাহিম।

নির্বাচকরা যদি ভালোভাবে তাকে পর্যবেক্ষণ করে সাথে থাকতেন তাহলে ইমরুল কায়েস অনেক ভালো করতে পারতো বলে মনে করেন নাজমুল আবেদীন ফাহিম।

মি: ফাহিমের মত, ইমরুল কায়েস যেকোনো সময়ই জাতীয় দলের যোগ্য ক্যান্ডিডেট।

"ওর পাশে খুব বেশি কেউ থাকে না, এতো বছরের যে অভিজ্ঞতা সেটা গোনায় ধরা উচিত, হঠাৎ একজন ভালো খেললেই তাকে বাদ দেয়াটা অন্যায্য," বলছিলেন নাজমুল আবেদীন ফাহিম।

ক্রিকেট, বাংলাদেশ, নিউজিল্যান্ড

ছবির উৎস, Stu Forster

ছবির ক্যাপশান, ২০০৮ সালে অভিষেক হয় ইমরুল কায়েসের

পরিসংখ্যান যা বলছে

অভিষেকের পর থেকে বাংলাদেশ দলের পঞ্চম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ইমরুল কায়েস।

৭৮টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে তিনি করেছেন ২৪৩৪ রান।

ইমরুল কায়েসের দলে যে জায়গা, সেখানে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী সৌম্য সরকার ও লিটন দাস।

সৌম্য সরকার ৫৫ ম্যাচে ১৭২৮ রান তুলেছেন।

লিটন দাস তুলেছেন ৩৩ ওয়ানডেতে ৭৬৮ রান।

এই তিনজনের মধ্যে গড়ের দিক থেকে এগিয়ে সৌম্য সরকার, তার চেয়ে এক গড় কম ইমরুল কায়েসের।

দলে ঢোকা ও বাদ পড়া:

২০১১ বিশ্বকাপে ইমরুল কায়েস বাংলাদেশের নিয়মিত ওপেনার হিসেবেই সুযোগ পান।

ইমরুল কায়েস মূলত জায়গা হারান সৌম্য সরকারের কাছে।

এক্ষেত্রে ২০১১ সালের শুরু থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত একটি পরিসংখ্যান দেখলে ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়।

এই সময়ের মধ্যে ইমরুল ২৮ ইনিংস ব্যাট করেন রান তোলেন ৬৫৪।

ওদিকে সৌম্য সরকার, যার অভিষেক হয় ২০১৪ সালে, তিনি দেড় বছরে ১৬ ইনিংস ব্যাট করে রান তোলেন ৬৯২।

২০১৫ বিশ্বকাপের আগে এনামুল হক বিজয়ের পারফরম্যান্স নির্বাচকদের নজর কাড়ে।

প্রথম পছন্দ হিসেবেই তিনি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে সুযোগ পান, কিন্তু স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচে ইনজুরির কারণে তিনি দল থেকে বাদ পড়েন, ডেকে পাঠানো হয় ইমরুল কায়েসকে।

ক্রিকেট, বাংলাদেশ, নিউজিল্যান্ড

ছবির উৎস, Kai Schwoerer

ছবির ক্যাপশান, বেশ কয়েকটি সিরিজের মাঝপথে ডাকা হয়েছে ইমরুল কায়েসকে

যদিও বিশ্বকাপে ইমরুল কায়েস তেমন ভালো করতে পারেননি।

কিন্তু ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগে দলে ফেরত আসেন ইমরুল কায়েস, প্রথম ওয়ানডেতে একটি শতকও হাকান তিনি।

সেবছর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি সিরিজেও তিনি ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ইমরুল কায়েস খেলেন, বাংলাদেশ সেমিফাইনালে খেললেও ইমরুল কায়েস সুবিধা করতে পারেননি সেবার।

২০১৭ সালেই দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজে একটি পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেলেন ইমরুল, একটি ৩১ রানের ইনিংসও ছিল তার নামের পাশে।

কিন্তু যখন এশিয়া কাপের জন্য দল ঘোষণা করা হয়, সেবার ইমরুল কায়েসকে বাদ দিয়ে দল গড়া হয় এবং প্রথম দুই ম্যাচের ব্যর্থতার পরই আবার ইমরুল কায়েসকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ডেকে নিয়ে খেলানো হয়, মাঠে নেমেই ৭২ রানের একটি ইনিংস খেলেন ইমরুল।

এই ফর্ম ধরে রেখে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে একটি ওয়ানডে সিরিজে টানা তিন ওয়ানডেতে ১৪৪, ৯০ ও ১১৫ রানের ইনিংস খেলেন ইমরুল কায়েস।

এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চার ও শুন্য রানে আউট হয়ে যান তিনি।

এরপর আর ওয়ানডে ফরম্যাটে সুযোগ পাননি তিনি।

২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ড সফরের স্কোয়াডে ইমরুল কায়েসকে না রাখায় তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন নির্বাচকরা।

সেবার প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, দল ঘোষণার ক্ষেত্রে বলেছেন এখানে ফর্ম আর কন্ডিশন ভিন্ন।

"ফর্ম ও কন্ডিশন বিবেচনায় ওকে বাদ দেয়া হয়েছে, কিন্তু এখানে কাউকে উপেক্ষা করা হয়নি," বলছিলেন মি: নান্নু।

"তিনটা ওয়ানডের জন্য যারা যাচ্ছে ওদের প্রস্তুতি কতটুকু এটা দেখতে হবে, এর সাথে দেখা হবে যারা যাবেনা তাদেরটাও পর্যবেক্ষণ করা হবে, এরপর আয়ারল্যান্ড ও বিশ্বকাপের দল বিবেচনা করা হবে," ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে এমনটা বলেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু।

যথারীতি বিশ্বকাপের স্কোয়াডেও ছিল না ইমরুল কায়েসের নাম, এরপর যখন তাকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে বিবেচনা করার কথা আসে, তখন পুত্রসন্তানের অসুস্থতার কারণে দলে সময় দিতে পারেননি ইমরুল কায়েস।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন: