সরকারি প্রকল্পের পক্ষে লিখলে ভারতের ঝাড়খন্ডে সাংবাদিকদের মিলবে 'পুরস্কার'

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
- Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি
ভারতে ঝাড়খন্ড রাজ্যের বিজেপি সরকার ঘোষণা করেছে, সেখানে সাংবাদিকরা তাদের উন্নয়নমূলক বা জনকল্যাণ প্রকল্পের খবর প্রচার করলে তাদের আর্থিক পুরস্কার ও ভাতা দেওয়া হবে।
বিরোধী নেতারা বলছেন, ভোটের আগে সংবাদমাধ্যমকে 'কিনে নেওয়ার চেষ্টায়' সরকার আসলে সাংবাদিকতার মানদণ্ড ও নৈতিকতাকেও নির্লজ্জভাবে লঙ্ঘন করছে।
সম্প্রতি ঝাড়খন্ড সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে জানিয়েছে, সে রাজ্যের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক সংবাদমাধ্যমের ৩০জন নির্বাচিত সাংবাদিককে তারা ১৫০০০ রুপির ভাতা দিয়ে পুরস্কৃত করবে।
এই আর্থিক পুরস্কার পাওয়ার শর্ত একটাই, ওই সাংবাদিকদের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প নিয়ে অন্তত চারটি করে রিপোর্ট বা প্রতিবেদন করতে হবে।
নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের ওপর এই প্রতিবেদনগুলো সহ তাদের এরপর সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে।
এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of X post, 1
৩০জন সাংবাদিকের এই চারটি করে প্রতিবেদন - মোট ১২০টি রিপোর্ট থেকে এরপর সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগ ২৫টিকে বাছাই করে সেগুলো নিয়ে আলাদা একটি প্রচার-পুস্তিকাও প্রকাশ করবে।
যে সব সাংবাদিকের প্রতিবেদন ওই প্রচার পুস্তিকায় ঠাঁই পাবে, তারা আবার অতিরিক্ত ৫০০০ রুপি পুরস্কার পাবেন।
ঝাড়খন্ডে পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন, আর সেই ভোটের আগে সরকারের এই ধরনের পদক্ষেপকে বিরোধীরা কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন।
রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চার নেতা হেমন্ত সোরেন টুইটারে লিখেছেন, "শাসক দল বিজেপির সরকার, মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস ও তার কর্মকর্তারা এর মাধ্যমে মূল্যবোধ ও নৈতিকতার সব মানদণ্ড ভেঙে দিয়েছেন।"
"প্রকাশ্যে বিজ্ঞাপন দিয়ে সরকারের প্রচারনা বিভাগ সাংবাদিকদের উন্নয়ন নিয়ে লিখতে বলছে এবং তার জন্য আর্থিক পুরস্কারের টোপ দিচ্ছে!" লিখেছেন তিনি।

ছবির উৎস, Rajiv Ranjan Prasad/Facebook
হেমন্ত সোরেন বিষয়টির প্রতি প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া এবং কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়েরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
বিরোধী কংগ্রেস দলের মুখপাত্র রাজীব রঞ্জন প্রসাদও মন্তব্য করেছেন "ঝাড়খন্ড সরকার যদি রাজ্যের সাংবাদিকদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে কোনও পদক্ষেপ নেয় তাতে আমাদের এমনিতে আপত্তির কিছু নেই।"
"কিন্তু ঠিক ভোটের আগে যেভাবে সাংবাদিকদের আর্থিক ইনামের লোভ দেখানো হচ্ছে, তাতে এর টাইমিং নিয়ে তো প্রশ্ন উঠতে বাধ্য", বলেছেন তিনি।
ক্ষমতাসীন বিজেপি অবশ্য এই পদক্ষেপের হয়ে সাফাই গাইতে দ্বিধা করছে না।
ঝাড়খন্ডে দলের নেতারা বলছেন, সরকার নিজে থেকে এই ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি - বরং রাজ্যের সাংবাদিকরা চেয়েছিলেন বলেই এই পুরস্কারের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজ্যে বিজেপির মুখপাত্র দীনদয়াল 'দ্য প্রিন্ট'কে বলেছেন, "বহুদিন ধরেই রাজ্যের বহু সাংবাদিক এই ধরনের একটি প্রকল্প চালু করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন।"
এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of X post, 2
"আর সাংবাদিকরা যখনই আমাদের সরকারের কাছে কোনও অনুরোধ জানান, আমরা সেটা সব সময়ই রাখার চেষ্টা করি", বলেছেন তিনি।
তবে ঝাড়খন্ডেরই কোনও কোনও সাংবাদিক সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করছেন।
সর্বভারতীয় 'ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস' পত্রিকার ঝাড়খন্ড সংবাদদাতা অভিষেক অঙ্গদ যেমন একে সাংবাদিকদের দিয়ে 'পেইড নিউজ' লেখানোর চেষ্টা বলেও মন্তব্য করেছেন।
তিনি টুইট করেছেন, "কিন্তু এই ধরনের প্রতিবেদনগুলো অনুমোদন করার দায়িত্বে থাকছেন কারা? সেটাও তো আমরা - সাংবাদিকরাই!"
কাজেই "পেইড নিউজকে না বলুন", লিখেছেন অভিষেক অঙ্গদ।








