ক্রিকেট: আফগান বোলার রশিদ খান নিজের বয়স নিয়ে যা বললেন

ভিডিওর ক্যাপশান, বিবিসির রায়হান মাসুদকে দেয়া রশিদ খানের একান্ত সাক্ষাতকার
    • Author, রায়হান মাসুদ
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

কাগজে কলমে আফগান বোলার রশিদ খানের বয়স কুড়ির কিছু বেশী। তিনি এখন বিশ্ব ক্রিকেটের সবচাইতে কম বয়সী টেস্ট ও টিটোয়েন্টি অধিনায়ক।

এই বয়স নিয়েই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে তাকে কম বেশী অনেক খোঁচা সহ্য করতে হয়।

বিস্তর ট্রল রয়েছে তাকে নিয়ে।

কিন্তু তাতেতো আর তার বয়স বেড়ে যাচ্ছে না। কাগজে কলমে তার জন্মদিন ১৯৯৮ সালের ২০শে সেপ্টেম্বরই থাকছে।

এই বয়সে জাতীয় দলে নেতৃত্ব দেয়াটা কতটা চাপের?

বিবিসি বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি বললেন, "এটা কোনো ব্যাপার না। চাপ থাকবেই। হ্যাঁ আমি অনেক কম বয়সী, কিন্তু আমি উপভোগ করি, আমার বোলিং আর নিজেকে"।

"আমি শুধু কঠোর পরিশ্রম করতে চাই। মানুষ কি বলছে ভাবিনা। আমি কখনো মানুষের জন্য খেলিনা, ভাবিনা। আমি নিজের দলের জন্য ও দেশের জন্য খেলি।"

অনেকেই সন্দেহ পোষণ করেন "রশিদ খানের বয়স কি আসলেই ২০"।

রশিদ খানের কাছে সরাসরি এই সন্দেহ নিয়ে প্রশ্ন রাখা হলে তিনি উত্তর দেন ঠিক এভাবে, "ক্রিকেট মানেই চাপ। আপনি অধিনায়ক হন বা ২০ বছরের হন বা ৩০ বছরের হন সেটা কোনো ব্যাপার না।"

রশিদ খান, আফগানিস্তানের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ক্রিকেটার, যিনি লেগ স্পিন দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের সবক্ষেত্রে সফল।

আফগানিস্তান এখন দ্বিতীয় দল, যারা নিজেদের প্রথম তিন টেস্টের দু্টি ম্যাচে জয় পেয়েছে। রশিদ খান তৃতীয় টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১১ উইকেট নিয়ে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন অধিনায়কের দায়িত্বও।

ক্রিকেট

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি বোলার এখন রশিদ খান

রশিদ খান বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি খেলে বেড়ান।

আইপিএলে তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, বিগ ব্যাশ, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-সহ বিশ্বের নামিদামি টি-টোয়েন্টি লিগগুলোতে এমন একজন প্রভাব বিস্তার লেগস্পিনারের কদর বেশ উঁচুতে।

শুধু স্পিন বোলিং না, সময়মতো দ্রুত রান তুলে দেয়ার কাজ করেও দলের ওপর চাপ কমাতে পারদর্শী রশিদ খান।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১৫১ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেন রশিদ খান।

ক্রিকেট

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগে তুমুল জনপ্রিয় রশিদ খান

কোন লিগ সবচেয়ে প্রিয়? এমন প্রশ্নে মি. খান বলেন, "বিভিন্ন লিগে বিভিন্ন পরিবেশ, বিভিন্ন কাজ, যেখানেই যাই ক্রিকেট উপভোগ করার চেষ্টা করি। আইপিএল সবচেয়ে কঠিন লিগ। কঠিন উইকেট। সেখানে প্রচুর দর্শক। আমি আইপিএল ও বিগ ব্যাশ উপভোগ করি। বিগ ব্যাশে উইকেট স্পিনারদের জন্য কঠিন। সেখানে গিয়ে খেলা খুব কঠিন।"

রশিদ খান সাকিব আল হাসানের সতীর্থ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে।

বিবিসি বাংলার কাছে অকপটেই স্বীকার করে নিলেন, সাকিবই বাংলাদেশ দলে তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।

তবে অন্যান্য ক্রিকেটারদের সাথেও সম্পর্ক খুব ভালো।

"সবার সাথেই ভালো সম্পর্ক, তবে সাকিব সবচেয়ে কাছের। হায়দ্রাবাদে আমরা দুই বছর খেলেছি। তবু তামিম আছে, লিটন দাস, মুস্তাফিজুর, তাসকিন সবার সাথেই সম্পর্ক ভালো। তবে সাকিবের সাথে বেশি ভালো," বলছিলেন রশিদ খান।

ক্রিকেট

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, সাকিবকে ভালো বন্ধু ভাবেন রশিদ খান

আবহাওয়ার কারণে বাংলাদেশ পছন্দ রশিদ খানের।

বোলিংয়ে শহীদ আফ্রিদি ও অনীল কুম্বলে রশিদ খানের আইডল। ব্যাটিংয়ে শচীন টেন্ডুলকার।

তবে এখনো আফ্রিদিকে ছাড়িয়ে যেতে তাঁর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, "আফ্রিদি যেভাবে তার দেশের হয়ে খেলেছেন সেখানে যেতে অনেক দেরি। আমার মাত্র শুরু। প্রায় ১৫-১৬ বছর দারুণ খেলেছেন আফ্রিদি, অনেক ভালো পারফর্ম করেছেন।"

বিবিসি বাংলার আরো খবর: