আশুরা দিনটি মুসলিমদের জন্য কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ

আশুরা

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, আশুরার দিন বাংলাদেশে অনেকে বিশেষ প্রার্থনা করেন।

আরবি বর্ষের প্রথম মাস, অর্থাৎ মহরম মাসের ১০ তারিখ মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনটি আশুরা হিসেবে পরিচিত।

ইসলামি বর্ষপঞ্জিতে যে চারটি মাস মুসলিমদের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তার মধ্যে মহররম অন্যতম। ১০ই মহররম দিনটিকে 'বিশেষ মর্যাদার' দৃষ্টিতে দেখে মুসলিমরা।

ইসলামের ভেতর দুটি মত - সুন্নি এবং শিয়া - উভয়ের কাছেই আশুরার দিনটি গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলেন, আশুরা বা ১০ই মহররম দিনটি মুসলিমদের জন্য নানা কারণে তাৎপর্যপূর্ণ।

ইসলামি চিন্তাবিদরা বলছেন নবী মোহাম্মদের সময় থেকে মুসলিমরা ১০ই মহররম পালন করতো। এর পেছনে নানা ধর্মীয় বিশ্বাস নিহিত ছিল।

মুসলিমরা বিশ্বাস করেন, এই দিনটিতে পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে এবং এই দিনেই পৃথিবী ধ্বংস হবে, যেটি মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী কেয়ামতের দিন।

এছাড়া ইসলামের দৃষ্টিতে যারা নবী এবং রসুল বলে পরিচিত তাদের জীবনে এই দিনটিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটছে বলে বিশ্বাস করেন মুসলিমরা।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় আশুরার দিন শোক মিছিল।

ছবির উৎস, NurPhoto

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় আশুরার দিন শোক মিছিল।
আশুরা

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, আশুরার দিন পাকিস্তানে শিয়া সম্প্রদায়ের বিশেষ প্রার্থনার একটি অংশ।

অধ্যাপক রশিদ বলেন, মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী ১০ই মহররম ইসলামের নবী এবং পয়গম্বরদের কেন্দ্র করে নানা ঘটনা ঘটেছে। সেগুলোর স্মরণ করেই নবী মোহাম্মদের সময়কাল থেকে এই দিনটি পালন করা হতো।

পরবর্তীতে এর সাথে যুক্ত হয়েছে কারবালার ঘটনা।

৬৮০ সালে এই দিনে বর্তমান ইরাকের কারবালা নামক স্থানে ইসলামের নবী মোহাম্মদের দৌহিত্র হোসাইন ইবনে আলীকে, যিনি ইমাম হোসাইন নামে পরিচিত, প্রতিপক্ষ হত্যা করে।

এরপর থেকে এই ঘটনাটিও যুক্ত হয় আশুরা পালন করার ক্ষেত্রে। বিশেষ করে শিয়া মতাবলম্বীরা এই ঘটনাটিকে বেশি গুরুত্ব দেয়। সুন্নি মতাবলম্বীদের কাছেও এই ঘটনাটি গুরুত্ব বহন করে।

মুসলিমদের অনেকেই আশুরারা দিন রোজা রাখেন। অনেকে আশুরার আগের দিন এবং পরেরদিনও রোজা পালন করেন।

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে রমজান মাস চালুর আগে আশুরার দিন রোজা পালন করা বাধ্যতামূলক ছিল।

সুন্নি মুসলিমদের অনেকেই ১০ই মহররম বাড়িতে ভালো খাবারের আয়োজন করেন। বাংলাদেশে অনেকের মাঝে এই প্রথা প্রচলিত আছে।

কিন্তু ইসলামী চিন্তাবিদরা মনে করেন, আশুরার দিনে ভালো খাবারের আয়োজন করতেই হবে - এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই।

আশুরা

ছবির উৎস, MOHAMMED SAWAF

ছবির ক্যাপশান, ইরাকের কারবালা শহরে আশুরার দুই দিন আগে খাবার বিতরন করা হচ্ছে দিনটিকে স্মরণ করে। সেখানে ১০দিন ধরে শোক পালন করা হয়।
আশুরা

ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMAN

ছবির ক্যাপশান, আশুরার দিন বাংলাদেশে শিয়া মতাবলম্বীদের বিশেষ প্রার্থনা।

মুসলিমরা বিশ্বাস করেন, এই দিনটিতে ইসলামের নবী মোহাম্মদের পরিবারের যেসব সদস্য মারা গেছেন তাদের জন্য দোয়া পাঠ করা গুরুত্বপূর্ণ।

এ কারণে সুন্নি এবং শিয়া মতাবলম্বীদের অনেকেই বাড়তি নামাজ আদায় করেন।

তবে সুন্নি মুসলিমদের চেয়ে শিয়া মুসলিমরা আশুরার দিনটিকে যেভাবে পালন করেন সেটি বেশ চোখে পড়ার মতো।

বিভিন্ন জায়গায় তাজিয়া মিছিল বের করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিয়া মতাবলম্বীরা তাদের নিজেরে শরীরে ছুরি মেরে কষ্ট অনুভব করেন।

তাদের বিশ্বাস নবী মোহাম্মদের দৌহিত্র হোসাইনকে হত্যার সময় যে তিনি যে কষ্ট পেয়েছিলেন, তারাও নিজেদের পিঠে ছুরি মেরে সে কষ্ট অনুভবের চেষ্টা করেন।

তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। বাংলাদেশে যেসব তাজিয়া মিছিল বের হয় সেখানে প্রচুর সুন্নি মতাবলম্বীরাও অংশ নেয়।

বাংলাদেশের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে ১০ই মহররমকে সরকারিভাবে বেশ গুরুত্ব দেয়া হয়।

এদিন সরকারি ছুটিও থাকে সবসময়।

সম্পর্কিত পুরনো খবর: