তাজিয়া-হামলায় আইএসের যোগ নাকচ করল সরকার

bangla_bd_bomb_blast_old_dhaka
ছবির ক্যাপশান, হোসাইনী দালানে হামলার ঘটনায় পুলিশ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে
    • Author, ওয়ালিউর রহমান মিরাজ
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় শিয়া সম্প্রদায়ের মূল ধর্মীয় স্থাপনা হোসাইনী দালান ইমামবাড়ায় বোমা হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।

ঐ হামলার ঘটনায় ইসলামিক স্টেটের পক্ষ থেকে দায় স্বীকার করার দাবি করা হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিবিসিকে বলেছেন যে আইএস নয়, বরং ষড়যন্ত্রমূলকভাবে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরী করতে শিয়া স্থাপনায় বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

এই ঘটনার পর সরকার বিরোধী বেশ কিছু নেতা-কর্মীকে গ্রেফতারের পর বিএনপি’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে সরকার ব্যর্থতা ঢাকতে বিরোধীদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে।

আশুরা উপলক্ষ্যে শিয়া সম্প্রদায়ের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় ঢাকার হোসাইনী দালানে হামলার ঘটনায় চকবাজার থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে এদিন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।

মামলায় আসামী করা হয়েছে অজ্ঞাত পরিচয়ধারীদের। যদিও ঘটনার পর পুলিশ চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে, এই মামলায় তাদের এখনও গ্রেফতার দেখানো হয়নি।

পুলিশ বলছে শুক্রবার রাতের ঐ হামলায় হাতে তৈরী গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছিল, আর এতে মারা যান এক কিশোর এবং আহত হন অন্তত ৫০ জন।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বিবিসিকে বলেছেন, তাঁরা আত্মবিশ্বাসী যে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

মধ্যপ্রাচ্য-ভিত্তিক ইসলামিক স্টেট এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে, ওয়েব-ভিত্তিক নজরদারী প্রতিষ্ঠান সাইট এমন খবর দিলেও সরকার অবশ্য এই দাবিকে আমলে নিতে একেবারেই আগ্রহী নয়।

bangla_asaduzzaman_khan
ছবির ক্যাপশান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল

এর আগে বাংলাদেশে বিদেশী নাগরিক হত্যার ঘটনায় আইএস-এর পক্ষ থেকে একই রকমভাবে দায়িত্ব স্বীকার করা হলেও সরকার তা নাকচ করে দিয়েছিল।

সরকার কেন আইএস-এর কথিত এই দাবিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না, তা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘ইসলামিক স্টেট এখানে নিছক একটা প্রোপাগান্ডা। বাংলাদেশে আই এস-এর কোনও অস্তিত্ত্ব নেই!’’

‘‘বাংলাদেশে আসলে যারাই আই এস, তারাই জেএমবি, তারাই হুজি, তারাই আবার অনসারুল্লাহ্ বাংলা টিম’’, বলেন আসাদুজ্জামান খান কামাল।

শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর হামলার পরপরই পুলিশ বাহিনীর প্রধান এ কে এম শহীদুল হক বলেছিলেন যে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা চায় না এবং দেশের স্বাধীনতা চায়নি এমন কোন গোষ্ঠী এই হামলা চালিয়েছে বলে তাদের বিশ্বাস।

এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি এবং দলটির রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর বেশ কিছু নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এদেরকে গ্রেফতারের কারণ হিসেবে পুলিশ নাশকতার অভিযোগ করছে।

তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করছেন, সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতা ঢাকার জন্যে বিরোধীদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

মি. আলমগীর আরো বলছেন, যে কোন ঘটনার জন্যে সরকার বিরোধীদের দায়ী করার ফলে আসল অপরাধীরা পার পেয়ে যেতে পারে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সাম্প্রতিক কোন হত্যাকাণ্ডে তাঁর দল কোনভাবেই জড়িত নয়, বরং দলটি ক্ষমতায় থাকতে জঙ্গী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল।