বাংলাদেশে তরল দুধ আতঙ্ক, কীভাবে সামলাচ্ছেন মায়েরা

শিশুর পরিচর্যা করছেন একজন মা (ফাইল ছবি)

ছবির উৎস, Majority World

ছবির ক্যাপশান, তরল দুধ নিয়ে আতঙ্কে আছেন অনেক মা
    • Author, মুন্নী আক্তার
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

রাজধানী মধ্য বাড্ডার বাসিন্দা ফারজানা খালিদ। সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী এক সন্তানের এই মা জানান, সম্প্রতি বাচ্চাকে পাস্তুরিত তরল দুধ খাওয়ানো বন্ধ করেছেন তিনি।

তরল দুধের পরিবর্তে তিনি বাচ্চাকে দিচ্ছেন গুঁড়ো দুধ।

সম্প্রতি, পাস্তুরিত তরল দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিটারজেন্টের মতো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যাওয়ায় বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের উপর পাঁচ সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাইকোর্ট।

এরপর থেকে শিশুদের তরল দুধ দেয়া কমানো এবং অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ করে দেয়ার কথা জানান অনেক অভিভাবক।

কারণ হিসেবে ফারজানা খালিদ বলেন, গণমাধ্যমে তরল দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিটারজেন্টের মতো উপাদান থাকার খবর দেখে তিনি শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

"মা হিসেবে আসলে এমনিতেই আমরা বাচ্চার খাবার দাবার নিয়ে একটু সচেতন থাকি। এমনিতেই আমাদের মনের ভেতর একটু অন্যরকম টেনশন থাকে যে বাচ্চাকে যে খাবারটা দিচ্ছি সেটা ঠিক কিনা যেহেতু সেটা কেনা খাবার। কিন্তু দুধের ভিতর এসব উপাদান পাওয়ার পর দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে দিয়েছি বিশেষ করে তরল দুধ। লিকুইড দুধের যে প্যাকেট কিনতে পাওয়া যায় সেটা একেবারেই বন্ধ।"

বাংলাদেশে তরল দুধ নিয়ে আতঙ্ক

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে তরল দুধ নিয়ে আতঙ্ক

দুধের খরচ বেড়েছে

ফারজানা খালিদ জানান, দুধ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরণের খাবার তৈরিতেও তরল দুধ ব্যবহার বন্ধ করেছেন তিনি। ব্যবহার করছেন গুঁড়ো দুধ।

তবে এভাবে তরল দুধের বিকল্প হিসেবে গুঁড়ো দুধ ব্যবহার করার কারণে পরিবারের আর্থিক খরচ কিছুটা বেড়েছে বলে জানান তিনি।

"বাজারে একটু ভালো ব্র্যান্ডের যেসব গুঁড়ো দুধ পাওয়া যায় যা আমরা খাওয়াতে চাই, সেগুলো ৫০০-৭০০ থেকে শুরু করে এক হাজার, বারশ...। হুট করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় শিফট করতে হলে খরচ এমনিতেই বেড়ে যায়," তিনি বলেন।

এছাড়া পাস্তুরিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দুধে নিষেধাজ্ঞার কারণে গুঁড়ো দুধের দামও বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মধ্য বাড্ডার গুদারাঘাট এলাকার একজন ব্যবসায়ী জানান, দুধের উপর নিষেধাজ্ঞার কারণে তরল দুধের চাহিদা কিছুটা কমেছে।

তবে এর কারণে গুঁড়ো দুধের চাহিদা বাড়েনি বরং এর বিক্রি আগের মতোই আছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, "বাজেট পাশ হওয়ার পর গুঁড়ো দুধের দাম কিছুটা বেড়েছে। প্রতি কেজিতে ৪০-৫০ টাকা বেড়েছে।" কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এই দাম আরো কিছুটা বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

তবে বনানী এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, তরল দুধ বিক্রি বন্ধই করে দিয়েছেন তিনি।

অনেক মা শিশুকে শুধুই গুঁড়ো দুধ দিচ্ছেন

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, অনেক মা শিশুকে শুধুই গুঁড়ো দুধ দিচ্ছেন

গুঁড়ো দুধ কি সমাধান?

একটি পরিবারের দুধের চাহিদা পূরণে সাময়িক ভাবে গুঁড়ো দুধ ব্যবহার করা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এর আগে গুঁড়ো দুধে মেলামাইনের উপস্থিতি ধরা পড়ায় সেক্ষেত্রেও সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের শিক্ষক ড. শারমিন রুমি আলম বলেন, মায়েরা যেহেতু এখন শিশুদের তরল দুধ খাওয়াতে ভয় পাচ্ছেন তাই তারা আপাতত গুঁড়ো দুধ খাওয়াতে পারেন। তবে সেটা কখনোই দীর্ঘ মেয়াদে নয়।

তিনি বলেন, "তরল দুধ যেহেতু আমরা খেতে পারছি না, তার জন্য এখন আমাদের পাউডার মিল্ক বিকল্প হিসেবে কাজ করবে তা না। কারণ অতীতে আমরা দেখেছি,পাউডার মিল্কের মধ্যেও মেলামাইন পাওয়া গেছে।"

তরল দুধ ও গুঁড়ো দুধের মধ্যে গুণগত মানে তেমন কোন পার্থক্য নেই বলে জানান তিনি। সেদিক থেকে একটা আরেকটার পরিপূরক হতে পারে। তবে, তার মতে, দীর্ঘ মেয়াদে এটি কখনোই তরল দুধের বিকল্প হতে পারে না।