ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে রোহিঙ্গাদের বোঝাতে মিয়ানমারের চেষ্টা

শরণার্থী শিবিরে কয়েকজন রোহিঙ্গা শিশুর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, শরণার্থী শিবিরে কয়েকজন রোহিঙ্গা শিশুর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।
    • Author, কাদির কল্লোল
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তাদেরকে বোঝাতে মিয়ানমার সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি দল রোহিঙ্গা নেতাদের সাথে কথাবার্তা শুরু করেছে।

বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলেছেন, এবিষয়ে মিয়ানমার সরকার এই প্রথম রোহিঙ্গাদের সাথে সরাসরি কথা বলছে।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে ১০ জন কর্মকর্তা এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান-এর প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে কক্সবাজারে শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন। সেসময় বাংলাদেশের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সফরের প্রথম দিনে শনিবার তারা উখিয়ায় কুতুপালং শিবির পরিদর্শন করেন।

উখিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, মিয়ানমারের সরকারি কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের সামনে তাদেরকে ফেরত নেয়ার ব্যবস্থাপনা তুলে ধরেছেন।

"ফেরত নিয়ে কোথায় রাখবে, তাদের শিক্ষা বা স্বাস্থ্য বিষয়ে কী ব্যবস্থা নিয়েছে, এসব বিষয়ে তারা একটি প্রেজেন্টেশন দিয়েছে। তারা রোহিঙ্গাদের কথাও শুনেছে। আগামীকাল রোববারও এই আলোচনা চলবে।"

রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন বিষয়ক বাংলাদেশ সরকারের কমিশনার আবুল কালাম রোহিঙ্গাদের সাথে এই আলোচনাকে অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

কক্সবাজারে মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধি দল।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, কক্সবাজারে মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধি দল।

তবে মতবিনিময়ে অংশ নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একজন নেতা নুর আলম বলছিলেন, ফেরত যাওয়ার ব্যাপারে তাদের নাগরিকত্ব এবং নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে তারা নিশ্চিত হতে পারছেন না। এই দাবিগুলো নিয়ে তারা মিয়ানমারের সাথে সরাসরি আলোচনা বা সংলাপ অব্যাহত রাখতে চান।

রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করেন শিউলি শর্মা। তিনি বলেছেন, "রোহিঙ্গাদের মধ্যে মিয়ানমার সরকারের ব্যাপারে আস্থার সংকট রয়েছে। কারণ মিয়ানমার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বাস্তবায়ন করে না। ১১লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার পর মিয়ানমার সরকারের পদক্ষেপগুলোতে সেটাই প্রমাণ করেছে।"

এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে এখন মিয়ানমার সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার একটা প্রকাশ তারা দেখছেন।