হিজাব কিংবা শাড়ির পিন ব্যবহারে সতকর্তা কেন জরুরি?

ছবির উৎস, Getty Images
হিজাব কিংবা শাড়ির পিন শ্বাসনালীতে আটকে গেলে তা বয়ে আনতে পারে জীবনের ঝুঁকিও।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নুরুল হুদা নাঈম জানিয়েছেন এমন তথ্য।
সম্প্রতি সিলেটের জকিগঞ্জের খাদিমান গ্রামের বাসিন্দা সুমনা বেগমের গলায় আটকে যাওয়া হিজাব পিনটি কোন অস্ত্রোপচার ছাড়াই বের করেছেন ডা. নাঈম।
তিনি বলেন, "এক্সরের মাধ্যমে পিনটির অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর ব্রঙ্কোসকপির মাধ্যমে সেটি অপসারণ করেছি আমরা।"
তবে এমন ঘটনা এটি প্রথম নয় বলে তিনি জানান।
"তিন চার মাস আগে গাড়ির এক মেকানিকের চিকিৎসা করেছি। মুখে গাড়ির পিন নিয়ে কাজ করার সময় ছোট একটি পিন শ্বাসনালীতে আটকে যায় তার।"
এধরণের ঘটনা ইদানীং অনেক বেশি দেখা যায় বলে জানিয়েছেন ডা. নাঈম।
আর তার পরেই সচেতনতার অংশ হিসেবে এই সতর্কতা দিয়েছেন তিনি।
আরো পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, নুরুল হুদা নাইম
বিউটিশিয়ান জেবুন নাহার বলেন, "কাস্টমারদের শাড়ি কিংবা অন্য পোশাক পরাতে গেলে একটি পিন হাতে নেই। আরেকটি মুখে রাখি।"
তবে এ পর্যন্ত কখনো শ্বাসনালীতে পিন আটকে যায়নি তার।
তিনি বলেন, "আগে জানতাম না যে পিন গিলে ফেললে এতো বড় বিপদ হতে পারে। এখন জানলাম। ভবিষ্যতে সাবধান হবো।"
২০১১ সাল থেকে হিজাব পরেন তানজিম মুনিয়াত। তিনি জানান, হিজাব আটকাতে মুখে কখনও পিন রাখেন না তিনি।
তিনি বলেন, "অনেকে সেফটি পিন, টেইলরিং পিন কিংবা ববি পিন মুখে নিয়ে তারপর ব্যবহার করেন। তবে আমার একটু ওসিডি আছে বলে আমি এগুলো মুখেই দিতে পারি না।"
"আমি ড্রেসিংয়ের জায়গায় ছোট হাত বালিশ কিংবা তুলার বল রেখে দেই। যাতে পিনগুলো গেঁথে রাখি। আগে ডিস্ক বা কোন একটা বাক্সে রেখে দিতাম। কিন্তু সেটা বের করতে গেলে খোঁচা লাগতো," তিনি বলেন।
তবে এখন থেকে এসব পিন ব্যবহারে আরো বেশি সতর্ক হবেন এবং অন্যদেরও সতর্ক করবেন বলে জানান তিনি।
গলায় আটকে যাওয়া পিন কীভাবে তোলা হয়?
ডা. নাঈম বলেন, গলায় শ্বাসনালীতে পিন আটকে যাওয়ার ঘটনা এ পর্যন্ত বেশ কয়েক বার চিকিৎসা দিয়েছেন তিনি।
"হঠাৎ গলায় কিছু আটকে গেলে আমরা দুটি কাজ করি। প্রথমত শ্বাসটা তুলে ভেতরে টান দেই। ফলে এটি সরাসরি শ্বাসনালীতে চলে যায়।"
"আর দ্বিতীয়ত, ঢোক গেলার চেষ্টা করি। কিন্তু মুখ বন্ধ করে ঢোক গিলতে গেলে একটু সময় লাগে। আর এই সময়টাতেই ওই বস্তুটি শ্বাসনালীতে চলে যায়," তিনি বলেন।
শ্বাসনালীতে পিন আটকে যাওয়া কতটা ক্ষতিকর হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পিনের কারণে শ্বাসনালীর যে অংশ আটকে যেতো সে অংশটি ফুলে যায়। একটা সময় সেখানে সংক্রমণ দেখা দেয়।
"প্লাঙ্কস অকেজো হয়ে যায়। ফলে বাতাস আর পৌঁছায় না। প্রদাহ অনেক বেড়ে যায়। এমনকি ওই অংশটা ফোঁড়ার মতো হয়ে যেতে পারে।"
আমাদের দেশের অনেকে বেশিরভাগ সময়ে নারীরা সাজগোজ করার সময় মুখে পিন রেখে তারপর সেগুলো ব্যবহার করেন।
"হঠাৎ করেই যদি এটি মুখ থেকে গলায় চলে যায় তাহলে মারাত্মক বিপত্তি ঘটতে পারে বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, "আমরা বলতে চাই যে, এই বদভ্যাসটা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আসতে পারে। একটা বড় ক্ষতির সম্ভাবনা নিয়ে আসতে পারে।"
কোনভাবেই মুখে কিছু আটকে কোন কাজ না করার আহ্বানও জানান তিনি।








