তুরস্কে নিজের প্রতিপক্ষ পেয়ে গেছেন এরদোয়ান?

পুন:নির্বাচনে ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়েছেন ইক্রেম ইমামোগলু

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, পুনঃনির্বাচনে ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়েছেন ইক্রেম ইমামোগলু।

তুরস্কে ছয় মাস আগেও খুব অল্প মানুষই ইক্রেম ইমামোগলু নামটি শুনেছেন।

মূলত তিনি ছিলেন ইস্তানবুলের একটি মধ্যম পর্যায়ের জেলা বেলিকডুযুর মেয়র।

কিন্তু এখন তার নাম দেশটির সব মানুষের জানা।

কারণ ইস্তানবুলের মেয়র নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ও তার ইসলামপন্থী একেপি পার্টিকে বড় ধাক্কা দিয়েছেন তিনি।

মিস্টার ইমামোগলু দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ রিপাবলিকান পিপলস পার্টি বা সিএইচপির সদস্য।

তার জনপ্রিয়তা মূলত বাড়তে থাকে গত ডিসেম্বরে ইস্তানবুলের মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পাবার পর থেকেই।

তুর্কি রাজনীতিতে চরম বিভেদ কমিয়ে আনা আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই- এ দুটি বিষয়কে সামনে রেখেই নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন তিনি।

ইক্রেম ইমামোগলু মার্চের শেষে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনেই জিতেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর একেপি পার্টি অনিয়মের অভিযোগ তোলে।

পরে দেশটির নির্বাচনী সংস্থা এক কোটি পঞ্চাশ লাখ মানুষের শহর ইস্তানবুলে পুন:নির্বাচনের আদেশ দেয়।

হেরে গেছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের প্রার্থী

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, হেরে গেছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের প্রার্থী

ইস্তানবুল দুর্গ?

পুন:নির্বাচনেও ইক্রেম ইমামোগলু যথেষ্ট ভোট লাভ করেছেন।

এবং এর মাধ্যমে দীর্ঘ ২৫ বছর পরে শহরটির নিয়ন্ত্রণ হারালো একেপি পার্টি।

এমনকি পুন:নির্বাচনে আগের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন মিস্টার ইমামোগলু।

তুরস্কের পাওয়ার হাউজ

তুরস্কের রাজনীতিতে ইস্তানবুলের গুরুত্ব অপরিসীম।

দেশের অর্থনীতিতে শহরটির যা অবদান তা পর্তুগাল, গ্রিস কিংবা মিসরের চেয়েও বেশি।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেছিলেন, "ইস্তানবুল যে জিতবে, তুরস্কও সে জিতবে"।

এই শহরেরই সাবেক মেয়র এরদোয়ান দেশটির সরকার চালাচ্ছেন ২০০২ সাল থেকে।

প্রেসিডেন্ট রেচেপ তায়েপ এরদোয়ান

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, প্রেসিডেন্ট রেচেপ তায়েপ এরদোয়ান

কমন গ্রাউন্ড

১৯৯৪ সালে মেয়র হিসেবে এরদোয়ানের আকস্মিক বিজয়ই তাকে জাতীয় রাজনীতিতে বিজয়ের দিকে নিয়ে যায়।

ধর্মীয় স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন তিনি এবং ইমামোগলুও এরদোয়ানের মতো একই ধর্মের অনুসারী।

যদিও ব্যবসায় ডিগ্রী নিতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এসেছিলেন ইস্তানবুলে।

দুজনের আরেকটি মিল হলো—ফুটবল নিয়ে।

ইমামোগলু ও এরদোয়ান দুজনেই ফুটবল পাগল। নিজেরাও খেলেছেন নিজেদের সময়ে।

নির্বাচনেও সে বিষয়টি উঠে এসেছিলো প্রচারণায়।

২৫ বছর পর পরিবর্তন এলো শহরের নেতৃত্বে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ২৫ বছর পর পরিবর্তন এলো শহরের নেতৃত্বে

তবে দলের ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির বাইরে এসে ইমামগলু নির্বাচনের প্রচারণার সময় মসজিদে গিয়েছেন ও কোরানও পড়তে দেখা গেছে থাকে, যেটি আসলে এরদোয়ানকে করতে দেখা যায়।

২০২৩ সালে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

অনেকেই মনে করেন মিস্টার এরদোয়ানকে সেই নির্বাচনে মিস্টার ইমামোগলু মোকাবেলা করতে হবে।

ইক্রেম ইমামোগলুর কাছে বিবিসি জানতে চেয়েছিলো তিনি নিজেকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চান কি-না।

উত্তর তিনি হেসে বলেছেন, "আল্লাহ জানেন"।