ইস্তাম্বুলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের দল

ইস্তাম্বুলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন একে পার্টি। শহরের মেয়র পদে পুন:নির্বাচনের ফলাফল প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের জন্য একটি আঘাত হিসাবেই দেখা দিয়েছে।
বেশিরভাগ ভোট গণনার পর দেখা যাচ্ছে, প্রধান ক্ষমতাসীন দল ইক্রেম ইমামোগলু ৭ লাখ ৭৫ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। অথচ এর আগের নির্বাচনের সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সঙ্গে তার ভোটের পার্থক্য ছিল মাত্র ১৩ হাজার।
একে পার্টি অনিয়মের অভিযোগ তোলার পর মার্চ মাসের ওই নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করা হয়।
এই ফলাফলের মাধ্যমে ইস্তাম্বুলে একেপির ২৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটলো।
একেপির প্রার্থী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলড্রিম তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইপ এরদোয়ান টুইটারে লিখেছেন, ''আমি ইক্রেম ইমামোগলুকে অভিনন্দন জানাচ্ছি যে,প্রাথমিক ফলাফলে তিনি বিজয়ী হয়েছেন।''
এর আগে মি. এরদোয়ান ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, 'ইস্তাম্বুলে যে বিজয়ী হবে, সেই হবে তুরস্কের বিজয়ী।'
আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, Reuters
২০০৩ সাল থেকে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী, পরে প্রেসিডেন্ট হিসাবে তুরস্ক শাসন করছেন মি. এরদোয়ান। আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা মুস্তাফা কামাল আতার্তুকের পরে তাকেই সবচেয়ে ক্ষমতাশালী শাসন বলে মনে করা হয়।
বিজয় বক্তৃতায় রিপাবলিকান পিপলস পার্টির নেতা মি. ইমামোগলু বলেছেন, এটা তার শহর এবং দেশের জন্য নতুন সূচনা। কারণ তার সমর্থকরা গণতন্ত্রকে ঠিকঠাক করে দেবেন।
তিনি বলেছেন, ''আমরা ইস্তাম্বুলে নতুন একটি পাতা খুলছি। এই নতুন পাতায় থাকবে ন্যায়বিচার, সমতা আর ভালোবাসা।''
তিনি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানিয়েছেন।
৯৯ শতাংশ ভোট গণনার পর দেখা যাচ্ছে, মি. ইমামোগলু ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়েছেন আর মি. ইলড্রিম পেয়েছেন ৪৫ শতাংশ।
৪৯ বছরের ইমামোগলু ইস্তানবুলের বেলিকডুযু জেলার মেয়র ছিলেন, তবে মার্চের নির্বাচনের আগে তার নাম খুব কম মানুষই জানতো।
অন্যদিকে মি.ইলড্রিম একেপির একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, যখন তুরস্ক প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতিতে পরিবর্তিত হয়।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন সংসদে স্পিকার হিসাবে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর আগে তিনি সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রী হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ছবির উৎস, EPA
ইস্তাম্বুল কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ?
এটি হচ্ছে তুরস্কের সবচেয়ে বড় শহর। এখানে প্রায় দেড় কোটি মানুষ বসবাস করে, যেখানে পুরো তুরস্কের জনসংখ্যা মাত্র আট কোটি।
ইস্তাম্বুল দেশটির প্রধান ব্যবসা কেন্দ্রও।
মি. এরদোয়ানের রাজনৈতিক জীবনের উত্থান শুরু হয়েছিল এই শহর দিয়ে, যখন প্রায় পঁচিশ বছর আগে এই শহরের নিয়ন্ত্রণে আসে একেপি। ১৯৯৪ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ইস্তাম্বুলে মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন মি. এরদোয়ান।
তুরস্কের মোট জিডিপির প্রায় এক-তৃতীয়াংশের যোগান দেয় ইস্তানবুল।
এমনকি মি. এর্দোয়ানের শৈশবের জেলা বেয়োগলুতেও জয় পেয়েছেন মি.ইমামোগলু।
এখন ইস্তাম্বুল, ইযমির আর আঙ্কারা, সবগুলো বড় শহরই বিরোধী শিবিরের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলো।
অনেকে মনে করছেন, এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের যুগের সমাপ্তিপর্ব শুরু হলো।








