আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ভারতে প্রচন্ড গরম পড়েছে: রাজস্থানের ছোট শহর চুরু এখন পৃথিবীর উষ্ণতম
- Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
- Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি
ভারতে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে যে চরম তাপপ্রবাহ চলছে, তাতে কোনও কোনও জায়গায় তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসও ছাড়িয়ে গেছে।
আবহাওয়া-বিষয়ক ওয়েবসাইট এল ডোরাডো জানাচ্ছে, গত চব্বিশ ঘন্টায় বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণতম পনেরোটি স্থানের মধ্যে দশটিই ছিল ভারতে।
পনেরোটির মধ্যে বাকি চারটি ছিল পাকিস্তানে ও একটি কুয়েতে।
বস্তুত উত্তর ও মধ্য ভারতের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মানুষ প্রচন্ড দাবদাহে ভীষণ কষ্ট পাচ্ছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মৌসুমী বৃষ্টিপাত এবার কিছুটা দেরিতে ভারতে প্রবেশ করায় পরিস্থিতি আরও সাঙ্ঘাতিক হয়ে উঠেছে।
ভারতে রাজস্থানের মরু অঞ্চলে চুরু শহরে গত কয়েকদিন ধরেই তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে।
গতকাল সোমবার সেখানে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৫০.৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড।
আর শুধু চুরুই নয়, রাজস্থানের গঙ্গানগর, বিকানের, সওয়াই মাধোপুর, পিলানি, জয়সলমির, হরিয়ানার নারনাউল বা উত্তরপ্রদেশের বান্দার মতো শহেরগুলোতেও তাপমাত্রা পঞ্চাশ ছুঁই-ছুঁই!
আর এই সব জনপদের বেশির ভাগই জায়গা করে নিয়েছে এই মুহুর্তে বিশ্বের 'হটেস্ট টপ টেনে'।
চুরুতে এক কৃষক দম্পতির কথায়, "এই মারাত্মক গরমে আর রোদে আমাদের বাড়ি থেকে বেরোনোই বন্ধ হয়ে গেছে।"
"পঞ্চাশ ডিগ্রিতে কোনও কাজ করাও সম্ভব নয়, আর ফলে আমাদের রুটি-রুজিও এখন ঘোর সঙ্কটে", বলছিলেন তারা।
ভারতে আবহাওয়া বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এম মহাপাত্র বিবিসিকে জানাচ্ছেন, গত তিন-চারদিন ধরে উত্তর-পশ্চিম ও মধ্য ভারতে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে সেটাকে বলা হয় 'তীব্র তাপপ্রবাহ' বা 'সিভিয়ার হিট-ওয়েভ কন্ডিশন'।
"আরও দুশ্চিন্তার কথা হল, এমন কোনও ওয়েদার সিস্টেমও আমরা দেখতে পাচ্ছি না যাতে আগামী কয়েকদিনে এই অঞ্চলে বৃষ্টি আশা করা যেতে পারে", বলছেন মি মহাপাত্র।
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা এখন মধ্যপ্রাচ্য বা সাহারান আফ্রিকাকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে - এবং রাজধানী দিল্লিতেও তাপমাত্রা ছেচল্লিশ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে।
দিল্লির রাজপথে ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পর্যটকরাও এই মারাত্মক গরমে কাবু।
মুম্বাইয়ের একদল ট্যুরিস্ট যেমন বলছিলেন, তাদের আশা ছিল দিল্লিতে বোধহয় মুম্বাইয়ের মতো প্যাচপ্যাচে গরম হবে না - কিন্তু দিল্লি যে এরকম তেতে আছে তারা ভাবতেই পারেননি।
"আগে জানলে এই 'সুপারহট' শহরে হয়তো আমরা আসতামই না", এমন কথাও বলছেন অনেকেই।
মৌসম ভবনের বিজ্ঞানী সোমা সেনরায় মনে করছেন এবারে ভারতের এই তাপপ্রবাহ সত্যিই ব্যতিক্রমী।
তার কথায়, "পশ্চিম রাজস্থান, পাঞ্জাব, দক্ষিণ উত্তরপ্রদেশ ও বিদর্ভ-সহ ভারতের যতটা বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এ বছর সিভিয়ার হিট-ওয়েভ রেকর্ড করা হয়েছে, তা সত্যিই বিরল।"
এর একটা কারণ হতে পারে, গত ৩১ মে যে তিন মাসের প্রি-মনসুন পিরিওড বা প্রাক-মৌসুমী বৃষ্টির সময়কাল শেষ হয়েছে - গত ৬৫ বছরের মধ্যে ভারতে সেই সময়কাল ছিল দ্বিতীয় শুষ্কতম।
ভারতে বেসরকারি আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা স্কাইমেটও মনে করছে এবার মৌসুমী বৃষ্টিও ভারতে বিশেষ একটা সুখবর বয়ে আনবে না।
স্কাইমেটের চিফ ফোরকাস্টার মহেশ পালাওয়াট বিবিসিকে বলছিলেন, "প্রথম কথা মনসুন এবার ভারতে ঢুকছেই অনেক দেরি করে।"
"আমাদের ধারণা ৭ জুন মনসুন কেরালা উপকূলে আঘাত হানবে।"
"কিন্তু সাধারণত মনসুন যেরকম প্রবল বৃষ্টির মধ্যে দিয়ে কেরালা বা কর্নাটকে আছড়ে পড়ে এবারে কিন্তু তার সেই তীব্রতাও থাকবে না।"
ফলে প্রায় বৃষ্টিহীন গত তিন মাস, এখন রেকর্ড-ভাঙা পঞ্চাশ ডিগ্রি ছুঁই ছুঁই তাপমাত্রা এবং ছিঁটেফোঁটা বৃষ্টির আশাও অনেক দূরে - এটাই এখন ভারতের এক বিস্তীর্ণ অংশের ছবি।
আর এই অসহনীয় পরিস্থিতির মধ্যেই হাঁসফাঁস করছে দিল্লি থেকে রাজপুতানা, বিদর্ভ থেকে বুন্দেলখন্ড।