জন্মদিনের কেক, আইসক্রিম ভাগ করে খাওয়া কতটা নিরাপদ?

কেক, ক্রিম, সিবিএসই, দিল্লি পাবলিক স্কুল, রানচি, ভারত, রেজাল্ট, পরীক্ষা, ২৮শে মে, ২০১৬,

ছবির উৎস, Hindustan Times/ Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মুখে কেক মেখে আনন্দ উদযাপন করছেন একদল তরুণী। (ফাইল ছবি)

প্রফেসর পল ডাউসন সাউথ ক্যারোলিনার ক্লেমসন ইউনিভার্সিটির খাদ্যবিজ্ঞানী। তিনি দেখিয়েছেন - কিভাবে একটি ক্রিসপিতে কামড় দেওয়ার পর সেটি যখন আবার কামড় দেওয়ার আগে সস বা অন্য কিছুতে চুবানো হয় তখন কিভাবে ব্যাকটেরিয়া ছড়ায়।

নয়জন স্বেচ্ছাসেবকের ওপর পরিচালিত জরিপে তিনি দেখেছেন, কিভাবে প্রতি তিন থেকে ছয়টি কামড়ে গড়ে দশ হাজারের মতো ব্যাকটেরিয়া একজনের কাছ থেকে আরেকজনের কাছে সংক্রমিত হয়।

তিনি বলেছেন, "কল্পনা করুন এবার অনেকে একসাথে ডাবল ডিপিং ক্রিসপ যখন খান তখন কত ব্যাকটেরিয়া ছড়ায়।"

প্রফেসর ডাউসন বলছেন, সস বা এ ধরণের কিছুতে চুবানোর আগে হাত বা আঙ্গুল দিয়ে ধরাটাই একটা বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।

"তবে এটা নির্ভর করে ওই যিনি খাবারটা ধরছেন তিনি কতটা পরিচ্ছন্ন বা হাইজেনিক এবং এটা বিভিন্ন জনের বিভিন্ন ধরণের হয়।"

একই আইসক্রিম খাওয়া

আইসক্রিম ছাড়া ছুটির দিন চলেনা। কিন্তু তারপরেও আইসক্রিম ভাগ করে খাওয়ার একটি দীর্ঘ এবং করুণ ইতিহাসও আছে।

১৫০ বছর আগে যুক্তরাজ্যে একটি ছোট গ্লাসে আইসক্রিম বিক্রি করতো যার নাম ছিলো 'পেনি লিক'। আইসিক্রম খাওয়ার পর ক্রেতারা গ্লাসটি বিক্রেতাকে ফেরত দিতো। পরে তাতে আবার আইসক্রিম ভরে বিক্রেতা অন্য ক্রেতার কাছে বিক্রি করতেন। এ থেকেই যক্ষ্মা আর কলেরা জীবাণু ছড়াতো বলে মনে করা হয়। ১৯৮৯ সালে পরে এর বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তাহলে শেয়ারিং আইসিক্রম কি বিপজ্জনক? - এমনকি একই আইসক্রিম থেকে দুটি চামচ ব্যবহার করে খাওয়াটাও বিপদের কারণ হতে পারে।

আর দয়া করে কেউ কুকুরের সাথে আইসক্রিম শেয়ার করবেননা।

এভাবে আইসক্রিম খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে
ছবির ক্যাপশান, এভাবে আইসক্রিম খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে

পপকর্ণ

একটি পাত্রে পপকর্ণ নিয়ে অনেকে মিলে খাওয়া একটি নিয়মিত স্বাভাবিক দৃশ্য। কিন্তু এটি কি খারাপ কিছু?

ক্লেমসন ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, অল্প পরিমাণে হলেও ব্যাকটেরিয়া ছড়াচ্ছে যখন পপকর্ণ ওভাবে হাত দিয়ে নাড়ানো হচ্ছে। বাসা বাড়ির চেয়ে পাবলিক প্লেসে এ শঙ্কা বেশি থাকে।

তাই সচেতন হলে ওভাবে শেয়ার করে পপকর্ণ না খাওয়াই ভালো।

যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম কিংবা শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

এভাবে পপকর্ণও খাওয়া যাবেনা
ছবির ক্যাপশান, এভাবে পপকর্ণও খাওয়া যাবেনা

হ্যাপি ব্যাকেটরিয়া টু ইউ

প্রফেসর ডাউসন বলছেন, যখন বার্থডে কেক এর ওপর মোমবাতি জ্বালানো হয় তার আগে ওই কেকে ১৪ গুণ বেশি পর্যন্ত ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। যদিও এটা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।

আবার কারও যদি সংক্রামক রোগ থাকে, তাহলে সেটাও ঝুঁকির কারণ হতে পারে অন্যদের জন্য।

ফ্লোরে পড়া খাবারে 'ফাইভ সেকেণ্ড রুল'

ফ্লোরে খাবার পড়লে তাতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত হতে পাঁচ সেকেণ্ড সময় লাগে। এ কারণে অনেকেই পড়ে যাওয়া খাবার দ্রুত তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

অ্যাস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি হিলটন বলছেন, এ নিয়মটি কার্যত সঠিক; তবে এটা নির্ভর করে কোন ধরণের খাবার এবং কোথায় সেটি পড়েছে।

কাঠের মেঝের চেয়ে কার্পেট এ ধরণের কিছু থেকে ব্যাকটেরিয়া বেশি ছড়াতে পারে।

সতর্ক থাকতে হবে বার্থ ডে কেক নিয়েও
ছবির ক্যাপশান, সতর্ক থাকতে হবে বার্থ ডে কেক নিয়েও।

আমাদের আসলে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত ?

অবশ্যই সব ব্যাকটেরিয়াই ক্ষতিকর নয়। কোন ধরণের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত হচ্ছে সেটার ওপরও ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে বলে বলছেন প্রফেসর ডাউসন।

তিনি বলছেন, এ ধরণের গবেষণাগুলো খুব বড় নিরাপত্তা ইস্যু নয়, তবে মানুষকে সচেতন করতে পারে।