ভাঙ্গার জন্য খালি করা হচ্ছে হাতিরঝিলের বিজিএমইএ ভবন

ঢাকার হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় একটি জলাশয়ের মধ্যে যথাযথ অনুমতি ছাড়াই ১৬ তলা এই ভবনটি নির্মাণ করেছিল বিজিএমইএ

ছবির উৎস, BBC BANGLA

ছবির ক্যাপশান, ঢাকার হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় একটি জলাশয়ের মধ্যে যথাযথ অনুমতি ছাড়াই ১৬ তলা এই ভবনটি নির্মাণ করেছিল বিজিএমইএ

বাংলাদেশের ঢাকায় হাতিরঝিলের একাংশে গড়ে ওঠা বিজিএমইএ ভবন হিসেবে পরিচিত ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে।

রাজউকের পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার অলিউর রহমান বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন ভবনটি ভাঙ্গার আগে ভবনের মধ্যে থাকা জিনিসপত্র অপসারণ শুরু হয়েছে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে।

যদিও পুরো ভবনটি কিভাবে ভাঙ্গা হবে জানতে চাইলে মিস্টার রহমান বলেন আগে ভবনটি খালি করা হবে এবং এরপর সিদ্ধান্ত হবে যে কোন প্রক্রিয়ায় বা কিভাবে ভবনটি ভাঙ্গা হবে।

"বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে। ভবন খালি হওয়ার পর আলোচনা করে পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবো আমরা"।

তিনি জানান আজ সকালে হাতিরঝিলের কারওয়ান বাজার অংশে বিজিএমইএ ভবনে গিয়েছেন তারা।

"এখনো যাদের অফিস রয়েছে তাদের সব কিছু নিয়ে সরে যেতে বলা হয়েছে আর পাশাপাশি গ্যাস বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে"।

এদিকে আজ সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক পুলিশসহ বুলডোজার সহ প্রয়োজনীয় উপকরণ ভবনের কাছে নেয়া হয়েছে।

দীর্ঘ আইন প্রক্রিয়া শেষে আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়

২০১১ সালের ৩রা এপ্রিল জমির স্বত্ব না থাকা ও জলাধার আইন লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ করায় বিজিএমইএ ভবন ভাঙ্গার রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

বিজিএমইএ ভবনকে হাতিরঝিল প্রকল্পে 'ক্যান্সারের মত' বলে হাইকোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছিল।

রায়ে নিজ খরচে ভবনটি ভাঙ্গতে বিজিএমইএ-কে নির্দেশ দেয়া হয়।

পরে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হবার পর রায়টি পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল বিভাগের কাছে আবেদন করেছিল বিজিএমইএ।

কিন্তু ২০১৭ সালে বিজিএমইএ-র ১৬ তলা ভবন ভেঙ্গে ফেলার আদেশ বহাল রাখে আপিল বিভাগ।

সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া রায় পুনর্বিবেচনার জন্য বিজিএমইএ-র করা আবেদন তখন খারিজ করে দিয়েছিলো তখনকার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ।

এরপরে নানা আইনি প্রক্রিয়ার পর ওই ভবন থেকে সরে যেতে কয়েক দফা সময় পায় বিজিএমইএ।

শেষ পর্যন্ত আর সময় চাইবেনা মর্মে মুচলেকা দিলে আদালত গত বছর ভবন থেকে সরে যেতে এক বছর অর্থাৎ ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছিলো বিজিএমইএকে।

কর্মকর্তারা বলছেন বিজিএমই ভবনটি দুটি বেজমেন্টসহ মোট ১৬ তলা। তবে নিজেদের জন্য কয়েকটি ফ্লোর রেখে বাকীগুলো ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়েছিলো।

এখান থেকে সরে গেছে বিজিএমইএ

ছবির উৎস, BBC BANGLA

ছবির ক্যাপশান, হাতিরঝিলের ভবনটি থেকে সরে গেছে বিজিএমইএ

বিজিএমইএ ভবন এখন উত্তরায়

পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নির্মাণাধীন ভবন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংগঠনটি জানিয়েছে উত্তরায় ১৩ তলা ভবন নির্মাণ চলছে এবং প্রায় ছয়তলা পর্যন্ত নির্মাণ শেষ হয়েছে।

পুরো ভবনের কাজ শেষ হতে আরও দু বছর সময় লাগবে।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর: