আমেরিকার সর্বোচ্চ আদালত বলছে - মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর ব্যথাহীন মৃত্যুর অধিকার নেই

রাসেল বাকলো

ছবির উৎস, MISSOURI DEPARTMENT OF CORRECTIONS

ছবির ক্যাপশান, ১৯৯৬ সালে রাসেল বাকলোকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বলেছে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর ব্যথাহীন মৃত্যুর অধিকার নেই। মিজৌরী অঙ্গরাজ্যে একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর করা মামলায় দেশটির সর্বোচ্চ আদালত এমন রায় দিয়েছে।

১৯৯৬ সালে সাবেক প্রেমিকাকে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে এবং একই সাথে সেই প্রেমিকার নতুন প্রেমিক ও ছয় বছর বয়সী ছেলেকে হত্যার জন্য ৫০ বছর বয়সী রাসেল বাকলোকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

রাসেল বাকলো বিষ ইনজেকশন না দিয়ে বরং গ্যাস প্রয়োগে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অনুরোধ করেন।

তিনি দাবি করেন যে তার মস্তিষ্কের বিরল একটি অসুখ রয়েছে।

তিনি আদালতকে জানান যে এই অসুখের কারণে তার গলা, ঘাড় ও মুখে রক্তযুক্ত টিউমার হয়ে থাকে।

বিষ ইনজেকশন প্রয়োগে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে তাকে অনেক বেশি কষ্ট পেয়ে মৃত্যুবরণ করতে হবে।

আরো পড়ুন:

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের প্যানেল।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের প্যানেল।

কারণ তাতে টিউমারগুলো ফেটে যেতে পারে।

আদালত এক বিরল রায়ে বলেছে, "মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর ব্যথাহীন মৃত্যুর অধিকার নেই।"

আদালত বলেছে তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কার্যকর করার বিষয়টি বিলম্বিত করার কায়দা হিসেবে এই অসুখটিকে ব্যবহার করছেন।

আদালত আরও বলেছে, কি প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে তার কষ্টের ঝুঁকি কম হবে সেটি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন মি. বাকলো।

মামলা চলাকালীন মি. বাকলো যুক্তি তুলে ধরেন যে মার্কিন সংবিধানে নিষ্ঠুর সাজা আইনত অবৈধ।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র যে পদ্ধতি অবলম্বন করতে চায় তা নিষ্ঠুর সাজার সমতুল্য।

২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়োগ দেয়া বিচারক নিল গরসাচ বলেন, "মার্কিন সংবিধানে নিষ্ঠুর কায়দায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা অবৈধ করা হলেও তাতে ব্যথাহীন মৃত্যুর নিশ্চয়তা নেই।"

রাসেল বাকলোর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিশ বছর ধরে ঝুলে আছে।

এই রায়ের ফলে সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ব্যাপারে আর কোন বাধা রইলো না।

অন্যান্য খবর: