ইমাম ছাড়াই আ্যালাবামার মুসলিম বন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ডোমিনিক রয়

ছবির উৎস, ALABAMA DEPT OF CORRECTIONS VIA AFP

ছবির ক্যাপশান, ডোমিনিক রয়

ইমামকে ছাড়াই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলো যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাবামা অঙ্গরাজ্যের মুসলিম বন্দী ডোমিনিক রয়ের।

তার আইনজীবীদের আবেদনের পর একটি ফেডারেল কোর্ট মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। কিন্তু ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে রাজ্য সরকার।

এরপর সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদনটি খারিজ করে দেয়ার পর, বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়েই প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়।

আদালতের কাছে মি. রয়ের আবেদন ছিল যে, তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকরের সময় যেন খৃষ্টান যাজক উপস্থিত না থেকে একজন ইমাম উপস্থিত থাকেন, যাতে তিনি নিজের ধর্মের একজন ইমামের কাছ থেকে ধর্মীয় নির্দেশনা এবং স্বস্তি অনুভব করতে পারেন।

এই আবেদনের পর ফেডারেল আদালত সাময়িকভাবে ওই দণ্ডাদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। তবে ওই আদেশের বিরুদ্ধে দ্রুত আপিল করে রাজ্য কর্তৃপক্ষ।

সুপ্রিম কোর্ট ডোমিনিক রয়ের আবেদনটি খারিজ করে দেয়।

আরো পড়ুন:

অ্যালাব্যামা রাজ্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর কক্ষ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, অ্যালাব্যামা রাজ্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর কক্ষ

এর আগে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করে তিন বিচারকের প্যানেল বলেছিলেন, ''রাজ্যের বিরুদ্ধে মি. রয়ের শক্তিশালী দাবি রয়েছে।''

''এখানে সাংবিধানিক সমস্যাটি হলো যে, কোন খৃষ্টান বন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় রাজ্যটি সেখানে নিয়মিতভাবে খৃষ্টান যাজককে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেয়।।"

"কিন্তু একজন মুসলিম এবং অন্য ধর্মের বন্দিদের ক্ষেত্রে একই সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।''

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

অ্যালাব্যামা সংশোধনাগার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খৃষ্টান যাজক ক্রিস সামারস ১৯৯৭ সাল থেকে প্রত্যেক খৃষ্টান বন্দির মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকরের সময় উপস্থিত থাকেন।

পাশাপাশি তার ইমাম ইউসুফ মাইসোনেট ২০১৫ সাল থেকে ওই কারাগারের বন্দিদের ধর্মীয় সেবা দিয়ে আসছেন। ওই ইমামকেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর কক্ষে থাকতে দেয়ার আবেদন করেছিলেন রয়। তবে সেখানে থাকতে না পারলেও ইমাম প্রত্যক্ষদর্শীদের কক্ষে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে।

১৯৯৫ সালে অ্যালাব্যামা রাজ্যে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ এবং হত্যার অভিযোগে ডোমিনিক রয়কে ১৯৯৯ সালে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।