ভারত-পাকিস্তান সংঘাত: দুই বিমান বাহিনীর লড়াইয়ের পর আলোচনার কেন্দ্রে যে বন্দী পাইলট

ভারতীয় বিমান বাহিনীর যে পাইলট আকাশে এক লড়াইয়ের পর পাকিস্তানের হাতে আটক হয়েছেন, সেই আভিনন্দন ভার্থামানকে ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

বুধবার পাকিস্তানী বিমান বাহিনীর বিমান ধাওয়া করতে গিয়ে তার বিমানটি পাকিস্তানের সীমানার মধ্যে ভূপাতিত হয় এবং তিনি আটক হন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে বুধবার গুলি করে ভারতীয় দুটি বিমান ভূপাতিত করা হয়েছিল।

এখন দু'দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন আভিনন্দন ভার্থামান।

তার আটক হওয়ার বিষয়টিকে ভারতের জন্য বড় ধরনের একটি বিপত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বুধবারই পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে ডেকে গ্রেপ্তার হওয়া পাইলট আভিনন্দনকে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ভারতের সামাজিক মাধ্যমে বহু মানুষ তার ব্যাপারে টুইট করেছেন।

পাকিস্তান সরকারের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ছোট ভিডিও আপলোড করা হয়েছিল, সেটি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়ে গেছে।

কে এই আভিনন্দন?

আভিনন্দন ভার্থামান আদতে চেন্নাইয়ের বাসিন্দা।

তার বাবা সীমাকুট্টি ভার্থামান ছিলেন ভারতীয় বিমান বাহিনীর এয়ার মার্শাল। স্ত্রীও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন, তবে এখন অবসর নিয়ে নিয়েছেন।

২০০৪ সালে ভারতীয় বিমানবাহিনীর ফাইটার পাইলট হিসাবে কমিশন পান আভিনন্দন।

পাকিস্তানী তথ্য মন্ত্রণালয় প্রথমে আভিনন্দনের একটি ভিডিও আপলোড করে যেখানে তার রক্তমাখা মুখ এবং চোখা বাধা অবস্থায় দেখা যায়। পরে অবশ্য সেটি মুছে ফেলা হয়।

আরও পড়ুন:

পরবর্তীতে আরেকটি ভিডিও আপলোড করা হয়, যেখানে তাকে চোখ খোলা অবস্থায় একটি কাপে চা পান করতে দেখা যায়। সেখানে তিনি নিজের নাম, সামরিক পদ এবং নিজেকে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা বলে উল্লেখ করেন।

তবে যখন তাকে প্রশ্ন করা হয় "আপনার মিশন কি ছিল?", তখন এর থেকে বেশী কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর বলেছেন, "তার ব্যাপারে সামরিক নীতির মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে"।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি নিউজ অনলাইন জানিয়েছে, পাকিস্তানে তার গ্রেপ্তার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই চেন্নাইতে তার বাড়িতে ভিড় জমতে শুরু করে।

গ্রেপ্তারের বিষয়ে তার পরিবার কোনও মন্তব্য করতে চায়নি, কিন্তু একজন আত্মীয়কে উদ্ধৃত করে হিন্দুস্তান টাইমস লিখেছে যে তারা চান সরকার যেন যত দ্রুত সম্ভব মি. আভিনন্দনকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে।