ভারত-পাকিস্তান সংঘাত: কাশ্মীরের সর্বশেষ যে অবস্থা

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে গতকাল চরম উত্তেজনাপূর্ণ একটি দিন কাটানোর পর লাইন অফ কন্ট্রোল (এলওসি) বা নিয়ন্ত্রণ লাইনের দু'পাশে বেশ থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

কলকাতা থেকে বিবিসি বাংলার অমিতাভ ভট্টশালী জানাচ্ছেন, ভারত শাসিত কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলার কৃষ্ণাঘাটি অঞ্চলে আজ ভারত আর পাকিস্তানী বাহিনীর মধ্যে আবারও গুলি বিনিময় হয়েছে।

শ্রীনগর থেকে বিবিসির সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, ভোর ছ'টার দিকে দুইপক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। তবে ঘন্টাখানেকের মধ্যে তা থেমেও গেছে।

ভারতীয় সেনা কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষ্ণাঘাটির ওই গুলি বিনিময়ে কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই।

মঙ্গল ও বুধবারের ভারত আর পাকিস্তানের পাল্টাপাল্টি বিমান হামলার পরে আজ তুলনামূলকভাবে শান্তই রয়েছে নিয়ন্ত্রণ রেখা।

বুধবার সকালে পাকিস্তানের বিমানবাহিনী ভারতে বোমাবর্ষণ করার পরে যেসব বিমানবন্দরে বেসামরিক বিমান চলাচলের ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল, তাও তুলে নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু দুই দেশই তাদের সীমান্ত অঞ্চলে সব ধরণের সতকর্তা নিয়েছে।

ভারতের পাঞ্জাব সরকার বুধবার একটি জরুরী বৈঠক করেছে, যেখানে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে কী ধরণের জরুরীকালীন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তার বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

একটি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে পাকিস্তান সীমানা লাগোয়া অমৃতসর, তরণতারণ, ফিরোজপুর, পাঠানকোটের মতো জেলাগুলোর জেলাশাসকরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলতে হবে।

জেলাভিত্তিক যে বিপর্যয় মোকাবেলা পরিকল্পনা রয়েছে, সেটা হালনাগাদ করতে হবে।

রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিযোগাযোগ কোম্পানি, মোবাইল সংস্থা, থানা, হাসপাতালগুলিতে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে হবে।

ওদিকে ভারত-শাসিত কাশ্মীরেও উত্তপ্ত পরিস্থিতির নিরিখে হাসপাতালগুলোর ছাদে লাল রঙের ক্রস চিহ্ন আঁকা হচ্ছে, যাতে বিমান থেকে বোঝা যায় যে সেগুলি চিকিৎসা কেন্দ্র।

এদিকে করাচী থেকে স্থানীয় সাংবাদিক মনির আহমেদ জানাচ্ছেন, বুধবারের সংঘাতের পর পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখছে।

তবে তারা কোন 'অ্যাকশনে' যাচ্ছে না।

মি.আহমেদ বলছেন, ভারত কী ব্যবস্থা নেয় বা কী জবাব দেয় - সেটি বুঝে তারা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

ভোররাতে স্থলবাহিনীর গোলাগুলির খবর এলেও সেটিকে সাধারণ ঘটনা বলেছেন তিনি।

তিনি জানান, পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীর অংশে সাধারণ জনগণকে কোথাও সরে যাওয়ার কোন নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বরং পাকিস্তানের স্থলবাহিনী, বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সেখানে স্কুল-কলেজ আগের নির্দেশনা অনুযায়ী সাময়িক বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে আর কোন নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে জানান মি.আহমেদ।

পাশাপাশি বিমানবন্দরগুলোতেও বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের যে নিষেধাজ্ঞা তা বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বলবৎ ছিল।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন: