মমতা ব্যানার্জীর ধর্ণা: কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে জেরার মুখে বসতে হবে - সুপ্রিম কোর্ট

ছবির উৎস, KOLKATA POLICE
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে জেরার মুখে বসতে হবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই মি. কুমারকে গ্রেপ্তার করতে পারবে না।
ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এটাও বলেছে, কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে কোনও নিরপেক্ষ স্থানে জেরা করতে হবে।
কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা জেরা করতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে সারা ভারতে শোরগোল পড়ে গেছে, কিছুক্ষণ আগে ভারতের শীর্ষ আদালতের নির্দেশ এসেছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী গত তিনদিন ধরে পুলিশ কমিশনারকে জেরার করার ইস্যুতে কলকাতায় ধর্না-অবস্থান করছেন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আসার পরে মিজ. ব্যানার্জী প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেছেন, "এটা আমাদের নৈতিক জয়। রাজীব কুমার কখনই বলে নি যে সে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করবে না। সে কোনও একটা নিরপেক্ষ জায়গায় মুখোমুখি বসতে চেয়েছিল।"
আবার বিজেপি নেতারা শীর্ষ আদালতের নির্দেশকে ব্যাখ্যা করছেন "সিবিআইয়ের জয়" হিসাবে।
আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, Getty Images
কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআই অভিযোগ করেছে যে সারদা চিট ফান্ড মামলায় তদন্ত করার সময়ে রাজীব কুমার বেশ কিছু নথি এবং প্রমাণ বাজেয়াপ্ত করেছিলেন, কিন্তু সেগুলো সিবিআইকে দেওয়া হচ্ছে না।
একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলেও রাজীব কুমার কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের সামনে হাজির হন নি।
সারদা সংস্থা বেআইনিভাবে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল। ২০১৩ সালে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
কাশ্মীরের গুলমার্গ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সারদা সংস্থার মালিক সুদীপ্ত সেন আর তার এক সহযোগী দেবযানী মুখার্জীকে।
বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর
ওই মামলার প্রাথমিক তদন্ত ভার ছিল যে বিশেষ দলের ওপরে, তারই প্রধান ছিলেন এখনকার কলকাতা পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার।
পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ দায়ের হয় যে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকে ওই মামলার দায়িত্ব দেওয়া হোক এবং তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল যে সারদা সংস্থা যেভাবে অর্থ সংগ্রহ করেছে, তার পিছনে মদত ছিল প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের।
শীর্ষ আদালত প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরও খুঁজে বার করতে নির্দেশ দেয় সি বি আইকে।
ওই অভিযোগ বেশ কিছুদিন ধরে করলেও, হঠাৎই গত রবিবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা নাটকীয়ভাবে পুলিশ কমিশনারের সরকারী বাসভবনের সামনে হাজির হয়ে যান জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য।
কলকাতা পুলিশ প্রথমে বাধা দেয় তদন্তকারীদের আর তারপরে সিবিআই অফিসারদের টেনে হিঁচড়ে থানায় নিয়ে যায়।
রবিবার সন্ধ্যায় কলকাতায় তারপরে ঘটতে থাকে একের পর এক নাটকীয় এবং অভাবনীয় ঘটনা।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে গিয়ে বৈঠক করেন অন্য শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে।
সেখান থেকে বেরিয়ে মিজ. ব্যানার্জী ঘোষণা করেন যে. তিনি এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে ধর্না অবস্থানে বসছেন।

ছবির উৎস, BBC BANGLA
গত তিনদিন ধরে মমতা ব্যানার্জী কলকাতার ধর্মতলায় মঞ্চ বানিয়ে অবস্থান চালাচ্ছেন, যেখান থেকে তিনি বারে বারে অভিযোগ করছেন যে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপির অঙুলি নির্দেশেই তার প্রশাসনের ওপরে আক্রমণ চালানো হচ্ছে। নিজের রাজ্যের বাহিনীর পাশে থাকার বার্তা দিয়ে মমতা ব্যানার্জী বলেন, ওই ঘটনা সাংবিধানিক কাঠামোর ওপরে সরাসরি আঘাত।
মিজ. ব্যানার্জীর অবস্থানকে ভারতের সব বিরোধী দলগুলি সমর্থন করেছে।
যেভাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের কাজে বাধা দেওয়া হয় আর তাদের থানায় আটক করে রাখা হয়, সেই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননারও অভিযোগ করেছিল।
যেহেতু শীর্ষ আদালতের নির্দেশেই তারা তদন্ত চালাচ্ছিল, তাই তদন্তকারীদের বাধাদান আদালত অবমাননার সমান।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আজ ওই আদালত অবমাননার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব, পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল আর কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নোটিস দিয়েছে।
২০ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির আগেই পশ্চিমবঙ্গের তিন শীর্ষ অফিসারকে জবাব দাখিল করতে হবে।








