আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশ ক্রিকেট: বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ড সফর কি বাংলাদেশের জন্য আসল পরীক্ষা?
- Author, রায়হান মাসুদ
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ড সফরই শেষ প্রস্তুতি। বিশ্বকাপের চিন্তা বাদ দিয়েও কেবল নিউজিল্যান্ড সফরে ভালো করার জায়গা আছে বলে মনে করেন বাংলাদেশের একজন ক্রিকেট বিশ্লেষক ও ক্রিকেট মেন্টর নাজমুল আবেদীন ফাহিম।
২০১৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রথম মিশন নিউজিল্যান্ড সফর।
সেখানে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ ও তিনটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল।
সাড়ে ১১ বছর পর বিদেশের মাটিতে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ
বাংলাদেশ শেষবার বিদেশের মাটিতে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলে শ্রীলঙ্কায়।
২০০৭ সালের জুন-জুলাই মাসে সিরিজটি অনুষ্ঠিত হয়।
যেখানে তিনটি ম্যাচেই বাংলাদেশ ইনিংস ব্যবধানে হেরে যায়।
এবারে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ।
নাজমুল আবেদীন ফাহিম এই তিন টেস্ট খেলায় শারীরিক ধকলের ওপর জোর দিয়েছেন, যেহেতু বাংলাদেশ প্রায় ১ মাসের বেশি সময় ব্যাপী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের মতো একটি আসর খেলছে।
আরো পড়ুন:
"বাংলাদেশের সব ক্রিকেটাররাই ভারী ক্রিকেট খেলে নিউজিল্যান্ড যাচ্ছে, বিপিএলে কঠিন ক্রিকেট খেলা হয়, শারীরিক একটা ধকল গেছে।"
তবে তিনটি টেস্ট ম্যাচ খেলার সুবিধার কথাও জানিয়েছেন তিনি, "তিন টেস্ট খেলার সুবিধাও হবে, আর আসল ক্রিকেট যেহেতু টেস্ট ক্রিকেট, সেখানে বাংলাদেশ ব্যাটিং-বোলিংয়ের দক্ষতা বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ থাকবে। যেমন প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ হয়তো বুঝে নিতে পারবে কন্ডিশন ও উইকেট। দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টে ভালো করার সুযোগটা থাকবে।"
দুটো টেস্টের সিরিজে যেটা হয়, বুঝে নিতে নিতেই সময়টা চলে যায়। সেক্ষেত্রে খুব বেশি উন্নতির সুযোগ থাকে না।
তবু মি: ফাহিম হুশিয়ার করেছেন যে তিন টেস্টের ধকল বাংলাদেশের সামলে ওঠা একটা চ্যালেঞ্জ হবে।
টেস্ট ক্রিকেটে বিদেশের মাটিতে খুব বেশি আশা নিয়ে বাংলাদেশ যায়না।
টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড একে অপরের বিপক্ষে মোট ১৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে ২০০১ সাল থেকে।
যার মধ্যে তিনটি ম্যাচ ড্র হয়েছে, একটি ম্যাচেও জয় পায়নি বাংলাদেশ, বাকি ১০টি ম্যাচে নিউজিল্যান্ড জিতেছে।
২০১৭ সালের নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশের বড় হাইলাইটস ছিল মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানের জুটি।
যেখানে সাকিব ২১৭ রান তোলেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ মনে করেন, বাংলাদেশের টেস্টে বড় শক্তির জায়গা ব্যাটিং।
মি: ফারুক বলছেন, "বাংলাদেশের যারা মূল ক্রিকেটার তারা ব্যাটসম্যান, তামিম-সাকিব-মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। বাংলাদেশ যত ভালো ব্যাটিং করবে তত ভালো বোলিং করতে পারবে। টেস্টে বাংলাদেশের বোলিং খুব বলার মতো না, ব্যাটিংয়ে যদি বিপর্যয় ঘটে সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভালো করা কঠিন হয়ে পড়বে।"
তবে দেখা যাক টেস্টে বোলিংয়ে কেমন ছিল বাংলাদেশের বোলাররা?
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রানের মতো সেরা উইকেট শিকারীর তালিকায়ও এক নম্বরে আছেন সাকিব আল হাসান।
তবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করেছেন মাশরাফি। যিনি শেষবার টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন ২০০৯ সালে।
'ওয়ানডেই হবে বাংলাদেশের জেতার মঞ্চ'
বিশ্লেষকরা মনে করছেন বাংলাদেশ বিশ্বের যে কোনো কন্ডিশনে ওয়ানডেতে জেতার জন্যই খেলে।
টেস্টে এখনো ঠিক বিদেশের মাটিতে জেতার মতো দল গড়ে না উঠলেও বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১০টি ওয়ানডে ম্যাচে জয় পেয়েছে।
২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ওয়ানডে ক্রিকেটের হাইলাইটস হয়ে থাকবে।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা বেশ ভালো দেখছেন ফারুক আহমেদ, "শেষ দুই বছরের পারফরম্যান্স যেটা বলে অন্তত টেস্টে না হলেও ওয়ানডেতে একটা ব্যালান্সড দল বাংলাদেশ। শুধু খেলার জন্য না সামনে একটা বড় টুর্নামেন্ট আছে তাই এই সিরিজের ফর্মটা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।"
"মুস্তাফিজ, রুবেল, মাশরাফি তিনজন মিলিয়ে ভালো একটা পেস বোলিং লাইন আপ হতে পারে। এমনকি সাইফুদ্দিন দারুণ ফর্মে আছেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে।"
"টেস্টের জন্য খুবই অনভিজ্ঞ একটা বোলিং লাইন আপ। কিন্তু ওয়ানডেতে বাংলাদেশের এই দলটা বিশ্বেরই অন্যতম অভিজ্ঞ একটা দল।"
যাদের ওপর থাকবে বাড়তি নজর
বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠিত পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে নিউজিল্যান্ড সফরের ওয়ানডে দলে সুযোগ পেয়েছেন সাইফুদ্দিন।
যিনি এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে বল হাতে নজর কেড়েছেন।
ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে একটি ম্যাচে শেষ ওভারে ম্যাচ জিতিয়েছেন ফেনীর এই অলরাউন্ডার।
১১ ম্যাচে ১৬.২৩ গড়ে ১৭টি উইকেট নিয়েছেন সাইফুদ্দিন।
এবারের দলে না থেকে আলোচনা উঠেছে ইমরুল কায়েসকে নিয়ে।
ইমরুল কায়েস দলে না থাকায়, সৌম্য সরকার ও লিটন দাসের ব্যাটিংয়ের দিকে বাড়তি নজর থাকবে।
ইমরুল কেন দলে নেই,এনিয়ে দ্বিধা ও বিভক্তি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেও ছিল।
২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে ওয়ানডে ফরম্যাটে সর্বোচ্চ (১১৯) রান তোলেন ইমরুল কায়েস।
তাই সৌম্য-লিটন ভালো না করলে স্বভাবতই ইমরুল কায়েস না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে সবচেয়ে সমালোচিত নাম সাব্বির রহমান, তাকে দলে নেয়ার পর ক্রিকেট অঙ্গনে প্রশ্ন ওঠে।
প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, অধিনায়ক মাশরাফির ওপর দিয়েছেন এই সিদ্ধান্তের দায়ভার।
চলতি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে সাব্বির ১২ ম্যাচে ২৭৬ রান তুলেছেন।