আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে মজুরি যাচাইয়ে কমিটি
- Author, শাহনাজ পারভীন
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতনে কোন অসামঞ্জস্য আছে কিনা, সেটি পর্যালোচনা করে দেখতে একটি কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশের সরকার, যে কমিটি একমাসের মধ্যে সুপারিশ দেবে।
বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশের শ্রম সচিব আফরোজা খান জানিয়েছেন কয়েকটি গ্রেডের বেসিক বেতন কমে যাওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। বেতনে কোন অসামঞ্জস্য আছে কিনা সেটি পর্যালোচনা করতে গঠিত কমিটি এক মাসের মধ্যে সুপারিশ দেবে। সেই অনুযায়ী পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
মজুরি বৃদ্ধির দাবীতে বাংলাদেশে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন মঙ্গলবার সকাল থেকে আবার শুরু হয়েছে।
সকাল আটটার দিকে কয়েক হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক রাজধানী ঢাকার মিরপুর কালশি এলাকায় রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে। এ সময় সড়কে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।
এছাড়া শ্রমিকরা বিমানবন্দর সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে।এ সময় পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। তখন পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সাভারের হেমায়েতপুর এলাকাতেও শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে।
আরো পড়ুন:
শ্রমিকদের অভিযোগ
নতুন কাঠামো নিয়ে বেতন নিয়ে শ্রমিকদের এমন ক্ষোভের বহি:প্রকাশ দেখা যাচ্ছে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে।
পোশাক শ্রমিকরা বলছেন, নতুন বেতন স্কেল হওয়া সত্বেও তাদের অধিকাংশের বেতন তেমন বাড়েনি। তাদের অভিযোগ, মালিকেরা বর্ধিত কাঠামো নিয়ে নানা ধরনের কারসাজি করছেন।
একজন শ্রমিক বলছিলেন, ''নতুনদের বেতন ২৭০০টাকা বাড়ছে, কিন্তু কই আমরা যারা আগে থেকে কাজ করছি, আমাদের তো কোন বেতন বাড়েনি। বরং আমাদের বেতন কমে গেছে। কারণ আমাদের বেসিক বেতন কমিয়ে দিয়েছে, ফলে আমাদের ওভারটাইমও কমে গেছে।''
শ্রমিকেরা অভিযোগ করছেন, এখন অনেক কারখানায় হেলপার রাখা হচ্ছে না। তাই তাদের বর্ধিত বেতনও দিতে হচ্ছে না। বরং মেশিন অপারেটরদের কাজের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। উল্টো তাদের বেসিক বেতন কমিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই ওভারটাইমের পরিমাণও কমে গেছে। গত পাঁচ বছর ইনক্রিমেন্ট পেয়ে শ্রমিকদের বেতন যতটা বেড়েছে, নতুন কাঠামোতে সেই বেতনের সাথে তেমন কোন পার্থক্য নেই।
গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কার্যকরী সভাপতি কাজি মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলছেন, শ্রমিকদের গ্রেড নামিয়ে বেতন কম দেয়ার চেষ্টাও চলছে।
বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:
গত সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে আট হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। গার্মেন্টস মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মজুরি বোর্ডের সভায় ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়।
শ্রমিক প্রতিনিধিরা ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার টাকা করার দাবি জানাচ্ছিলেন। অন্যদিকে মালিকপক্ষ ৭ হাজারের বেশি দিতে রাজী হচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে মালিকরা নূন্যতম মজুরি ৮০০০ টাকা নির্ধারণে রাজি হয়।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে নতুন মজুরী কার্যকরের কথা থাকলেও মালিকপক্ষ সেটি বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে বলে শ্রমিকদের অভিযোগ।
নতুন মজুরি নির্ধারণের আগে বাংলাদেশে বর্তমানে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ছিল ৫ হাজার ৩শ টাকা। এটি নির্ধারণ করা হয় ২০১৩ সালে। তখন সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, প্রতি পাঁচ বছর পর পর শ্রমিকদের মজুরি নতুন করে নির্ধারণ করা হয়।
আন্দোলনের পেছনে দেশী-বিদেশী উস্কানি রয়েছে: বিজিএমইএ সভাপতি
গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ'র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, শ্রমিকদের এ আন্দোলনের পেছনে দেশী-বিদেশী উস্কানি বা ষড়যন্ত্র রয়েছে। কারণ নিচের গ্রেডেই সাধারণত বেশি বাড়ে। তেমনটাই হয়ে আসছে।
তিনি বলেন, চলমান শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে ২০-২৫ কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিজিএমই সভাপতি দাবি করেন, নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী প্রতিটি গ্রেডে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়েছে।
পোশাক শ্রমিকদের নেতারা বলছেন, নতুন কাঠামোতে হেলপার ছাড়া অন্য গ্রেডের বেতন সেই অর্থে যে খুব একটা বাড়ছে না সেটি নিয়ে তারা আলোচনার চেষ্টা করলেও তাতে কর্ণপাত করা হয়নি।