ভারতে শিখ-বিরোধী দাঙ্গায় কংগ্রেস নেতার যাবজ্জীবন

ছবির উৎস, Hindustan Times
- Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
- Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি
ভারতে ৩৪ বছর আগেকার ভয়াবহ শিখ-বিরোধী দাঙ্গাতে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে দিল্লি হাইকোর্ট আজ বিরোধী দল কংগ্রেসের এক সিনিয়র রাজনীতিবিদ সজ্জন কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।
১৯৮৪ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তার শিখ দেহরক্ষীদের হাতে নিহত হওয়ার পর দিল্লিসহ সারা দেশজুড়ে তিন হাজারেরও বেশি শিখকে হত্যা করা হয়েছিল - আর তাতে এই প্রথম অভিযুক্ত কোন বড় মাপের নেতার সাজা হল।
দাঙ্গাপীড়িত বিভিন্ন শিখ পরিবারের সদস্যরা বলছেন, প্রায় তিন যুগ পরে হলেও ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের যে অবশেষে সাজা হচ্ছে এটাই তাদের একমাত্র সান্ত্বনা।
১৯৮৪ সালের ৩১শে অক্টোবর ইন্দিরা গান্ধী নিহত হওয়ার মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই দিল্লি জুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছিল শিখ-বিরোধী তান্ডব।

ছবির উৎস, Langevin Jacques
আর তাতে সিনিয়র কংগ্রেস নেতারা বিভিন্ন মহলায় দাঁড়িয়ে থেকে হত্যাকাণ্ড ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ।
জাঠ সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী নেতা বলে পরিচিত সজ্জন কুমার সে সময় ছিলেন রাজধানীর একজন শাসক-দলীয় এমপি।
আর আজ যে মামলায় তার সাজা হল তাতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে পাঁচ সদস্যের এক শিখ পরিবারকে জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তদারকি করেছিলেন।
নিহতের কন্যা নিরপ্রীত কাউর আদালতে সজ্জন কুমারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তিনি বলছিলেন, "নিজের বাবাকে যেভাবে আমি জীবন্ত অবস্থায় আগুনে জ্বলতে দেখেছি তারপর কোন ভয়-ভীতিই আমাকে দমাতে পারেনি।"

ছবির উৎস, Mail Today
"মরে গেলেও আমি বিচার নিয়েই মরব, এটাই ছিল আমার জেদ।"
সজ্জন কুমার এর আগে এই মামলায় নিম্ন আদালতে রেহাই পেয়ে গিয়েছিলেন - দাঙ্গার কুড়ি বছর বাদে ২০০৪ সালে পার্লামেন্টে এমপি হিসেবে নিয়ে এসে তাকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনও করেছিল কংগ্রেস।
অকালি দলের নেত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরসিমরত কাউর সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, "শিখ দাঙ্গার প্রত্যক্ষদর্শীরা যখন তাদের বয়ান পুলিশের কাছে লিপিবদ্ধ করতে গেছেন তখন পুলিশের সাহায্য নিয়ে জগদীশ টাইটলার, সজ্জন কুমারের মতো নেতারা তাদের ভয় দেখিয়েছেন, হুমকি দিয়েছেন।"
"আর আজ আদালতও তাদের ঐতিহাসিক রায়ে বলেছে, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই এই অপরাধীরা এতদিন বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াতে পেরেছে।"

ছবির উৎস, Bettmann
দিল্লির ত্রিলোকপুরী, পাঞ্জাবিপুরা, প্রীতমপুরার মতো বিভিন্ন শিখ-অধ্যুষিত মহল্লায় আজ এত বছর পরে কিছুটা সান্ত্বনার পরশ মিলেছে।
বৃদ্ধারা সেখানে বর্ণনা করেছেন কীভাবে সেদিনের কংগ্রেস সরকার নারী-শিশু-পুরুষ-বৃদ্ধ নির্বিশেষে হত্যালীলা চালিয়েছিল।
প্রবীণরা আবার বলছিলেন, "সেদিন কোন দাঙ্গাই বাঁধেনি - আসলে খোলাখুলি দাঙ্গা করানো হয়েছিল, পুলিশ-প্রশাসন কেউ আমাদের বাঁচাতে আসেনি।"
আজকের রায়ের পর এর রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টায় দেরি করেনি বিজেপিও।

ছবির উৎস, The India Today Group
অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি ১৯৮৪কে দেশের ইতিহাসে 'সবচেয়ে বড় গণহত্যা' বলে দাবি করে বলেছেন, "গত সাড়ে তিন দশক ধরে এই হত্যাকারীদের আড়াল করতে কংগ্রেস কম চেষ্টা করেনি।"
"কিন্তু মোদী সরকারের আমলে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলের তৎপরতাতেই ন্যায় বিচার এসেছে।"
তবে সজ্জন কুমারের যাবজ্জীবন সাজার রায় এই দাঙ্গার বিচারে 'ক্লোজার' এনে দেবে- অতটা এখনই কেউ মনে করছেন না।








