কেন মোবাইল কোম্পানি হুয়াওয়ে'র বিরুদ্ধে আপত্তি অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড সরকারের?

ছবির উৎস, Getty Images
জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সর্বশেষ দেশ হিসাবে নিউজিল্যান্ড চীনের মোবাইল প্রযুক্তি কোম্পানি হুয়াওয়ে থেকে সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে।
ফাইভ জি নেটওয়ার্কে ব্যবহারের জন্য নিউজিল্যান্ডের একটি কোম্পানি হুয়াওয় থেকে সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু দেশটির সরকার বলছে, এই চুক্তির ফলে বড় ধরণের ঝুঁকির তৈরি হতে পারে।
কিন্তু এর আগে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশের আপত্তির মুখে পড়েছে কোম্পানিটি।
কিন্তু কেন এই ভীতি?
এসব দেশ চীনের এই প্রযুক্তি কোম্পানি নিয়ে উদ্বিগ্ন, কারণ তারা মনে করে, বেইজিং হুয়াওয়ের মতো কোম্পানিকে শিল্পখাতের বা অন্যান্য ক্ষেত্রের গোপনীয় তথ্য সংগ্রহে বাধ্য করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের গুপ্তচরবৃত্তির ব্যাপারে ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে বিদেশী সরকারগুলো।
আরো পড়ুন:
অস্ট্রেলিয়ার স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইন্সটিটিউটের ইন্টারন্যাশনাল সাইবার পলিসি সেন্টারের গবেষক টম উরেন বলছেন, ''তথ্য চুরির ব্যাপারে চীনের সরকারের চেষ্টার ব্যাপারটি অনেকদিন ধরেই পরিষ্কার হয়ে গেছে।''
''অনেক সাইবার বা বুদ্ধিবৃত্তিক তথ্য চুরির ঘটনার সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রযন্ত্র জড়িয়েছিল,'' তিনি বলছেন।
মি. উরেন বলছেন, চীনের সরকার আর দেশটির অনেক কোম্পানির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে এই সন্দেহ আরো বেড়েছে যে, তাদের গুপ্তচরবৃত্তিতে সরকার সমর্থিত এসব কোম্পানি সহায়তা করে থাকতে পারে।
সেই সন্দেহ আরো মারাত্মক হয়েছে যখন চীনে নতুন একটি আইন জারি করা হয়েছে, যার ফলে চীনের সংস্থাগুলো দেশটির গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করতে বাধ্য।
ফলে এই নতুন আইন আর গুপ্তচরবৃত্তির ইতিহাসের কারণে জাতীয় অবকাঠামোয় হুয়াওয়ে আর জেডটিই কোম্পানির প্রযু্ক্তি ব্যবহারে অনেক দেশের জন্য বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে।
''তারা আসলে বাড়তি কোন ঝুঁকি তৈরি করছে না, সেটা জোর দিয়ে বলা কঠিন,'' বলছেন মি.উরেন।
কিন্তু এখন কেন?

ছবির উৎস, Reuters
অনেকগুলো দেশে ফাইভ জি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ মোবাইল যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বিশ্বে টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় হুয়াওয়ে। তাই নিউজিল্যান্ডের টেলিকম কোম্পানি স্পার্ক নিউজিল্যান্ড তাদের প্রস্তাবিত ফাইভ জি নেটওয়ার্কের জন্য হুয়াওয়ের সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রস্তাব করেছিল।
বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:
কিন্তু বিদেশী সরকারগুলোর কাছ থেকে বাধার মুখে পড়ছে কোম্পানিটি। তাতের উদ্বেগ, এটি হয়তো গুপ্তচরবৃত্তির জন্য একটি পেছন দরজা খুলে দিতে পারে।
নিউজিল্যান্ডের সরকারি কমিউনিকেশন সিকিউরিটি ব্যুরোর (জিসিএসবি) প্রধান স্পার্ককে বলেছেন, ''তাদের প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হলে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তায় বড় ধরণের ঝুঁকির তৈরি হতে পারে।''
হুয়াওয়ে বলেছে, ''যেহেতু জিসিএসবি বলেছে যে, এটি একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া। যেকোনো উদ্বেগ সমাধান করার আমরা চেষ্টা করবো এবং সামনে এগিয়ে যেতে একত্রে কাজ করবো।
অন্য দেশগুলো কি এ নিয়ে উদ্বিগ্ন?
এর আগে জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ফাইভ জি নেটওয়ার্কে হুয়াওয়ে এবং জেডটিই-র সরঞ্জাম ব্যবহারের একটি প্রস্তাব বাতিল করে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের ওই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে হুয়াওয়ে বলেছে, ''তারা ভুল তথ্য পেয়েছে, বাস্তবের সঙ্গে যার কোন ভিত্তি নেই।''
নিজেদের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে কোম্পানিটি বলছে, তারা একটি প্রাইভেট কোম্পানি, অন্য শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে যার মালিক এর কর্মীরা। পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা কেন্দ্র গঠনের প্রস্তাব দিয়ে কোম্পানি বলছে, তাদের ফাইভ জি নেটওয়ার্ক অস্ট্রেলিয়ান এজেন্সিগুলো যাচাই করে দেখতে পারে।

ছবির উৎস, Getty Images
গত সপ্তাহে ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল একটি প্রতিবেদনে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ওয়্যারলেস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে যাতে তারা হুয়াওয়ের সরঞ্জাম ব্যবহার না করে।
গত জুলাই মাসে যুক্তরাজ্যের একটি গোপন কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুয়াওয়ের টেলিকম প্রযুক্তি দেশটির নিরাপত্তার জন্য কোন ঝুঁকি তৈরি করছে না, এ বিষয়ে সামান্যই নিশ্চয়তা দেয়া যেতে পারে।
তবে একটি দেশ হুয়াওয়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। সেই দেশটি, পাপুয়া নিউগিনি বলেছে, তাদের দেশের ইন্টারনেট অবকাঠামো তৈরির জন্য তারা হুয়াওয়ের সঙ্গে চুক্তি মাফিক এগিয়ে যাবে।
গত একদশক ধরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এই দেশটি চীন থেকে বড় ধরণের বিনিয়োগ পেয়ে আসছে।








