মঙ্গলগ্রহে পাঠানো যেসব যান ব্যর্থ হয়েছে

ছবির উৎস, PA
আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা মঙ্গলগ্রহে নতুন একটি রোবটিক প্রোব বা অনুসন্ধানকারী যন্ত্র পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। নতুন এই প্রোবটির নাম 'ইনসাইট।'
১৯৬০ সালের প্রথম অভিযানের পর থেকে এই গ্রহে পাঠানো প্রোবের সিংহভাগই অকার্যকর হয়েছে; ধ্বংস হয়েছে শেষ সাতটি প্রোবের তিনটি।
কিন্তু মঙ্গল অভিযানে যাওয়া অধিকাংশ প্রোব কেন মঙ্গল পৃষ্ঠে নামতে সফল হয় না?

ছবির উৎস, PA
শিয়াপারেলি
২০১৬ সালের ১৬ই অক্টোবর প্যারাসুট এবং থ্রাস্টারের মিশ্রণে অপেক্ষাকৃত জটিল প্রযুক্তি ব্যবহার করে মঙ্গলপৃষ্ঠে একটি প্রোব অবতরণ করানোর চেষ্টা করে ইউরোপিয়ান মহাকাশ সংস্থা।
তবে তাদের পরিকল্পনা কার্যকর হয়নি।
২৫০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে তৈরি করা নভোযানটি ৫০ কোটি কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করার পর প্যারাসুট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ঘন্টায় ৫৪০ কিলোমিটার গতিবেগে মঙ্গলপৃষ্ঠে পতিত হয় শিয়াপারেলি।

ছবির উৎস, EPA
ফোবোস-গ্রান্ট
শিয়াপারেলি অকার্যকর হলেও সেটি মঙ্গল গ্রহ পর্যন্ত পৌছাতে সক্ষম হয়েছিল।
কিন্তু রাশিয়ার ফোবোস-গ্রান্ট শিয়াপারেলির ধারেকাছের দূরত্বও অতিক্রম করতে পারেনি।
এই মিশনটি একটু বেশি উচ্চাভিলাষী ছিল - মঙ্গলের একটি চাঁদে অবতরণ, সেখান থেকে পাথরের নমুনা সংগ্রহ এবং পৃথিবীতে ফেরত আসা ছিল এই প্রকল্পটির উদ্দেশ্য।

ছবির উৎস, AFP
এটি সফল হলে পৃথিবীর চাঁদ ছাড়া মহাকাশের অন্য যে কোনো অংশের পাথরের নমুনা পাওয়ার ঘটনা ঘটতো প্রথমবারের মতো।
কিন্তু সৌরজগতে কয়েকশো কোটি কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়া তো দূরের কথা, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৩৪৫ কিলোমিটার উচ্চতায় ওঠার পরই ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় ফোবোস-গ্রান্টের।
২০১১ সালের ৮ই নভেম্বরে উৎক্ষেপণের পরপরই যান্ত্রিক গোলযোগ হয় প্রোবটিতে।
প্রোবের সাথে থাকা রকেট বিস্ফোরণের মাধ্যমে পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা ছিল; ঐ রকেট বিস্ফোরিত হয়নি, ফলে প্রোবটি পৃথিবীর কক্ষপথই ছাড়াতে পারেনি।
উৎক্ষেপণের দুই মাস পর ভূপাতিত হয় ফোবোস গ্রান্ট; বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় পুড়েও যায় নভোযানটি।

ছবির উৎস, AFP
বিগল ২
ফোবেস-গ্রান্ট এবং শিয়াপারেলি যা করতে পারেনি, বৃটিশ অবতরণকারী বিগল ২ তা করতে পেরেছিল; ২৫শে ডিসেম্বর ২০০৩ সালে। এটি মঙ্গল গ্রহ পর্যন্ত পৌঁছায় এবং সফলভাবে মঙ্গলপৃষ্ঠে অবতরণও করে।
এবং তখন থেকেই শুরু হয় বিপত্তি।
বিগল ২ কখনো পৃথিবীতে কোনো বার্তা পাঠায়নি এবং এর ভাগ্যে আসলে কী ঘটেছে, তা বহুবছর রহস্যাবৃত ছিল।
২০১৫ সালে নাসার মার্স রিকনাইসান্স অরবিটার (যেটি শিয়াপারেলি'র ধ্বংসাবশেষেরও ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছিল) বিগল ২ এর ছবি তোলে।
ছবি থেকে ধারণা করা হয় বিগল ২ এর একটি সোলার প্যানেল ঠিকভাবে উন্মুক্ত হয়নি, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ একটি রেডিও অ্যান্টেনার (যার মাধ্যমে পৃথিবীতে বার্তা পাঠানোর কথা ছিল) কার্যক্রম বাধাপ্রাপ্ত হয়।

ছবির উৎস, Getty Images
তবে এই নভোযানের অসফলতার মধ্যেও একটা অপ্রত্যাশিত অর্জন ছিল - হলিউডের একটি সিনেমায় সুযোগ পেয়ে যায় বিগল ২।
২০০৭ সালের জনপ্রিয় সিনেমা 'ট্রান্সফর্মার্স' এ দেখানো হয় যে বিগল ২ মঙ্গলগ্রহে সফলভাবে অবতরণ করে, আর তার প্রায় সাথে সাথেই একটি ডিসেপ্টিকন (মানব বিদ্বেষী এক জাতীয় কাল্পনিক রোবট) সেটিকে ধ্বংস করে।








