যুক্তরাষ্ট্রে যে বিচারকের অসুস্থতা এত ভাবিয়ে তুলছে সবাইকে

রুথ বেডার গিন্সবার্গ উদারপন্থীদের মধ্যে জনপ্রিয়।

ছবির উৎস, Alex Wong

ছবির ক্যাপশান, রুথ বেডার গিন্সবার্গ উদারপন্থীদের মধ্যে জনপ্রিয়।

গত বুধবার মার্কিন বিচারক গিন্সবার্গ তার কার্যালয়ে পড়ে গিয়েছিলেন।

এতে তার পাঁজরের তিনটি হাড় ভেঙে গিয়েছে। এই খবরে পুরো মার্কিন মুল্লুক জুড়ে একটি অংশ ব্যাপক উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলো।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এই নারী বিচারকের আরোগ্য কামনা করতে লাগলেন মানুষজন।

তৈরি হল হ্যাশট্যাগ "#RuthBaderGinsburg" । একজন লিখেছিলেন, "খবরদার আপনি মারা যাবেন না। আপনাকে আমাদের খুবই প্রয়োজন"

লরেন ডুকা নামের একজন কলামিস্ট লিখেছেন, "আমি রুথ বেডার গিন্সবার্গকে আমার সবগুলো পাঁজরের হাড় আর শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করবো"

গিন্সবার্গকে শুক্রবার হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হলেও উদ্বেগ কমেনি।

আরো পড়ুন:

টক শো হোস্ট জিমি কিমেল তার অনুষ্ঠানে এই বিচারক সম্পর্কে বলেছেন, "যে কোন মূল্যেই হোক ৮৫ বয়সী এই বিচারকের নিরাপত্তা দিতে হবে।"

হ্যালোউইনে যেমন খুশি তেমন সাজো উৎসবের থিম হিসেবে প্রচুর শিশুকে বাবা মায়েরা গিন্সবার্গের বিখ্যাত চশমার ফ্রেমটি পরিয়ে, হাতে বিচারকের একটা হাতুড়ি ধরিয়ে দিয়ে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন।

এমনকি তার আদলে তৈরি পুতুল পর্যন্ত রয়েছে।

Skip X post
X কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

End of X post

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ রুথ বেডার গিন্সবার্গ?

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে সবচেয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিচারকার্য পরিচালনা করছেন বিচারক রুথ বেডার গিন্সবার্গ।

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে দ্বিতীয় নারী বিচারক তিনি। কিন্তু তার জন্য এত শুভকামনার পেছনে রয়েছে অনেক রাজনীতির মারপ্যাচ।

তার গুরুত্ব সে কারণেই। বিচারক গিন্সবার্গ যুক্তরাষ্ট্রে উদারপন্থীদের মধ্যে খুব জনপ্রিয়।

পাঁজরের হাড় ভাঙার আগে তিনি দু'বার ক্যান্সারের সাথে লড়েছেন। তার হার্টে রিং পরানো রয়েছে।

কিন্তু এতকিছুর পরও তিনি জীবনে কোনদিন আদালতে যুক্তিতর্কের দিন অনুপস্থিত থাকেন নি।

এবারের হ্যালোউইনে অনেকে তাদের শিশুদের সাজিয়েছেন রুথ বেডার গিন্সবার্গের মতো করে।
ছবির ক্যাপশান, এবারের হ্যালোউইনে অনেকে তাদের শিশুদের সাজিয়েছেন রুথ বেডার গিন্সবার্গের মতো করে।

তার জীবন নিয়ে সম্প্রতি একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়েছে। তাকে নিয়ে এর আগে তৈরি হয়েছে তথ্যচিত্র।

লেখা হয়েছে বই যা প্রকাশিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে 'বেষ্ট সেলার' হয়েছিলো।

কিন্তু বিচারক গিন্সবার্গ যদি অবসরে যান অথবা মারা যান তাহলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পছন্দের তৃতীয় বিচারক নিয়োগ দিতে পারবেন।

তিনি ইতিমধ্যেই দুজনকে নিয়োগ দিয়েছেন। যাদের একজন ব্রেট ক্যাভানা'র বিরুদ্ধে অন্তত তিনজন নারী যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন।

ব্যাপক বিতর্কের মাঝেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হয়েছেন ব্রেট ক্যাভানা।

বিচারক গিন্সবার্গের মৃত্যু অথবা অবসর মানে ট্রাম্প তৃতীয় যাকে নিয়োগ দেবেন তাতে পুরো সুপ্রিম কোর্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যাবে রক্ষণশীলরা।

আর তাতে উদারপন্থীরা মুশকিলে পরবে।

১৯৯৩ সালে সুপ্রিম কোর্টে তাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।

ছবির উৎস, MARK REINSTEIN

ছবির ক্যাপশান, ১৯৯৩ সালে সুপ্রিম কোর্টে তাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।

বিচারক গিন্সবার্গ যুক্তরাষ্ট্রের বহু গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত মামলায় বিচারক ছিলেন।

যেমন ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে সেনাবাহিনীর ইন্সটিটিউটে শুধু পুরুষদের নিয়োগ দেয়ার নিতি বদলে তার ভূমিকা ছিল।

নৌবাহিনী থেকে একজন নাবিককে সমকামী হওয়ার কারণে বরখাস্ত করা হয়েছিলো সেই অভিযোগে শুনানি করেছিলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে বিচারকরা রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করেন না।

কিন্তু বিচারক গিন্সবার্গ ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচিত হয়েছিলেন।

ট্রাম্প যখন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হয়েছিলেন তখন তিনি মন্তব্য করেছিলেনে যে ট্রাম্প একজন 'ভুয়া ব্যক্তি' এবং তিনি ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে কল্পনাও করতে পারছেন না।

পরে অবশ্য এই মন্তব্যের জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।

কিন্তু যুক্তরাজ্যে চলমান বিভাজন আর উদারপন্থী বনাম রক্ষণশীলদের বিবাদে সুপ্রিম কোর্টে একজনও উদারপন্থী বিচারক না থাকাটা অনেকের জন্য উদ্বেগের।

সেখানে অন্তত একজন ট্রাম্প বিরোধী বিচারকের প্রয়োজন অনুভব করনে অনেকে।

কে এই রুথ বেডার গিন্সবার্গ?

১৯৩৩ সালে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে তার জন্ম। একজন ইহুদি অভিবাসীর মেয়ে তিনি।

এমনকি তার আদলে তৈরি পুতুল পর্যন্ত রয়েছে।
ছবির ক্যাপশান, এমনকি তার আদলে তৈরি পুতুল পর্যন্ত রয়েছে।

১৭ বছর বয়সে মাকে হারিয়েছেন ক্যান্সারে। ১৯৫৪ সালে কর্নওয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন করেন।

এরপরই বিয়ে করেন এবং গর্ভবতী হন। গর্ভবতী হওয়ার কারণে তাকে চাকুরী থেকে পদাবনতি দেয়া হয়েছিলো।

এ কারণে দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের বিষয়টি লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

১৯৫৬ সালে হার্ভাড ল স্কুলে যে নয়জন নারী ভর্তি হয়েছিলেন রুথ গিন্সবার্গ তাদের একজন।

সেখানে বিভাগের ডিন তাদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, কেন তারা একজন পুরুষের যায়গা নিয়ে নিচ্ছেন তার যুক্তি জানতে চেয়েছিলেন।

এরপর বদলি হয়ে কলাম্বিয়া ল স্কুলে চলে আসেন গিন্সবার্গ।

ক্লাসের সবচাইতে সেরা শিক্ষার্থী হওয়া সত্বেও চাকরী খুঁজতে বেগ পেতে হয়েছে তাকে।

তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, "নিউ ইয়র্কের একটা ল ফার্মও আমাকে কাজ দিচ্ছিল না। তিনটি কারণে আমি আটকে যাচ্ছিলাম, আমি ইহুদি, আমি নারী এবং আমি একজন মা।"

অন্যান্য খবর: